খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

হাই কোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির  ঘটনায় খুলনায় বিচারকের মামলা 

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৩ মার্চ, ২০১৮ ০২:৪১:০০

হাই কোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির  ঘটনায় খুলনায় বিচারকের মামলা 

হাই কোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির ঘটনায় খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ রেজাউল করিম মামলা দায়ের করেছেন। এ জামিন জালিয়াতির সাথে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে সদর থানায় তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন (নং-৩০)। কলেজ শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলামের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে বিচারক ২১ মার্চ এজাহার দাখিল করেন। 
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, কয়রা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার এজাহার ও চার্জশীটভুক্ত আসামি। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাইকোর্টের একটি জামিন আদেশসহ তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। সেদিনই ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোঃ রেজাউল করিম হাইকোর্টের আদেশ শুনানী অন্তে আসামিকে পরবর্তী ধার্য্য গত ১৩ মার্চ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশ ক্রিমিনাল মিস ২৯৩৯/১৭ জালিয়াতি করা হয়েছে বলে আদালতে প্রমানিত হয়। 
বাদীপক্ষের আইনজীবী এড. মাসুদুর রহমান জানান, হাইকোর্টের জাল জালিয়াতি জামিন আদেশ নামার প্রেক্ষিতে নিম্ন খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দু’মাসের অধিক সময় ধরে জামিনে ছিলেন কলেজ শিক্ষক (আসামি) রবিউল ইসলাম। জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত প্রাথমিকভাবে কয়েক) শ্রেণীর বেশ কয়েকজনের নাম শোনা গেছে। 
গত ১৩ মার্চ ধার্য্য তারিখে আসামি পক্ষ একই আদালতে কলেজ শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলামের স্থায়ী জামিন আবেদন করা হয়। অপর দিকে বাদীপক্ষ হাইকোর্টের ওই জামিন আদেশের নকল কপি (জবেদা নকল) দাখিল করেন। এতে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। হাই কোর্টের ক্রিমিনাল মিস ২৯৩৯/১৭নং জামিন আদেশের বলে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি কলেজ শিক্ষক রবিউল ইসলাম অস্থায়ী যে জামিন নিয়েছিলেন। তা জালিয়াতি করে বানানো হয়েছে। আদালতের বিচারক বিষয়টি প্রতিয়মান হয়ে আসামি কয়রা সরকারি মহিলা কলেজের (আইসিটি) বিভাগের সহকারী প্রভাষক মোঃ রবিউল ইসলামকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, লায়লা বেগম নামের একজন বাদী ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারি কয়রা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (খ) ধারায় শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (নং-২৫)। ওই মামলায় তিনি পলাতক থেকে হাই কোর্টের ক্রিমিনাল মিস ২৯৩৯/১৭ নং জামিন আদেশ চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে অস্থায়ী জামিন নেন। পরবর্তীতে হাই কোর্টের ক্রিমিনাল মিস ২৯৩৯/১৭ নম্বরের সূত্র ধরে খোঁজ খবর নেন বাদি পক্ষ। হাই কোর্টে এই নম্বরের তল্লাশীতে সত্যতা সামনে আসে। নম্বরটি সঠিক হলেও এটি রংপুর বিভাগের একটি মামলার ক্রিঃ মিস কেস নম্বর বলে হাই কোর্টের জবেদা নকলে পাওয়া যায়। 
এড. মাসুদুর রহমান জানান, হাই কোর্টের ক্রিমিনাল মিস ২৯৩৯/১৭ নম্বরের আদেশটি রংপুর জেলার শিবপুর থানার বদরগঞ্জ এলাকার আনারুল নামের একজন আসামির জামিন আদেশ। এই চক্রটি ওই আদেশের জাল জালিয়াতি করে খুলনার কয়রা থানার মামলায় কলেজ শিক্ষক রবিউলের জামিন নিয়েছেন। এর সাথে আদালত সংশ্লিষ্ট অনেকেই জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি। 
এ বিষয়ে জেলা বারের বর্তমান সভাপতি ও জেলা পিপি কাজী আবু শাহীন বলেন, এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোন ভাবে যাতে এ চক্র পার পেয়ে না যায় সে দিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে আহ্বান জানান তিনি। 
খুলনার বারের সাবেক সভাপতি এড. এম এম মুজিবর রহমান বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ জাল-জালিয়াতির ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। এদের প্রতিহত করে আইনের আওতায় না আনলে বিচার প্রার্থীরাসহ বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ