খুলনা | শুক্রবার | ১৭ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ইন্তেকাল

খবর প্রেিতবদন | প্রকাশিত ০৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:১০:০০

মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আর নেই। কিডনি ও হৃদরোগের জটিলতা নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত এই মুক্তিযোদ্ধার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।  তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মেয়ে ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী জানান, গত বছরের নভেম্বরে বাথরুমে পড়ে গোড়ালিতে চোট পান তার মা। হাসপাতালে ভর্তি করার পর হার্ট এ্যাটাক হলে তার হৃদযন্ত্রে স্থায়ীভাবে পেসমেকার বসাতে হয়। এরপর ডিসেম্বরের শেষে আবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভর্তি করা হয় ল্যাব এইড হাসপাতালে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর গত ২২ ফেব্র“য়ারি আবারও তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
ফুলেশ্বরী জানান, কয়েকদিন আগে তার মায়ের গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু রক্তচাপ ঠিক থাকছিল না। অবস্থা খারাপ হলে মঙ্গলবার সকালে তাকে ল্যাবএইডের সিসিইউতে নেওয়া হয়।  বেলা পৌনে ১টার দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে ল্যাব এইড হাসপাতালের কর্মকর্তা সাইফুর লেনিন জানান।
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুর খবরে দেশের নেমে আসে শোকের ছায়া। শিল্পী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধি এবং অধিকার কর্মীদের অনেকেই ছুটে যান হাসপাতালে। 
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, বিকেলে প্রিয়ভাষিনীর মরদেহ বসুন্ধরা পিংক সিটিতে তার বাসায় নেয়া হয়। সেখানে তাকে গোসল করানোর পর রাতে মরদেহ হিমঘরে রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে নেয়া হয় ।
পরিবারের পক্ষে কবি মোঃ সামাদ বলেন, “প্রিয়ভাষিনীর ছেলে কাজী মহম্মদ শাকের তূর্য আগামীকাল (আজ) অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরবেন। তারপর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে এক ঘন্টা কফিন রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। ওইদিন জোহরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা হবে। পরে তাকে মিরপুরের শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।” আগামী ১০ মার্চ বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এই মুক্তিযোদ্ধার জন্য নাগরিক শোকসভার আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।
১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্র“য়ারি খুলনায় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর জন্ম। তার নানা এড. আব্দুল হাকিম ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের সরকারের সময় স্পিকার হয়েছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হতে হয় এই বীর নারীকে। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দেয়। তার আগে ২০১০ সালে তিনি পান স্বাধীনতা পুরস্কার।
ছয় সন্তানের জননী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর পুরো জীবন কেটেছে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে। ১৯৭৭ সাল থেকে দুই দশকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করেছেন, যার শুরু হয়েছিল স্কুল শিক্ষকতা দিয়ে। পরে মন দেন শিল্পের সাধনায়, ঝরা পাতা, শুকনো ডাল, গাছের গুঁড়ি দিয়ে তার তৈরি গৃহসজ্জার উপকরণ ও শিল্পকর্ম তাকে ধীরে ধীরে করে তোলে ভাস্কর।
২০১৪ সালে একুশের বইমেলায় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘নিন্দিত নন্দন’ প্রকাশিত হয়। তার তিন ছেলে কারু তিতাস, কাজী মহম্মদ নাসের ও কাজী মহম্মদ শাকের তূর্য্য; আর রাজেশ্বরী প্রিয়রঞ্জিনী, রতেœশ্বরী প্রিয়দর্শিনী, ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী তার তিন মেয়ে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






কবি বেলাল চৌধুরী আর নেই

কবি বেলাল চৌধুরী আর নেই

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০৮

মির্জা ফখরুলের মায়ের ইন্তেকাল

মির্জা ফখরুলের মায়ের ইন্তেকাল

১৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০৮



আ’লীগ নেতা আরিফ টিটোর  ইন্তেকাল : শোক

আ’লীগ নেতা আরিফ টিটোর  ইন্তেকাল : শোক

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫৫


চলে গেলেন ওস্তাদ বাবু রহমান

চলে গেলেন ওস্তাদ বাবু রহমান

১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০


ব্রেকিং নিউজ











ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২