খুলনা | শনিবার | ২১ এপ্রিল ২০১৮ | ৮ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

৫ বছরে ১০ কোটি টাকার বেশি খরচ

ঝিমিয়ে পড়েছে কেসিসি’র মশক নিধন কার্যক্রম : অতিষ্ঠ নগরবাসী

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ০৫ মার্চ, ২০১৮ ০২:০০:০০

ঝিমিয়ে পড়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম। ফলে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মহানগরী খুলনার বাসিন্দারা। কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। 
কর্পোরেশনের কঞ্জারভেন্সি শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে মশক নিধনে ২ কোটি ও ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ টাকায় লার্ভিসাইড, অ্যাডাল্ট্রিসাইড, লাইট ডিজেল (কালো তেল), মেশিন মেরামত, বি¬সিং পাউডার ইত্যাদি কেনা হয়। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে মশক নিধনে বরাদ্দ রাখা হয় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ৮০ লাখ টাকায় অ্যাডাল্ট্রিসাইড, লার্ভিসাইড ও লাইট ডিজেল কেনা  হয়। একই অর্থ বছরের শেষের দিকে ফের কেনা হয় আরও ১০ হাজার লিটার অ্যাডাল্ট্রিসাইড, ২ হাজার লিটার লার্ভিসাইড ও ১২ হাজার লিটার লাইট ডিজেল। 
এদিকে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেও কার্যকরী পদক্ষেপের অভাব ও অব্যবস্থাপনায় নগরীতে মশার উপদ্রব কমিয়ে আনতে কার্যতঃ ব্যর্থ হচ্ছে কর্পোরেশন। নগরীর বসুপাড়া বাসতলা মোড়ের মাস্টার্স পড়–য়া শিক্ষার্থী তৌহিদুর ইসলাম জানান, বর্তমানে মশার উপদ্রব অনেক বেড়েছে। মশার অত্যাচারে কোন কাজ স্বাভাবিকভাবে করতে পারছি না। বিশেষ করে রাতে বেশি অশান্তি সৃষ্টি করছে। তাই বাধ্য হয়ে মশারীর ভেতরে বসে লেখা-পড়া করতে হচ্ছে। মুজগুন্নী এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ জানান, মশার উৎপাতে ছেলে-মেয়েরা সঠিকভাবে লেখাপড়া করতে পারছে না। বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা তুহিন জানান, ইদানিং মশা খুব বিরক্ত করছে। মশার কয়েল না জ্বালিয়ে কোন কাজ করতে পারছি না। 
নগরবাসীর অভিযোগ, ড্রেন অপরিষ্কার রাখা, মশার উপত্তি স্থলে সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহার না করা ও নিধন কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ার কারনে নগরীতে এ মশার উপদ্রব বাড়ছে। 
কর্পোরেশনের কঞ্জারভেন্সি শাখা সূত্র জানায়, নগরীর মশার প্রকোপ কমিয়ে আনতে উড়ন্ত মশক নিধনে কর্পোরেশন ৩১টি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে অ্যাডাল্ট্রিসাইড স্প্রে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় মশার ডিম নষ্ট করতে ড্রেনগুলোতে লার্ভিসাইড ও লাইট ডিজেল স্প্রে করা হয়। কিন্তু লার্ভিসাইড ও লাইট ডিজেল সংকটে তাও ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে কেসিসি’র কঞ্জারভেন্সি অফিসার আনিসুর রহমান বলেন, এখন মশার প্রজনন মৌসুম। এছাড়া সেফটি ট্যাংকের আউট-লেট উন্মুক্ত রাখা, ড্রেনে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ঝোপঝাড় বা ফুলের বাগান পরিষ্কার না করার কারনে মশার উপদ্রব বেড়েছে। তবে অন্যতম কারন অপরিষ্কার ড্রেন ও নগরবাসীর অসচেতনতা। যার কারণে মশা নিধন কার্যক্রম ফলপ্রসু হচ্ছে না। তবে সম্প্রতি ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এছাড়া তিনি আরও বলেন, ৩১ ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রনে রাখতে স্প্রে করা হচ্ছে। পাশাপাশি সকলকে সচেতন হতে হবে। ড্রেনে বর্জ্য ফেলা যাবে না, ঝোপঝাড়, ফুলের বাগান ও খাল বা পুকুর কচুরিপানা পরিষ্কার রাখতে  হবে। তাহলে মশা নিয়ন্ত্রয়নে রাখা সম্ভব।
খুলনা সদর (জেনারেল) হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, মশার দংশন ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। এজন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। মশক নিধনে কেসিসি’র মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বত্র স্প্রের ব্যবস্থা করতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ