খুলনা | সোমবার | ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

‘নেত্রী যেখানে ভাল মনে করবেন, সেখানেই কাজ করবো’

আলোচনায় সালাম মুর্শেদী

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০৫ মার্চ, ২০১৮ ০১:০০:০০

বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি’র বক্তব্যের পরেই ঘোষণা হলো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক স্ট্রাইকার আব্দুস সালাম মুর্শেদীর নাম। নৌকা প্রতীকে শুধু ভোটই চাইলেন না তিনি, খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের দায়িত্বও নেবার ঘোষণা দিলেন। খুলনার রূপসা উপজেলার সন্তান সালাম মুর্শেদীর কণ্ঠে এমন বক্তব্যে নড়েচড়ে বসছেন খোঁদ খুলনা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও। ডানপন্থি সমর্থিত মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবে জীবনের অনেকটা সময় কাটানো ও রাজনীতি বিমুখ পরিবারের সন্তান সালাম মুর্শেদী এখন আলোচনায় সর্বত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ১৯৬৩ সালে আব্দুস সালাম মুর্শেদী রূপসা উপজেলার নৈহাটি এলাকার পৈতৃক নিবাসে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক মোঃ ইসরাইল হোসেনের গৃহে পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। খুলনাতেই ফুটবলে হাতেখড়ি। খুলনার ইয়ং মুসলিম ক্লাবের মাধ্যমে প্রথম বিভাগে খেলা শুরু, এরপর ১৯৭৭ সালে আজাদ স্পোর্টিং-এ যোগ দিয়ে ঢাকায় চলে যান। আজাদে দুই বছর আর বিজেএমসি ক্লাবে এক বছর খেলে সুযোগ পান স্বপ্নের ক্লাব মোহামেডানে খেলার। কাজী সালাউদ্দিনের রেকর্ড ভেঙ্গে ১৯৮২ সালে ঢাকা ফুটবল লীগে করেন ২৭ গোল, যে রেকর্ড এখনও কেউ ভাঙতে পারেনি। খেলেছেন জাতীয় ফুটবল দলেও। 
২০১৫ সালের ২ জুলাই বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, “টিনের একটি সুটকেস হাতে খুলনা থেকে একদিন ঢাকায় এসেছিলাম। আজ এনভয় গ্র“প নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।” তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করেন অন্তত ২০ হাজার কর্মী। আবদুস সালাম মুর্শেদী বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের একজন বড় তারকা, তিনি বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি। এনবিআর’র প্রথমবারের ঘোষণায় ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর Exporters Association of Bangladesh (EAB)’র সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ২০১৬-১৭ মেয়াদের ‘কর বাহাদুর পরিবার’ হিসেবে সম্মাননা পান। ওই বছর দেশের মাত্র ৮৪টি পরিবারকে প্রথমবারের মতো ‘কর বাহাদুর পরিবার’ স্বীকৃতি দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তারমধ্যে আবদুস সালাম মুর্শেদীর পরিবার অন্যতম। এ তারকা ফুটবলার বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মোহামেডান ফুটবল ক্লাবেরও দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি ও স্থগিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়ও ছিলেন নৈহাটির সন্তান সালাম মুর্শেদী।
সর্বশেষ, গত শনিবার খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি’র বক্তব্যের পর বক্তৃতা দেয়ায় আলোচনায় এসেছেন খেলোয়াড় থেকে সফল ব্যবসায়ী শিল্পপতি সালাম মুর্শেদী।
সাধারণ নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি। তার পরে সালাম মুর্শেদীকে বক্তব্য দিতে দেয়া মানেই তাকে অনন্য উচ্চতায় উঠিয়ে নিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তবে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। আওয়ামী লীগের মহানগর ও জেলা কমিটির একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারাও কোন মন্তব্য করতে রাজি নন এ বিষয়ে।
গত শনিবার জনসভায় সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে সকলে ভোট দিয়ে নৌকা মার্কাকে জয়ী করতে হবে।’ ‘ইনশাআল্ল¬াহ্ আমি সালাম মুর্শেদী অঙ্গীকার করছি, জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে খুলনার সকল আসনে নৌকার প্রার্থীর জয়ের জন্য আমার যা যা করার দরকার তাই করবো। এ ওয়াদা আমি নেত্রী এবং আপনাদের সকলে দিলাম।’
বক্তব্যের শুরুতেই নিজের পরিচয় দিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘আমি আপনাদের খুলনার সন্তান। আমার বাল্য জীবন এখানে কেটেছে। খেলাধুলা এখান থেকেই শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে ঢাকায় এবং জাতীয় দলে খেলেছি। পরবর্তীতে ব্যবসার শুরু হয়েছে। আমার এনভয় গ্র“পে ২০ হাজার সদস্য।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ সবক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে।’ ‘পদ্মাসেতুকে প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন, যা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। যা এ অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারে আসবে। শুধু তাই বাংলাদেশ এলডিসি স্ট্যাট্যাস থেকে উন্নতি করেছে। যা স্বাধীনতা ইতিহাসের পরবর্তী উল্লেখযোগ্য অর্জন। জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর মানবতার হাত বাড়িয়ে মাদার অব হিউমেনিটি খেতাব অর্জন করেছে।’
জনসভায় এমন বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসছেন খুলনার শীর্ষ নেতারাও। একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের যেকোন একটিতে তিনি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন এটা নিশ্চিত। তবে ঠিক কোন আসনের প্রার্থী হবেন, সেটা নিয়েও রয়েছে নানান জল্পনা-কল্পনা। তবে জল্পনা-কল্পনা যাই হোক, প্রধানমন্ত্রীর সফলসঙ্গী হিসেবে এসে জনসভায় বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি’র পর বক্তব্য রাখায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়েছেন আ’লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতাও। 
খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেবার অঙ্গীকার নিয়েও ভাবছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তৃণমূল নেতা-কর্মীরা উল্টো সাংবাদিকদেরই প্রশ্ন করছেন, “তাহলে কি সালাম মুর্শেদী খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী ব্যয়ভার বহন করবেন? আ’লীগের মতো প্রবীণ ও বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি কিভাবে এতো বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন? এমনি হাজারো প্রশ্ন খুলনা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনে!
এসব বিষয়ে শিল্পপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী সময়ের খবরকে বলেছেন, “দেশে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের কাছে গেলে নিশ্চয় খুলনার ছয়টি আসনসহ দেশের সর্বাধিক আসনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীক বিজয় লাভ করবে। আমি তো নতুন সদস্য বা কর্মী মাত্র, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারক ও খুলনা শীর্ষ নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে কোন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করবে, বলে আমি বিশ্বাস করি।” খুলনার কোন আসনের প্রার্থী হবেন? প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্বভাবসুলভ প্রাণবন্ত হেসে বললেন, “নেত্রী যেখানে ভাল মনে করবেন, সেখানেই কাজ করবো।”
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০









খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩০



ব্রেকিং নিউজ


সাড়ে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

সাড়ে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:২০