খুলনা | সোমবার | ২০ অগাস্ট ২০১৮ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ভোগান্তি ও হয়রানির আরেক নাম আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল!

ডাক্তারের এ্যাটেনডেন্টরাই ক্ষমতাবান, পরিপূর্ণ চিকিৎসা ছাড়াই বাড়ি ফেরেন অর্ধেক রোগী

বি. হোসেন | প্রকাশিত ১২ মার্চ, ২০১৮ ০২:০০:০০

রামপাল থেকে হামিদা বেগম (৩৫) চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে। পৌঁছাতেই সকাল সোয়া ১০টা। তখন টিকিট কেটে নির্ধারিত ডাক্তারের সামনে আসতেই বেলা ১১টা। ডাঃ বাপ্পারাজ দত্ত তখন ১২১নং কক্ষে রোগী দেখছিলেন। বাইরে বসা এ্যাটেনডেন্ট হামিদা বেগম টিকিট নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বললেন নির্ধারিত সংখ্যক টিকিট নেয়া হয়েছে আর নেয়া হবে না। এরপর হাজারো অনুরোধ কান্নাকাটিতে মন গলেনি এ্যাটেনডেন্টের। তাই ডাক্তারও দেখাতে পারেননি তিনি। একই সময় একই এ্যাটেনডেন্ট টিকিট নিচ্ছিলেন ডাঃ মিথিলা ইবনে ইসলাম-এর। রামপাল থেকে আসা অপর এক রোগীও হাজারো কান্নাকাটি করে দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকে। 
খোঁজ নিয়ে দেখা গেল মাত্র ১০টি রোগী দেখেই ডাঃ মিথিলা হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। তবে একই ডাক্তারকে স্পেশাল চেম্বারের মাধ্যমে দেখাতে হতদরিদ্র এই দুই মহিলাকেই প্রস্তাব দিলেন এ্যাটেনডেন্ট।
গতকাল রবিবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল আবু নাসেরের বহির্বিভাগে সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে আসে ভোগান্তি আর অনিয়মের নানা চিত্র। টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ বিতরণ পর্যন্ত সর্বত্র হরিলুট। সকাল ৮টায় রোগী দেখার নির্ধারিত সময় হলেও কোন ডাক্তারই ছিলেন না চেম্বারে। সর্বপ্রথম সাড়ে ৯টার দিকে রোগী দেখতে এসেছেন অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডাঃ আব্দুল কাদের। অভিজ্ঞ ডাক্তার হওয়ায় আগে থেকেই ১১১নং কক্ষে ছিল দূর-দূরন্ত থেকে আসা রোগীদের উপচেপড়া ভীড়। আস্তে আস্তে রোগী দেখতে আসেন ১১৭নং কক্ষে ডাঃ আসমা, ১১৫ নম্বর কক্ষে নিউরো সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম, ১১২নং কক্ষে কার্ডিওলোজিস্ট কামরুল হক এবং ডাঃ অলোক কুমার মন্ডল। 
এ সময় এক একজন চিকিৎসকের এ্যাটেনডেন্ট-এর কাছ থেকে শোনা গেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার এক-এক ধরনের নিয়ম। সকাল ৮টার কিছু পরে টিকিট বিক্রি শুরু হলেও শেষ হয়ে যায় দুপুর ১২টার আগে, তবে বেলা ১১টার পর কেউ টিকিট কিনতে গেলে সংশ্লিষ্ট কাউন্টার থেকে পরামর্শ দেয়া হয় এখন টিকিট কেটে কি হবে ডাক্তার দেখাতে পারবেন না। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গেলে আর টিকিট দেয়া হয় না। ১২টা বাজার ১৫ মিনিট আগেই সব গুছিয়ে টিকিট বিক্রির হিসাব নিকাশে ব্যস্ত হয়ে পড়েন টিকিট কাউন্টারের কর্মীরা। দুপুর ১২টা প্রায় সব রুমের সামনেই এ্যাটেনডেন্ট তাদের কাজ শেষ করে ফেলেছেন। তবে ডাঃ কাদের, ডাঃ অলোক কুমার মন্ডল তখনও রোগী দেখছেন। 
দেখা গেল নিয়মের দোহাই দিয়ে রোগীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন এ্যাটেনডেন্ট আসমা। বাগেরহাটের কচুয়া থেকে প্রচন্ড অসুস্থ অবস্থায় কোনমতে ১১টার দিকে খুলনা পৌঁছান ৫০ বছর বয়সী হালিমা। নির্ধারিত ৪০ জন রোগী দেখবে এর বাইরে একটিও রোগী দেখবেন না চিকিৎসক, এমন বক্তব্য দিয়ে ফিরিয়ে দিলেন হালিমাকে। তার কান্নাকাটিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। আশে পাশের মানুষ এ্যাটেনডেন্ট আসমাকে অনুরোধ করলেও কর্ণপাত করেননি তিনি। আর এ্যাটেনডেন্ট-এর চেয়ারে বসেছিল ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা। ডাঃ কাদের-এর কাছে রোগী যাওয়া মাত্র সঙ্গত কারণেই তাকে এক্সরে করিয়ে আনতে বলা হয়। তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে রোগীরা পড়েন নিদারুণ যন্ত্রণায়। হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটিও নষ্ট। রোগীদের কেউ কেউ বাইরে থেকে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে এক্সরে করিয়ে আনতে পারলেও নতুন করে লাইন দিতে দিতে সময় তখন শেষ। তাই পরিপূর্ণ চিকিৎসা না নিয়েই ফিরতে হয়েছে নওয়াপাড়ার জয়নাল ও মোশারফ হোসেন ও খুলনা যাদুঘর-এর কর্মচারী অলোকেশ রায়কে। সবমিলে দুপুর ১টার কিছু পরে হাসপাতালের আউটডোর থেকে দু’জন বাদে সব ডাক্তার চলে গেলেও সর্বত্র রোগীদের হাহাকার। কেউ ডাক্তার দেখিয়েছেন কিন্তু করাতে পারেনি টেস্ট। কেউ টেস্ট বা পরীক্ষা করানোর পর আর ডাক্তার দেখাতে পারেননি। আবার কেউ আসতে দেরি হওয়ায় টিকিট কাটলেও ভাগ্যে জোটেনি ডাক্তারের দর্শন। দক্ষিণ-পশ্চিাঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতালে দূর-দূরন্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরেছেন ক্ষোভ আর হতাশা ও চোখ ভরা অশ্র“ নিয়ে। 
হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী এ ব্যাপারে রাতে মুঠোফোনে সময়ের খবরকে বলেন, বিশেষায়িত হাসপাতাল হওয়ায় রোগীদের চাপের কারণেই অনেক সময় সব রোগী ঠিকমত সেবা পান না। তবে ডাক্তারগণ আন্তরিকভাবেই তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তবে নির্দিষ্ট কোন ডাক্তার বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া বলে আশ্বাস দেন।
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ












পুলিশ যখন শ্রমিক

পুলিশ যখন শ্রমিক

২০ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২


ব্রেকিং নিউজ












পুলিশ যখন শ্রমিক

পুলিশ যখন শ্রমিক

২০ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২