খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

হয়নি এমপিওভুক্ত : অনিশ্চয়তায় শিক্ষক-কর্মচারীরা

প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরেও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি খুলনা গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ

মোহাম্মদ মিলন | প্রকাশিত ২৩ মার্চ, ২০১৮ ০২:০০:০০

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৪ বছরেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি খুলনা অঞ্চলের একমাত্র কর্মমুখি নারী শিক্ষার বিষেশায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলনা গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ। তাছাড়া ক্যাম্পাসেও গড়ে উঠেনি ভৌত অবকাঠামো। আর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি শিক্ষক-কর্মচারীদের। দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারিরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
২০০৪ সালের ১৬ এপ্রিল কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকারী এ কলেজ থেকে প্রতি বছরই এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীনিরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অনার্স ও নার্সিং পড়ারও সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু বিনা বেতনে এখনও চাকরী করছেন এ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা দিন গুনছেন কবে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয় সেই প্রত্যাশায়। 
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ১৬ এপ্রিল খুলনা ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক থেকেই এ কলেজটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভা থেকেই একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়। প্রথমে মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে কলেজের যাত্রা শুরু হয়। পরে বয়রা আবাসিক প্রকল্পের ডি ব্লকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য চিহ্নিত জায়গা থেকে ৩ একর জমি কলেজের অনুকূলে বরাদ্দ দেয় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। আর এর মধ্যদিয়ে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বর কলেজের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। শুরুতে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ভবন, ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে নিচু জমি ভরাট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এসব অর্থ খুলনা জেলা পরিষদ ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুদান নিয়ে করা হয়। সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সহযোগিতা করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। এভাবে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে কলেজটি টিকে থাকলেও নেই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন। কলেজটিতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১০জন শিক্ষক/শিক্ষিকা ও সাতজন কর্মচারী রয়েছেন তবে তারা বিনা বেতনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তাদের দ্রব্যমূল্যের উর্র্ধ্বগতির বাজারে টিকে থাকাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কলেজটিতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী মিলিয়ে ৬০টি আসন রয়েছে। এ কলেজ থেকে গত বছর (২০১৭) পাশের হার ছিল ৭২ শতাংশ। এ কলেজে ভর্তি হয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই তাদের জন্য রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বেশ সুযোগ। কলেজটিতে বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান, গৃহব্যবস্থাপনা, শিশুর বিকাশ, ব্যবহারিক শিল্পকলা, বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকলা বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়। এখানে আইসিটির বিষয় থাকলেও নেই কোন পৃথক কম্পিউটার ল্যাব।    
কলেজের প্রভাষক সামসুন্নাহার বলেন, ২০০৯ সালে অনেক স্বপ্ন নিয়ে কলেজটিতে আসা হয়। স্বপ্ন ছিল কলেজটিতে অনার্স চালু হবে। বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাজের সুযোগ পাব। এমপিওভুক্ত হলে সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। নারীদের শিক্ষার প্রদানের মাধ্যমে কর্মমুখী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যদিও এখান থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে ভালো কাজের সুযোগ পাচ্ছে। চট্টগ্রাম, নড়াইল, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিন্তু শিক্ষকদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি বলেন, আশায় আছি কোন একদিন এমপিওভুক্ত হবে। সেটি খুব শিগগিরই হবে বলে আশাবাদী তিনি।  
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালমা ইয়াসমিন বলেন, ২০০৪ সাল থেকেই কলেজে আছি। অনেক শিক্ষার্থী এখান থেকে উত্তীর্ণ হয়ে চাকুরিও করছেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছরেও কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমপিওভুক্তির পরবর্তী ধাপে এ কলেজটিকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। তিনি বলেন, কলেজটি খুলনা বিভাগের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ নারী শিক্ষার বিশেষায়িত বিদ্যাপীঠ। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোসহ নানা সমস্যা রয়েছে। তিনকক্ষ বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের বিভিন্নস্থানে পলেস্তারা ঝড়ে পড়ছে। জানালা-দরজা মেরামত ও রং করা প্রয়োজন। আর্থিক সংকটের কারণে এসব করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। এমনকি যাতায়াত ভাড়া, প্যানা ও লিফলেটসহ আনুসাঙ্গিক ব্যয় শিক্ষকরা নিজস্ব অর্থায়নেই করছে। শুধুমাত্র হৃদয়ের টানে বিনা বেতনে কাজ করে যাচ্ছে। আর এমপিওভুক্ত হবে এমন প্রত্যাশায় দিনগুণছে। এ প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবিও জানান তিনি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








হার্ডবোর্ড মিলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

হার্ডবোর্ড মিলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

০২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০২:০০






ব্রেকিং নিউজ