খুলনা | শুক্রবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

একুশ চেতনার জোয়ারে তাগিদ

নাসির আহমেদ | প্রকাশিত ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০১:০২:০০

একুশ চেতনার জোয়ারে তাগিদ

বৃট্রিশ শাসিত বাংলায় স্বাধীনতা আন্দোলন ও জনগণের মুক্তি- সংগ্রামের এবং ভবিষ্যৎ চিন্তার অবলম্বন ছিল বাংলাভাষা। অথচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার পর মীরজাফর ও ক্লাইভের পক্ষের তাবেদারী লোকেরা দুই-এক প্রজন্ম যেতে না যেতেই, ইংরেজ তথা ইংরেজিকে জগদ্বীশরের ভূমিকায় অধিষ্ঠিত করে নিয়েছিল। আবার, ইতিহাসেন আলোকে এটাও লক্ষিত হয় ১৮৫৭-র পরে শিক্ষিত সমাজে জাতীয় চেতনার জোয়ার দেখা দিয়েছিল, এবং ইংরেজ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার তাগিদ সৃষ্টি হয়েছিল। সেকালের রচিত বাংলা সাহিত্যেও তার প্রমাণ মেলে। শচীন সেনের প্রাণের আবেগ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে নাটক রচনা করেন। ‘সিরাজউদদৌলা’ ‘টিপু সুলতান’ ‘মীর কাশেম ও প্রতাপদিত্য’ মত জাতীয় ব্যক্তিত্ব ও বীবেব মর্যাদায় আখ্যায়িত করেন।
কবি কামিনী রায়ের একটি কবিতার ৪টি লাইন তুলে না ধরলেই নয়। যা কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘MATRICULATION BENGALI SELECTION’ - এ প্রকাশিত হয়েছিল। কবি বলছেন,
‘পরের মুখে শেখা বুলি পাখির মতো কেন বলিস? 
পরের ভঙ্গি নকল করে নটের মতো কেন চলিস?
তোর নিজস্ব সর্বাঙ্গে তোর দিলেন ধাতা আপণ হতে।
মিছে সেটুকু বাজে হলি, গৌরব কিছু বাড়ল তাতে!
কবি মূলত: বাঙালি ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতির নিজস্বতা ও তার কল্যাণকর দিকগুলি মনন শৈলীতে পাঠকদের সম্মুখে তুলে ধরেছেন। এক্ষেত্রে রাজা রামমোহনের নাম আসে সর্বাগ্রে। তিনি ইংরেজি শিক্ষার প্রবল অনুরাগী হয়েও ছিলেন বাঙালি ঐতিহ্যের ধারক, বাহক। এছাড়াও ঐতিহ্য স্থিত ছিলেন, অক্ষয় কুমার, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশচন্দ্র, প্রফুল্লচন্দ্র, প্রমথ চৌধুরী, ত্রিবেদী, শরৎচন্দ্র পরবর্তীতে বেগম রোকেয়া, মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, মোহাম্মদ বরকততুল্লাহ, কাজী নজরুল ইসলাম, মোতাহার হোসেন চৌধুরী, এস ওয়াজেদ আলী, আবুল হুসেন, কাজী আব্দুল ওদুদ প্রমুখ। অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে প্রবলভাবে ঐতিহ্যপন্থী হয়ে ওঠেন ওদুদ প্রমুখ। অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে প্রবলভাবে ঐতিহ্যপন্থী হয়ে ওঠেন দু’জন কবি। একজন মাইকেল মধুসূনদনদত্ত ও বঙ্কিমচন্দ্র।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বয়স ৪০ পার হওয়ার পর। তিনি কর্মজীবনের শুরুতে পাশ্চাত্যপন্থী ছিলেন এবং প্রথম উপন্যাস ইংরেজিতে লিখেছিলন, কবি মধুসূদনের মতো কবি যিনি পরে ‘ যশোরের বাঙাল বলে আত্মপরিচয় দিতেন। তিনিও বাংলা সাহিত্যকে অবজ্ঞা করে প্রথমে ইংরেজি কাব্য লিখেছিলেন এবং প্রথমবার ইংরেজ মেয়ে ও দ্বিতীয়বার ফরাসী মেয়ে বিয়ে করেন। যাই হোক, শুধু তখনকার চিত্র নয়- বরং এখনো আমাদের দেশের ধনিক-বনিকেরা, আমলা-বুদ্ধিজীবীরা, বিত্তবান, ক্ষমতাবান, খ্যাতিমান বাংলাভাষার ব্যবহার অল্পই রাখার পক্ষে। গভীরভাবে লক্ষ্য করতে হবে বাংলার ব্যবহার ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস নাটকে স্থান নিয়েছে ঠিকই কিন্তু জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাষ্ট্র পরিচলনায় (আদালতে) তা নগণ্য। যদিও সম্প্রতি আদালতের কিছু রায় বাংলায় দেয়া হয়েছে, কিন্তু তা-কি বাধ্যতার নির্দেশনায় এসেছে? বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সর্বত্র ইংরেজির ব্যবহার কি আমাদের এতটুকু লজ্জায় ফেলেছে? কোর্টের নির্দেশনা বহু আগেই ছিলো, তারপরও নজর কেন দেওয়া হচ্ছে না। গত দশকের ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে, এরা কারা? সুশাসনের কাজে সিভিল সোসাইটিকে এনজিও-রা তত্ত্বাবধান করবে কেন? বলতে বাঁধা নেই, বিশ্বায়ন, মুক্তবাজার অর্থনীতির অবাধ প্রতিযোগিতায় নৈতিক বিবেচনা বর্জিত মুক্তবুদ্ধিচর্চাকে অবলম্বন করে প্রাচাত্য সমাজের নোংরা চেতনা, তাদের সংস্কৃতি আমাদের ক্রমশ; গ্রাস করছে। তাদের ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা যেন পরিচালিত হচ্ছি! হ্যাঁ তবে, বিষয়টি যদি এমন হতো যে, পারস্পারিক বিশ্বায়নের সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে সমান-সমান তাহলে, আজকের ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এগুলোর অর্থ জনস্বার্থে ব্যবহৃত হতে পারত। আসলে, গণজাগরণের পটভূমিতে দরকার বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ বা রেনেসাঁসা, রেনেসাঁসের সূচনা হয় শিল্প, সাহিত্য ও দর্শন-বিজ্ঞান অঙ্গণের লোকের দ্বারা। একুশ দশকে পৌঁছার পরও বলা হচ্ছে এটি সন্ত্রাস রাষ্ট্র তালেবান রাষ্ট্র। আমরা ব্যর্থ। জাতীয় ও রাজনৈতিক ঐক্য নষ্টের কেন্দ্র দৃশত : চিত্রই সত্য নয়। মূলে, বহি:রাষ্ট্র ও তাদের আধিপত্য ও প্রচারকার্যই দায়ী। এজন্য জনগণের গণতন্ত্রের ধারণাকে বিকাশিত করতে হবে। গণতন্ত্র নিতান্তই নির্বাচন নয়- যদিও নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ও কর্তৃপক্ষ গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান। আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মানুসন্ধান, আত্মসমালোচনা ও আত্মশোধন দরকার। জাতীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিস নানা ধরণের কারিগারি ও পেশামূলক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে। গবেষণায় আনতে হবে আমুল পরিবর্তন। মেধা পাচার রোধ করতে হবে। বিশেষ করে সাহিত্য ও সংিস্কৃতিক পরিমন্ডল দ্বিপক্ষিক ইস্যুতে ইতিবাচক করে তুলতে হবে। প্রজন্মদের সত্য শপথে এবং তাঁর মর্মানুধাবনে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকল শ্রেণীর মানুষদের স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে থেকেই প্রতিষ্টায় রূপ দিতে তৎপর হতে হবে। আলোকিত মানুষই দিতে পারে আলোর ঠিকানার সন্ধান।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ




আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা 

আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা 

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৮

কেসিসিতে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

কেসিসিতে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৭





খুলনায় সেঞ্চুরিতে নজর কাড়লেন সোহান

খুলনায় সেঞ্চুরিতে নজর কাড়লেন সোহান

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫০


অভিষেকেই আবু হায়দার রনির চমক

অভিষেকেই আবু হায়দার রনির চমক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৫