খুলনা | সোমবার | ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ভোগান্তিতে নগরবাসী

প্রায় ৫ বছরেও অনুমোদন মেলেনি শেরে বাংলা রোড চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ২১ মার্চ, ২০১৮ ০২:০০:০০

প্রায় ৫ বছরেও অনুমোদন মেলেনি নগরীর শেরে বাংলা রোড চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। প্রকল্পের ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজল এখনও পরিকল্পনা কমিশনে ঝুলে রয়েছে। ফলে নগরীর ব্যস্ততম ওই সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে প্রতিনিয়ত সৃষ্ট জনভোগান্তি কমাতে নেয়া উদ্যোগ তবে আসছে না কাজে। অবশ্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বলছে, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যেই একনেকে অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, নগরীর মধ্যে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ব্যস্থতম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শের-এ বাংলা রোড। খুলনা-সাতীরা, বাগেরহাট, মংলা, কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, দেবহাটা রুটের সকল যাত্রী এ সড়ক দিয়ে শহরে প্রবেশ ও বাইরে যায়। ফলে যাতায়াতে প্রতিদিন অসংখ্য রিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান চলাচলের ভীড়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে গল্লামারী ও জিরোপয়েন্ট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা গড়ে উঠায় শহর সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর ওই সম্প্রসারিত অঞ্চলে বসবাসকারীদেরও প্রতিনিয়ত এ সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে সড়কটির ব্যস্ততা বহু গুণে বেড়ে যাওয়ায় প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ সময়ের ও খুলনাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৬ জুলাই তৎকালীন সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন খুলনা সফর করেন। সফরকালে তিনি নগরীর শের-এ বাংলা রোড সরেজমিনে পরিদর্শন করে গুরুত্ব উপলব্ধি ও গণমানুষের দাবির প্রেেিত ময়লাপোতা থেকে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত ৪.৫৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরনের প্রতিশ্র“তি দেন। প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর একটি প্রকল্পটি গ্রহণ করে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই প্রকল্পের ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজল (ডিপিপি) ঢাকাস্থ সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৩২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। কিন্তু সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের এ  প্রতিশ্র“তির দুই থেকে তিন বছর পর প্রকল্পের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
সূত্রটি জানায়, সর্বশেষ গত বছর ডিসেম্বরে ফের ১৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ডিপিপি গঠন করে ঢাকাস্থ সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। যা সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয় হয়ে পরিকল্পনা কমিশনের রয়েছে। প্রকল্পে রয়েছে ৪ কিলোমিটার সড়ক ২৫.২ মিটার প্রশস্থ করণ, ভূমি অধিগ্রহণ, ডিভাইডার, পথচারীদের হাটার জন্য ফুটপথ ও পয়ঃনিষ্কাষণের জন্য ড্রেন নির্মাণ ইত্যাদি। কিন্তু প্রকল্পের ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজল এবারও পরিকল্পনা কমিশনে ঝুলে রয়েছে। ফলে নগরীর ব্যস্ততম ওই সড়কে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি কমাতে নেয়া ওই উদ্যোগ কাজে আসছে না।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আশরাফ উজ্জামান সময়ের খবরকে জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রকল্পটি অনুমোদন মিলছে না। তবে পদ্মাসেতু চালু হওয়ার আগে শের-এ বাংলা রোড চার লেনে উন্নীতকরণ জরুরী। পদ্মাসেতু হয়ে আসা মানুষ জিরোপয়েন্ট থেকে রূপসা বাইপাস, খুলনা-সাতীরা সড়ক আর শহরে প্রবেশে শের-এ বাংলা রোড ব্যবহার করবে। তাই এ সড়কটি বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ সময়ের এবং খুলনাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পটি দীর্ঘদিনেও অনুমোদন না মিলায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন কায়সার জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের রয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে একনেকে অনুমোদন মিলবে। প্রকল্পটি অনুমোদন মিললে আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে স্বল্প সময়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে, যানজট ও দুর্ঘটনা কমে আসবে, যাতায়াত ঝুঁকিমুক্ত হবে, খরচে ও রাস্তার য়তি কমবে এবং নগরীর শ্রীবৃদ্ধি হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ


সাড়ে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

সাড়ে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:২০