খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ওয়ার্ডে নার্স ইনচার্জরা ও বহির্বিভাগে ফ্রি সার্ভিস কর্মীরা মূল হোতা

সরকারি হাসপাতালে সিন্ডিকেট আবারো সক্রিয় নিত্য নতুন কৌশলে পাচার হচ্ছে ওষুধ

বি. হোসেন | প্রকাশিত ২৫ মার্চ, ২০১৮ ০২:১০:০০

বার বার ওষুধ চুরির সাথে জড়িতরাও হাতে নাতে ধরা পড়লেও দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তি না হওয়ায় খুলনার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চোর সিন্ডিকেটদের অপতৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না। খুমেক হাসপাতালে সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে অভিযান হলেও কৌশল পাল্টে আবারও সক্রিয় ওষুধ চোর সিন্ডিকেট। আবু নাসের হাসপাতালের ফার্মেসীতে ১২ লাখ টাকার ওষুধ চুরি হলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় অভিযুক্ত চার ফার্মাসিস্টই রয়েছে বহাল তবিয়তে। সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগেও শর্ট স্লিপে ওষুধ চুরি সাথে জড়িত  কতিপয় নার্স ও কর্মচারীরা রয়েছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, গত সপ্তাহে ভ্যানিটি ব্যাগে সরকারি ওষুধ পাচারের সময় খুমেক হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ইনচার্জ রীনা রানী দাস ধরা পড়েন সুপারের হাতে। এ সময় ব্যাগ থেকে কয়েক হাজার টাকার ওষুধ জব্দ করা হয়। গত বুধবার এই ইনচার্জকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। 
এর আগে লেবার ওয়ার্ডের আয়ার কাছ থেকে একইভাবে ওষুধ জব্দ করা হয়। এদিকে ওয়ার্ডের ভিতরে ওষুধ চুরিতে কৌশল পাল্টেছে নার্স ও কর্মচারীরা। ওষুধ নেই বলে রোগীদেরকে বাইরে থেকে ওষুধ এনে দিতে বলেন সংশ্লিষ্টরা। আবার সরকারি ওষুধই ব্যবহারের পর কৌশলে রোগীদের ক্রয়কৃত ওষুধ একত্রিত করে বিক্রি করা হয় বাইরের ফার্মেসীতে। চলতি সপ্তাহে মেডিসিন ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত  নার্স ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে এ নিয়ে বাক বিতন্ডতায় বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র স্টাফ নার্স বিষয়টি স্বীকার করেন। ওয়ার্ডের যাবতীয় ওষুধ চুরিতে কতিপয় ইনচার্জ নেতৃত্ব রয়েছেন বলেও জানান ওই নার্স। এছাড়া বহির্বিভাগে ফ্রি সার্ভিস কর্মীরা শর্ট শ্লিপের মাধ্যমে এন্টিবায়েটিক ওষুধ নিয়ে যায় এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। 
অন্যদিকে আবু নাসের হাসপাতালে ওষুধ চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত চার ফার্মাসিস্টই এখন বহাল তবিয়তে। মাধবিলতা ও গৌতম পূর্ণভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়মিত ফার্মেসীতে বসছেন দেবপ্রসাদ ও সুধাংশু। তাদের বিরুদ্ধে  বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন তারা। এদিকে গায়েব হওয়া ওষুধ উদ্ধার করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ। 
কার্ডিওলোজি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র এক স্টাফ নার্স জানান, সবাই কম বেশি ওষুধ বাণিজ্যের সাথে জড়িত। যারা টাকা নেয় না তারাও নিজেদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ইচ্ছামত বাড়ি নিয়ে যায়, যার কোন হিসাব থাকে না। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ এ ব্যাপারে সময়ের খবরকে বলেন ‘আমি আসার পর হাসপাতাল থেকে ওষুধ চুরি বন্ধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদিও কেউ কেউ মাঝে মাঝে দুঃসাহস দেখায় তাদের কোন ছাড় দেয়া হয় না। সাথে সাথে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।’ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী সময়ের খবরকে বলেন ওষুধ চুরির বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করণীয় সবকিছুই করা হয়েছে। মহাপরিচালক দপ্তর সিদ্ধান্ত দেয়ার অধিকার রাখে, তাই তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। এছাড়া নতুন করে হাসপাতালে কোন ওষুধ চুরি ঘটনা নেই বলে মনে করেন তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










নগরীতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন 

নগরীতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন 

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৫




ব্রেকিং নিউজ