খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত

ফিরেছে সর্বশেষ তিন জনের মরদেহ আলিফের জানাজা রূপসায় জুমাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৩ মার্চ, ২০১৮ ০১:৩৬:০০

নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তে নিহত আলিফুজ্জামানের নামাজে জানাজা আজ জুম্মাবাদ রূপসার আইচগাতীর বেলফুলিয়া স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। তারপর সেনের বাজার কবরস্থানে দাফন করা  হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নেপালে ওই উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত মোহাম্মদ আলিফুজ্জামান, পিয়াস রায়, নজরুল ইসলাম এ তিনজনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহত আলিফুজ্জামানের বড় ভাই মোঃ আশিকুর রহমান হামীম বলেন, বিমানবন্দর থেকে বিকেল সাড়ে ৫টায় বের হয়ে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে মাগরিববাদ ২য় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর সেখান থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি; রাত ৩টার মধ্যে খুলনায় পৌঁছাবো। জুম্মাবাদ বেলফুলিয়া স্কুল মাঠে আলিফের তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেনের বাজার কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে। অকাল মৃত্যুতে আলিফুজ্জামানের রুহের মাগফিরাত কামনায় খুলনাবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রূপসার আইচগাতির একটি পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার মোল্লা মোঃ আসাদুজ্জামানের তিন পুত্র সন্তানের দ্বিতীয় আলিফুজ্জামান। পাঁচ বছর আগে সৌদি আবর থেকে ফিরে এসে ঠিকাদারী করতেন। বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি আলিফুজ্জামান মাস্টার্স পরীক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড খুলনা জেলা শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক ছিলেন তিনি। প্রবাস ফেরত আলিফ উজ্জামান ভ্রমণ পিপাসু মানুষ। এবারও নেপাল ভ্রমণের জন্য বেরিয়ে ছিলেন তিনি। গত ১২ মার্চ সকালে বিমানে উঠার পূর্বে যশোর বিমান বন্দরে দাঁড়িয়ে কয়েকটি সেলফি তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন আলিফুজ্জামান। সেখানে তিনি লেখেন “বাই বাই খুলনা, ওয়েলকাম ঢাকা ১২/০৩/২০১৮”। এরপর ঢাকা থেকে ইউএস বিমানে উঠে তার টিকিটটি একজন বন্ধুকে ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেন আলিফ উজ্জামান। টিকিটে দেখা গেছে-আলিফ উজ্জামানের ফাইট নম্বর বিএস ২১১, ইকোনমি ক্লাসিক টিকিট নম্বর ৭৭৯২৪০২০১৩৯৪৯।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মোল্লা আলিফুজ্জামান, নজরুল ইসলাম ও পিয়াস রায়ের মরদেহবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকেই স্বজনদের কফিন বুঝিয়ে দেন বিমানমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস ২১১ ফ্লাইটটি ৭১ জন আরোহী নিয়ে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা ৩৬ বাংলাদেশীর মধ্যে ২৬ জন মারা যান। গত সোমবার ২৩ জনের লাশ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরিচয় শনাক্ত করতে দেরি হওয়ায় বাকি তিনজনের লাশ বৃহস্পতিবার এলো। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার ব্যবস্থাপক তাসমিম আক্তার জানান, ৪টা ১০ মিনিটে কাঠমান্ডু থেকে আসা ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে।
নিহতদের স্বজনদেরকে বিমানবন্দরের ৮নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই একে একে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেরিয়ে আসেন আলিফুজ্জামান, নজরুল ইসলাম ও পিয়াস রায়ের স্বজনরা। নজরুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিল্প ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পিয়াস রায় গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সব লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হয়। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত বিমানমন্ত্রী শাহজাহান কামালকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।
পরে বিমানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি অত্যন্ত শোকাহত। গোটা জাতি আজকে শোকাহত। এত বড় দুর্ঘটনা অতীতে হয়েছে কি না, জানি না। ২০ মার্চ ২৩ জন লাশ গ্রহণ করেছিলাম। আজকে তিনটি লাশ গ্রহণ করলাম। এদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। দুর্ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ঘটনার পরের দিনই নেপাল গিয়ে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর, সামরিক বাহিনীর প্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। এত বড় দুর্ঘটনার জন্য তাদের এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী, সেটা তাদের বলে এসেছি। তারা জানিয়েছেন, ব্ল্যাক বক্সের তথ্য বিশ্লেষণ শেষে ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়া হবে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, তারা নিজ খরচে লাশগুলো স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হবে।
গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ ৭১ আরোহী নিয়ে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগ-মুহূর্তে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। বিমানের ৩৬ বাংলাদেশি আরোহীর মধ্যে আহত হন ১০ জন। গত ১৯ সোমবার ২৩ বাংলাদেশির লাশ দেশে আনা হয়। আহতদের মধ্যে সাতজনকে দেশে আনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া দু’জনকে সিঙ্গাপুরে ও একজনকে ভারতের দিল্লিতে নেয়া হয়েছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ