খুলনা | মঙ্গলবার | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

‘বাংলাদেশের নয়, উন্নয়ন হয়েছে আ’লীগের’

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণকে ঘিরে চলছে সরকারের বিকৃত তামাশা : বিএনপি

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:১০:০০

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আজকে নাকি একটা উন্নয়নের মিছিল আছে। উন্নয়নের মিছিল-এটা জীবনে শুনেছেন কখনো? বাংলাদেশে এখন উন্নয়নের মিছিল হয়। সরকারের দুর্বলতা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য উন্নয়নের মিছিল করতে হচ্ছে। উন্নয়ন তো আওয়ামী লীগের হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া পরিষদের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করায় বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সরকার যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, এর কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন কার হয়েছে? বাংলাদেশের মানুষ কি এত বোকা হয়ে গেছে? আপনি একটা মিছিল করে উন্নয়নের কথা বলবেন, আর মানুষ এটা গিলবে। সেটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ আছে!
সরকার ও সরকারি দলকে উদ্দেশ্য করে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে রাস্তায় চলার কোনো সুযোগ আছে? বিদ্যুতের দাম সাত গুণ বেড়েছে। গ্যাসের মূল্য তিন-চার গুণ বেড়েছে। চালের দাম এখন ৭০ টাকা। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে গেছে। অথচ তারা উন্নয়নের কথা বলছে। আমীর খসরু বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগের চেয়ে কমে গেছে। দেশে কর্মসংস্থান নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। কোনো বিচার নেই। সেই টাকা পূরণ করা হচ্ছে মানুষের করের টাকা দিয়ে। শেয়ারবাজার লুট হচ্ছে। কোনো বিচার নেই। বিদেশে লক্ষ-কোটি টাকা পাচার করছে। কোনো বিচার নেই। প্রশ্নপত্র প্রতিনিয়ত ফাঁস হচ্ছে। শিক্ষার মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছে। কোনো বিচার নেই। 
এদিকে ক্ষমতাসীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘স্বল্পোন্নত অবস্থান থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি পাওয়ায় সরকারের কর্মসূচি এক বিকৃত তামাশা। ঢাকা শহরের সব রাস্তাঘাট অচল হয়ে গেছে। জনজীবন সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে আছেন সাধারণ মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, উন্নয়নের নামে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে আওয়ামী লীগের যে কোনও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র স্বরবিদ্ধ ও সুশাসন আওয়ামী চাকায় পিষ্ট। এই গণতন্ত্রহীন দেশে লুটপাটের নামে জনগণের টাকা আত্মসাৎকে উন্নয়ন বলছে তারা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপক সমালোচনা করেছেন এই রাজনীতিবিদ। তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় খরচে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করে নৌকায় ভোট চাইছেন। তিনি মনে করেন, সরকারি কর্মচারীদের যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এসব দেখেও না দেখার ভান করে সরকারকে সহায়তা দিচ্ছে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে রিজভীর ভাষ্য, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সম্পন্ন করতে বাধ্য হবেন আপনারা। আপনাদের সব চক্রান্ত ও নীলনকশা জনগণের সম্মিলিত শক্তির অভিযাত্রায় প্রতিহত করা হবে। আমাদের চেয়ারপারসনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কারাবন্দী রেখে বিএনপি বিহীন নির্বাচন করার খায়েশ কখনোই পূরণ করতে পারবেন না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে নির্বাচনই হবে না। রিজভীর দাবিÑখালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাননি। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে তাকে ন্যায্য-বিচার-প্রক্রিয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তার কথায়, বিচার বিভাগকে অবশ্যই সরকারের প্রভাবমুক্ত হতে হবে। আদালত নিরপেক্ষ না থাকলে নাগরিকরা নিজেদের ডিফেন্ড করতে পারবেন না, তখন বিচারের বাণী পরিণত হয় সরকারের বাণীতে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩০







ব্রেকিং নিউজ