খুলনা | সোমবার | ১৮ জুন ২০১৮ | ৪ আষাঢ় ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

জুতা পরে স্কুলে না যাওয়ায় 

দিঘলিয়ার সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক  বিদ্যালয়ের ৩ শিশু শিক্ষার্থীকে মারপিট

দিঘলিয়া প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:৫২:০০

দিঘলিয়ার সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক  বিদ্যালয়ের ৩ শিশু শিক্ষার্থীকে মারপিট

জুতা পরে স্কুলে না যাওয়ার তুচ্ছ অপরাধে দিঘলিয়ার সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম মহসিন। গত সোমবার স্কুল চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম মৃদুলের অভিভাবকের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক মহসিন। আর ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি আপোষ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার চন্দনিমহল গ্রামের কাইয়ূম শেখের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। অর্থাভাবে তার বাবা স্কুল ড্রেসের জুতা কিনে দিতে না পারায় সে গত সোমবার সাধারণ জুতা পরে স্কুলে যায়। পিটির পর সে ক্লাসে গেলে জুতা না থাকায় শ্রেণী শিক্ষক ইন্দিরা মন্ডল তাকে অফিস কক্ষে পাঠিয়ে দেন। এ সময় সে অফিস কক্ষে গেলে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম মহসিন তাকে লাঠি দিয়ে পেটান। শ্রেণী শিক্ষক ইন্দিরা মন্ডল বলেন, স্কুল ড্রেসের জুতা না পরে ক্লাসে প্রবেশ করায় তিনি তিনজন শিক্ষার্থীকে অফিসে পাঠান। কিন্তু তারপরের ঘটনা তিনি জানেন না। 
শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানায়, ‘স্কুলে জুতা পরে যাইনি তাই সেসহ আরও দু’জনকেও লাঠি দিয়ে জোরে বাড়ি দেন মহসিন স্যার’। এ সময় পড়ে গিয়ে সে পায়ে ব্যথা পায়। সহপাঠীরা তাকে ধরে উঠালেও মহসিন স্যার বিশ্বাস করেননি, উল্টো তাকে অফিসে বসিয়ে রাখা হয়। পরে সে বাড়িতে চলে আসে’। পা ব্যথায় এখন হাঁটতে পারছেনা বলেও জানায় সে। 
মঞ্জুরুলের চাচা মেহেদী হাসান বলেন, আর্থিক সমস্যার কারণে মঞ্জুরুলকে জুতা কিনে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আগামী বৃহস্পতিবার জুতা কিনে দেওয়া হবে বলে তার শ্রেণী শিক্ষককে জানানো হয়। কিন্তু সহকারী প্রধান শিক্ষক মহসিন শিশু বাচ্চাকে লাঠি দিয়ে বেদম পিটিয়েছে। বিষয়টি তিনি প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছেন। মেহেদী জানান, মঞ্জুরুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। কিন্তু সেখান থেকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মহসিন কোন শিক্ষার্থীকে মারধর করেননি বলে দাবি করেন। এমনকি স্কুলে এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি বলে জানান। তবে, বারবার বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে এক পর্যায়ে তিনি বলেন, একজন ছাত্র সিঁড়ি থেকে নামতে গিয়ে পড়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছিল। তিনি তাকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। অপরদিকে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিক্ষক মহসিন প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে রাতে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি আপোষ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 
উল্লেখ্য, এর আগেও লাবনী পাল নামে এক ছাত্রীকেও মারধর করে রক্তাক্ত করেন মহসিন। কিন্তু ওই ঘটনাটিও ধামাপাচা দেন ধূর্ত এই শিক্ষক। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা

আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা

১৫ জুন, ২০১৮ ০১:০০







আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:৪৬



ব্রেকিং নিউজ




আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা

আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা

১৫ জুন, ২০১৮ ০১:০০








আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:৪৬