খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

জুনে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সম্ভাবনা 

মংলা সমুদ্র বন্দরে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানী তেল স্টেশন 

মাহমুদ হাসান, মংলা  | প্রকাশিত ২৩ মার্চ, ২০১৮ ০১:২৪:০০

মংলা সমুদ্র বন্দরে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানী তেল স্টেশন। বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬৭ বছর পর সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ কেন্দ্রে মজুত ও সংরক্ষণ করা হবে সকল প্রকার জ্বালানী তেল। আর এখান থেকে দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজসহ সকল প্রকার নৌযানে সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানও এ সুবিধা পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যিক জাহাজ সমূহের জ্বালানী তেলের সংকট নিয়ে চলমান বিড়ম্বনা দূর হবে। পাশাপাশি দেশের জ্বালানী তেল সংকট মোকাবেলায় এ তেল ডিপো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে বিপিসি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ  সম্পন্ন হয়েছে আর বাকী ১০ ভাগ কাজ চলতি মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী জুনে এ তেল স্টেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও চালু হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও মংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫০ সালে চালনা পোর্ট নামে মংলা সমুদ্র বন্দরের যাত্রার শুরুতেই আমদানি-রপ্তানি বানিজ্য সুবিধার পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ সমূহের জন্য জ্বালানী তেল (বাঙ্কারিং)ব্যবস্থার দাবি ওঠে। শিপিং কোম্পানি, শিপিং এজেন্টসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মহলের এ দাবির মুখে বিপিসি ১৯৯৫ সালে মংলা বন্দরে ২৫ একর জমি বরাদ্দ নেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভূমি বরাদ্দ নেয়ার পর টানা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ প্রেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের একটি সাইনবোর্ড ঝুলে থাকে এখানে। নানা জটিলতায় আটকে পড়ে এ প্রকল্পের কাজ। আর এতে হতাশা দেখা দেয় বন্দর ব্যবহারকারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় আনা হয় প্রকল্পটিকে। অনুমোদন পাওয়ার পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ২০১৩ সালে শুরু করে মংলায় তেল ডিপো স্থাপনের  কাজ। মংলা ওয়েল ইনস্টলেশন নামের এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২শ’ কোটি টাকা। বিপিসি’র তত্ত্বাবধায়নে এ প্রকল্পের অধিনে ১ লাখ মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি ট্যাংক, পাইপ লাইন ও পাম্প হাউজ, ফায়ার ফাইটিংস, অটোগেজিং, সাব স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া  দেশী-বিদেশী জাহাজসহ নৌযান  সমূহে সরাসরি জ্বালানী তেল সরবরাহের জন্য ডলফিন ওয়েল জেটি নির্মাণের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ  ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে আর বাকী ১০ ভাগ কাজ চলতি মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী জুনে এ তেল স্টেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও চালু হবে। এখানে সংরক্ষণ ও মজুত করা হবে কেরোসিন, মবিল, লুব অয়েল, পেট্রোলসহ সকল প্রকার জ্বালানী তেল। 
নির্মাণাধীন এ জ্বালানী তেল ডিপো প্রসঙ্গে মংলা বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল জানান, বিশ্বের সকল বন্দরে রয়েছে বাঙ্কারিং সুবিধা। আর এ সুবিধা না থাকলে যে কোন বন্দর মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। তিনি জানান, বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬৭ বছরেও এখানে জ্বালানী তেলের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এতে মংলা বন্দরে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় মাদার ভ্যাসেল (জাহাজ) কোম্পানি, শিপিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ীকে। জ্বালানী তেলের অভাবে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ এ বন্দরে দিনের পর দিন আটকে থাকার ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া মাদার ভ্যাসেলের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ও খুলনা থেকে জ্বালানী তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে যেমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় তেমনি সময় অপচয়সহ নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। নির্মাণাধীন ডিপোটি বন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী তিনি। মংলা ওয়েল ইনস্টলেশন (বিপিসি) প্রকল্প কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও জ্বালানী তেল সরবরাহ নিশ্চিত হলে মংলা বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন ও কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এ জ্বালানী তেল স্টেশন থেকে দেশের সর্বত্র সকল প্রকার জ্বালানী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। 
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান  কমডোর এ কে এম ফারুক হাসান  জানান, প্রকল্পটি বাস্তায়ন হলে বাণিজ্যিক জাহাজে তেল সরবরাহ নিশ্চিত হবে। দূর হবে দীর্ঘদিনের চলমান ভোগান্তি। তিনি বলেন জ্বালানী তেলের অভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ সমূহকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ সমস্যার সমাধান হবে এবং বিদেশীদের কাছে এ বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে। সকল প্রকার জ্বালানী তেল সরবরাহ নিশ্চিত হলে বন্দরে জাহাজের আগমন বৃদ্ধি ও আমদানি-রপ্তানি পন্যের চাপসহ বাড়বে কাজের গতি। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ