খুলনা | মঙ্গলবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

অরক্ষিত হয়ে পড়ছে কেসিসি’র প্রকল্প বাস্তবায়নে অধিগ্রহণকৃত ৪২ একর জমি

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০২:০০:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অধিগ্রহণকৃত ৪২ একর জমি অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। নানা জটিলতায় দীর্ঘদিনে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় ইতোমধ্যে একাধিক কাউন্সিলর, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ওই জমিতে ঘের করে মৎস্য চাষ ও কৃষকদের ধান আবাদের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 
কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে ডুমুরিয়ার রংপুর মৌজার শলুয়া এলাকায় স্যানিটারী ল্যান্ডফিল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ১৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। যার মূল্য হিসেবে পরিশোধ করা হয় ১ কোটি ৬৫ লাখ ৬৪ হাজার ২২ টাকা। কিন্তু নানা জটিলতায় এখনও ওই জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অধিগ্রহণকৃত ১৭ একর জমির মধ্যে ৬ একরে কর্পোরেশনের কর্মচারী ইউনিয়ন ও একাধিক কাউন্সিলর পৃথক ঘের করে বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। 
অপরদিকে, কর্পোরেশনের আরবান পাবলিক এন্ড এনভায়রনমেন্ট হেলথ সেন্টার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এর আওতায় মাথাভাঙ্গা এলাকায় আরেকটি স্যানিটারী ল্যান্ডফিল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর জন্য ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ১১ কোটি ৯৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই মৌজায় ২৪ দশমিক ৭০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় মাঝপথে ওই প্রকল্পের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় বর্তমানে কর্পোরেশনের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মবর্হিভূতভাবে ওই জমিতে কৃষকদের ধান আবাদের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন। 
অন্য একটি সূত্র জানায়, ধীরে ধীরে কর্পোরেশনের কিছু কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ অধিগ্রহণকৃত জমি ভোগ-দখল শুরু করেছে। শলুয়ার অধিগ্রহণকৃত জায়গায় পৃথক দু’টি ঘের করে মাছ চাষের মাধ্যমে প্রতিবছর মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। মাথাভাঙ্গায় ২৪ দশমিক ৭০ একর জমি বিভিন্ন কৃষকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লীজের মাধ্যমে চাষাবাদের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। ফলে কতিপয় ব্যক্তি লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কর্পোরেশন। অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 
কর্পোরেশনের কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা বলেন, ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। কর্মচারী ইউনিয়ন এক খন্ড জমিতে মাছ চাষ করছে। কিন্তু ঘের থেকে লাভ করা সম্ভব হচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত অন্তত পক্ষে দেড় লাখ টাকা লোকসান রয়েছে।
কর্পোরেশনের শ্রমিক নেতা শামিমুর রহমান বলেন, তার বাড়ি মাথাভাঙ্গা এলাকায় হওয়ার কারনে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জমি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। জমি সংরক্ষণে কিছু কৃষককে চাষাবাদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি।
কর্পোরেশনের বৈষয়িক কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত ওই জমি লিজ বা ইজারা দেয়া যাবে না। কর্পোরেশনের অনুমতি ছাড়াই এ জমি ভোগ-দখল করা হচ্ছে। 
কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আজিজ বলেন, মাথাভাঙ্গায় স্যানিটারী ল্যান্ডফিল নির্মাণের একটি প্রস্তাব পাইপ লাইনে রয়েছে। অনুমোদন মিললে বাস্তবায়ন সম্ভব। আর বর্জ্য ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে এডিবির অর্থায়নে শলুয়ায় একটি প্লান্ট নির্মাণ করা হবে।  সেখানে ময়লা-আবর্জনা থেকে জৈব সার ও পানি শোধন করা হবে। আগামী বছরের গোড়ার দিকে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ












বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:১০


ব্রেকিং নিউজ












বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:১০