খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

শীর্ষ ২৫ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি  ঋণ ৯৫০০ কোটি টাকা

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ২৩:৫৪:০০

দেশের শীর্ষ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকারও বেশি। এসব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এ ঋণ নিয়েছে। এই ঋণখেলাপির তালিকায় আলোচিত হলমার্ক কোম্পানির একটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই শীর্ষ ২৫ খেলাপির তালিকা ও ঋণের পরিমাণের এ তথ্য জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই খেলাপি ঋণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ২৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ নয় হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্সের খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ ৮৮৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমস লিমিটেডের কাছে ৫৫৮ কোটি নয় লাখ টাকা, জাসমির ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেড ৫৪৭ কোটি ৯৫ লাখ, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস ৫২৫ কোটি ৬০ লাখ, বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ৫১৬ কোটি ৯৪ লাখ, ঢাকা ট্রেডিং হাউজ ৪৮৫ কোটি ২৯ লাখ, আনোয়ার স্পিনিং মিলস্ ৪৭৪ কোটি ৩৭ লাখ, সিদ্দিক ট্রেডার্স ৪২৮ কোটি ৫৭ লাখ, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ ৪১৪ কোটি ৮০ লাখ, আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেড ৪০১ কোটি ৭৩ লাখ, লিজেন্ড হোল্ডিংস ৩৪৭ কোটি ৮৫ লাখ, হলমার্ক ফ্যাশন লিমিটেড ৩৩৯ কোটি ৩৪ লাখ, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল ৩৩৮ কোটি ৭৪ লাখ, মুন্নু ফেব্রিক্স ৩৩৮ কোটি ৩৭ লাখ, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিক্স লিমিটেড ৩২২ কোটি ৪ লাখ, শাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েল লিমিটেড ৩১২ কোটি ৯৬ লাখ, নুরজাহান সুপার ওয়েল লিমিডেট ৩০৪ কোটি ৪৯ লাখ, কেয়া ইয়ার্ন লিমিটেড ২৯২ কোটি ৫৩ লাখ, সালেহ কার্পেট মিলস্ লিমিটেড ২৮৭ কোটি ১ লাখ, ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং লিমিটেড ২৭৩ কোটি ১৬ লাখ, এসকে স্টিল ২৭১ কোটি ৪৮ লাখ, চৌধুরী নিটওয়ার লিমিটেড ২৬৯ কোটি ৩৮ লাখ, হেল্প লাইন রিসোর্সেস লিমিটেড ২৫৮ কোটি ৩০ লাখ, সিক্স সিজন এ্যাপার্টমেন্ট লিমিটেড ২৫৪ কোটি ৫৭ লাখ, বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লিমিটেডের ২৪৩ কোটি ৮৪ লাখ।
সংসদীয় কমিটির সভায় এসব ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা আদায় এবং খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে একটি কমিটি করতে বলা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী দেড় মাসের মধ্যে করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলো কোন কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ নিয়েছে, তাদের পারিবারিক পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটি খেলাপি ঋণ কমাতে সংশ্লিষ্ট আইন পরিবর্তনেরও সুপারিশ করেছে।
জানা গেছে, ঋণের টাকা আদায়ের জন্য ব্যাংকগুলোর আদায় কাজ জোরদারের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন, কিছু কিছু ঋণ পুনঃতফসিলি করণের মাধ্যমে নিয়মিত করা, ঋণ অবলোপন, খেলাপি গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে এ সংক্রান্ত আইনের যদি দুর্বলতা থাকে তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ব্যাংকগুলোও তাদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছে। আমাদেরও মনে হয়েছে ঋণখেলাপিদের সবাই অসহায়।’
এদিকে সংসদীয় কমিটি শেয়ারবাজার নিয়েও আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



পুঁজিবাজারে  বড় ধস

পুঁজিবাজারে  বড় ধস

০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:০৯











ব্রেকিং নিউজ