খুলনা | শনিবার | ১৮ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

আগামী সেশনে ভর্তি শুরু নিয়ে সংশয়

রিটেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঝুঁলে রয়েছে খুলনা নার্সিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম

বি. হোসেন | প্রকাশিত ০৮ মার্চ, ২০১৮ ০১:০০:০০

রিটেন্ডার প্রক্রিয়া ঝ্ুঁলে থাকায় খুলনা নার্সিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আগামী সেশনেও চালু হওয়া নিয়ে সংশয় কাটছে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার দাবি করলেও সরেজমিনে তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপরন্তু সম্প্রতি জানালার এঙ্গেল (লোহার রড) চুরি হওয়ায় ভুতরে পরিস্থিতি বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে। এদিকে কলেজের আনা মালামাল নিরাপত্তায় রয়েছে নার্সিং ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তা প্রহরীরা। বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় রাতে পুরো ক্যাম্পাসে উঠতি বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নার্সিং পেশায় উচ্চ শিক্ষার লক্ষ নিয়ে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার সাথে খুলনায়ও প্রতিষ্ঠা হয় খুলনা নার্সিং কলেজ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে (বয়রার কলাবাগান এলাকা) ১০ একর জমির উপর ১৬ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটির নির্মাণ কাজ থেমে যায় ২০০৯ সালে। সরকারের সাথে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে বিরোধ হওয়ায় দু’বছরের মাথায় কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুন কনস্ট্রাকশন। তখন একটি একাডেমিক ভবন, একটি গেস্ট হাউজ, দুইটি হোস্টেল ও তিনটি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণের নির্মাণ কাজের অধিকাংশ স¤পন্ন হয়। দীর্ঘ চার বছর পর ২০১১ সালে একাডেমিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগে নিয়ে ১৩ জন শিক্ষক পদায়ন করা হলেও বর্তমানে কাগজে-কলমে রয়েছেন মাত্র ৭ শিক্ষক। তাদের মধ্যে আবার শিক্ষা ছুটি এবং প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত আছেন ৫ জন। বর্তমানে স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে সহকারী পরিচালক (সেবা) হিসেবে কর্মরত খালেদা আক্তার এখন অধ্যক্ষ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। তাছাড়া একজন মাত্র প্রভাষক রয়েছে সেখানে। অন্যদিকে দু’জন কম্পিউটার অপারেটর, একজন ক্যাশিয়ার, একজন স্টোর কীপার ও একজন ল্যাব সহকারী পদায়ন থাকলেও প্রেষণে অনত্র কর্মরত আছেন। এসবের মধ্যে গত সেশনে দেশের অন্য তিনটি নার্সিং কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অপেক্ষমান তালিকা থেকে ৬০ জনকে খুলনা নার্সিং কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত করে পরে আবার তা বাতিল করে মহা-পরিচালক নার্সিং-এর কার্যালয়। 
জানা গেছে, সম্প্রতি কলেজ চালুর জন্য শিক্ষার্থীদের আবাসিক ও প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনীয় ফার্নিচার আনা হয়েছে। কার্যত গত ৫ বছরের অগ্রগতি এতটুকুই। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে বাউন্ডারী ওয়াল ও পানির লাইন স্থাপন করা সম্ভব হলে আগামী সেশনেই কলেজের কার্যক্রম চালু করা হবে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী এ এফ এম আনিছুর রহমান সময়ের খবরকে বলেন, অতি দ্রুত নার্সিং কলেজের রিটেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর পরিকল্পনা অনুযায়ী অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে।
নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ খালেদা বেগম বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বার-বার পুনঃনির্মাণ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তিও পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের নার্সিং পেশায় নিয়োজিত শত শত নার্স উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে আগামী বছর শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। জানালেন সরকার কর্তৃক কিছু আসবাবপত্র পাঠানো হয়েছে। আস্তে আস্তে জটিলতা নিরসন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) সংগঠনের খুলনা মহানগর সভাপতি জেসমিন নাহার বলেন, কলেজটি চালু না হওয়ায় এ অঞ্চলের কর্মরত নার্সদের ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়ায় গিয়ে বিএসসি নার্সিং কোর্স করতে হচ্ছে। এতে অনেকে সংসার, স্বামী-সন্তান রেখে দু’বছর ধরে দূরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ কলেজটি চালু থাকলে বাড়িতে বসেই অনেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতেন তারা।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ