খুলনা | শুক্রবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুলনায়  ঝিমিয়ে পড়েছে নকল ও মানহীন ওষুধ বিরোধী অভিযান! 

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ১০ মার্চ, ২০১৮ ০২:০০:০০

খুলনার নকল ও মানহীন ওষুধ নির্মূলের অভিযান ঝিমিয়ে পড়েছে। চলতি বছরের দুই মাস পার হলেও নগরীতে ওষুধ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এর আগে গত দু’বছরে খুলনায় নকল ও ভেজাল ওষুধ বিরোধী বেশ কিছু অভিযানের পর জনমনে স্বস্তি ফিরে এলেও অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় আবারো ক্রেতা-ভোক্তাদের মাঝে নানা শঙ্কা বিরাজ করছে। আর সাধারণ ভোক্তাসহ বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক সংকটের কারনে প্রশাসনের অধিকাংশ দপ্তর ব্যস্ত থাকায় অভিযান ঝিমিয়ে পড়েছে।  
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ নকল ওষুধ কারখানার মালিক মোঃ হাফিজুর রহমান (৫৫) ও  কেমিস্ট মোঃ ইকবাল (৫২) কে আটক করে। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল আলম ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাফিজুর রহমানকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। একই দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে র‌্যাব ৬’র সহায়তায় নগরীর হেরাজ মার্কেটে নকল ও ভেজাল ওষুধ বিরোধী অভিযানে কয়েকটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ও নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করা হয়। সরকারি, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ এসব ওষুধ বিক্রির সাথে জড়িতদের ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসন নিয়মিত মামলা করে। ২৩ নভেম্বর মার্কেটের ২য় তলার তরফদার ফার্মেসীকে ১৫ হাজার ও নিচতলার হেনা মেডিকেল হলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তারা মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ সেম্পল ওষুধ কেনা-বেচা করছিল। ২১ নভেম্বর হেরাজ মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ভারতের তৈরি যৌন উত্তেজক ওষুধসহ দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ব্রান্ডের নকল ওষুধ জব্দ করা হয়। হেরাজ মার্কেটের ৩য় ও চতুর্থ তলার কয়েকটি গুদামে সিলগালা করে রাখে ভ্রাম্যমাণ আদালত। 
সূত্রমতে, এর আগে ২০১৬ সালের বিভিন্ন সময় নকল ও সাধারণ মানুষের ব্যবহার অনুপযোগী ওষুধ বিরোধী অভিযান ছিল আলোচনায়। বছর জুড়ে জেলা প্রশাসন, ওষুধ প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে খুলনার বড় বড় অসাধু ব্যবসায়ী ধরাশায়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি। এ বছরের ১০ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ ও র‌্যাব-৬ যৌথ অভিযান চালিয়ে খুলনার চর রূপসায় অবস্থিত মেসার্স শাহনেওয়াজ সী ফুড প্রাইভেট লিঃ’র ভিতরে নকল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। এ সময় কারখানাটি থেকে এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস্’র ফ্লুক্লক্স ক্যাপসুল ২ হাজার ৬শ’ পিস, আড়াই লাখ খালি খোসা ও পাউডার, কার্টুন ফ্লুক্লক্স ৫০০ গ্রাম পাঁচ বস্তা, অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালস্’র রেনিডিট ১৫০ গ্রাম ১ বস্তা, ট্যাবলেট কনপ্রেরেট ৪ হাজার পিস, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস্’র ফয়েল ফ্লুক্লক্স ৫০০ গ্রাম আড়াই কেজি,  প্রিন্স ফার্মাসিউটিক্যালস্ এন্ড হার্বাল ইন্ডাস্ট্রিজ’র টেস্টি স্যালাইনসহ ৩ লাখ ৫০ হাজার ক্যাপসুলের খালি খোসা ও বিভিন্ন ওষুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেন। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক কাজী শাহনেওয়াজকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর সিপিসি সদর, র‌্যাব-৬’র ডিএডি মোঃ নাজমুল হুদা বাদী হয়ে ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-গ (১) (গ) ধারায় রূপসা থানায় কাজী শাহ নেওয়াজসহ চার জনের নাম উল্লে¬খ করে অজ্ঞাত ১২/১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত অপর আসামিরা হলেন, ঢাকার ৭৩, শান্তিবাগ মসজিদ রোডের বাসিন্দা মৃত সাইফুল্ল¬াহ’র ছেলে মোঃ জাকির হোসেন (৪৮), খুলনার বাগমারা পূর্ব রূপসা এলাকার মোঃ আনোয়ার হোসেন বেগের ছেলে মোঃ হাবিবুর রহমান (৪৫), সিরাজগঞ্জের মোঃ স্বপন শেখের ছেলে সজিব (৩৫)। এ মামলার প্রধান আসামি শিল্পপতি কাজী শাহনেওয়াজ (৬৮) একই বছরের ৬ নভেম্বর খুলনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। মামলাটি তদন্তের জন্য রূপসা থানা পুলিশের কাছ থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। পরে  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলাটি সিআইডি থেকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে র‌্যাব-৬’র স্পট কমান্ডার এএসপি বজলুর রশিদ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।  
২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর নগরীর হেরাজ মার্কেটের ২য় তলায় মোঃ বাহারের মালিকানাধীন মেসার্স আলামিন ড্রাগ হাউজ থেকে অন্তত আড়াই লাখ টাকা মূল্যের বিক্রয় নিষিদ্ধ সরকারি ও ভারতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়। খুলনা’র তৎকালীন ড্রাগ সুপার মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান চলে। এর আগে ১২ অক্টোবর সোনাডাঙ্গা ডেল্টা মেডিকেল হলে অভিযান চালিয়ে রেজিস্ট্রেশন বিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ ও প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ মোল্ল¬া নাসির উদ্দিনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ১৭ অক্টোবর হেরাজ মার্কেটে ‘এসকেএফ কোম্পানির প্রটিনেক্স আলট্রা ৫/১০’র নকল স্যালাইন উদ্ধার করা হয়। গর্ভবতি মা, বার্ণ রোগীসহ মুমূর্ষু রোগিদের শরীরে ব্যবহার হওয়া এ স্যালাইটি নিয়ে সে সময় খোদ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ জানান। ১৩ অক্টোবর র‌্যাবের অভিযানে দৌলতপুরের বলাকা ফার্মেসী থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ফিজিসিয়ান স্যাম্পল জব্দ করার পর মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।  প্রশাসনের একের পর এক নিয়মিত অভিযানে নাস্তানাবুদ হয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদে প্রায় ৫ ঘন্টা যাবৎ খুলনার সকল ওষুধের দোকান বন্ধ রাখেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর পুনরায় দোকান খোলেন তারা। অবশ্য সে সময় ওষুধ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দাবি করেছিলেন তারা ভয়ে দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। 
জানা গেছে, ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ২৪৪তম সভায় রেনাটা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, অপসোনিন, বেক্সিমকো, দ্যা ইবনে সিনাসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির উৎপাদিত ৫১ প্রকার ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরও এসব ওষুধ খুলনার বাজারগুলোতে কেনা-বেচা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ওষুধ প্রশাসনের নিরব ভূমিকার কারনে কিছু সুবিধাভোগী নিষিদ্ধ এসব ওষুধ এখনো বাজারজাত করছে বলে জানা গেছে। অথচ এসব ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে  নিয়মিত অভিযান না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই আতঙ্ক ফের জেগে উঠেছে। খুলনা মহানগরীর একাধিক বাসিন্দার সাথে আলাপকালে তারা বলেন, এসকল ভেজাল ও নকল ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান দরকার। কেননা তারা ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতে যে জরিমানার টাকা জরিমানা দিয়েছেন সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেক কিছু করতে পারে। যারা কিনা জেনে শুনে সাধারণ মানুষকে নকল ওষুধ খাওয়ায় তারা শুধু খুনি নয় “সিরিয়াল কিলার”। 
খুলনা জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক (ড্রাগ সুপার) আব্দুর রশিদ বলেন, খুলনার বাজারে নকল ও মানহীন ওষুধ বিরোধী অভিযান আরো জোরদার করা হবে। এ ধরনের ওষুধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ নিয়মিত মামলার পরিকল্পনা রয়েছে।  
র‌্যাব-৬’র স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, নকল ও ভেজাল ওষুধ কারবারিদের ওপরে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। তথ্য পেলেই অভিযান হবে বলে তিনি জানান।  
খুলনার জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান বলেন,  জেলা প্রশাসন বছরের সব সময় নিয়মিত সিডিউল মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে থাকে। চলতি বছরেও ওষুধের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান তিনি। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা 

আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা 

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৮

কেসিসিতে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

কেসিসিতে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৭









ব্রেকিং নিউজ




আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা 

আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা 

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৮

কেসিসিতে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

কেসিসিতে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৭





খুলনায় সেঞ্চুরিতে নজর কাড়লেন সোহান

খুলনায় সেঞ্চুরিতে নজর কাড়লেন সোহান

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫০


অভিষেকেই আবু হায়দার রনির চমক

অভিষেকেই আবু হায়দার রনির চমক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৫