খুলনা | মঙ্গলবার | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাংক আমানতকারীরা ডাকঘরে সঞ্চয়পত্র কেনার দিকে ঝুঁকেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০২:০০:০০

দক্ষিণাঞ্চলের ভ্যান চালক, মুদি দোকানী, রাজমিস্ত্রি, কৃষি শ্রমিক, জেলে ও প্রান্তিক চাষি ব্যাংকে জমানো টাকা প্রতি মাসেই তুলে নিচ্ছে। এ অঞ্চলের প্রতিটি ব্যাংকের শাখা থেকে বছরে কমপক্ষে এক কোটি টাকা আমানত তুলে নিচ্ছে। শ্রমজীবী এ মানুষ ব্যাংকের টাকা তুলে ডাকঘর থেকে সঞ্চয়পত্র কিনছে। ব্যাংকের চেয়ে ডাকঘরের সঞ্চয়পত্রে মুনাফা বেশী থাকায় শ্রমজীবী মানুষ সেদিকে ঝুকে পড়েছে।
১৯৯০ সালের পর থেকে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা বাড়তে থাকে। শ্রমজীবী মানুষের অর্জিত অর্থ নিরাপদে রাখতে ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে শুরু করে। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকের সংখ্যা গড়ে ৮ হাজার। 
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের খুলনার তেরখাদা শাখার ব্যবস্থাপক শেখ হায়দার আলী জানান, ব্যাংকে মুনাফার পরিমাণ কম থাকায় আমানতকারীরা টাকা তুলে ডাকঘর থেকে সঞ্চয়পত্র কিনছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে ২০১৬ সালে এ শাখায় ৮ হাজার ৬৯০ জন গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৫ রাখ ৩৮ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে ৮ হাজার ২০৫ জন গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ১৩ কোটি ৫০ লাখ। গেল মাসে তিনজন গ্রাহক কমে গেছে। গত বছরের শেষ দিকের তুলনায় ৬ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত আমানতকারীরা ২৩ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে।
কৃষি ব্যাংকের ডুমুরিয়া শাখার কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, বুধবার পর্যন্ত ১৮ হাজার গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ৩৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে গ্রাহকরা প্রায় ১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এই কর্মকর্তা স্বীকার করেন নতুন করে কোন গ্রাহক হচ্ছে না। 
ব্যাংকের পাইকগাছা শাখার ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম জানান, উপজেলার লস্কর, লক্ষীখোলা ও গদাইপুর গ্রামের আমানতের পরিমাণ কমেছে। ২০১৬ সালে এই শাখার ১০ হাজার গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি টাকা। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এ শাখার আমানতের পরিমাণ ১৭ কোটি টাকা। 
ব্যাংকের খুলনা অঞ্চলের উপ-মহাব্যাবস্থাপক টিপু সুলতান জানান, আমানতকারীরা সুদের পরিমাণ বেশী প্রত্যাশা করে। জমানো টাকার সুদের পরিমাণ যেকানে বেশী হবে আমানতকারীরা সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। ব্যাংক বছরে সর্বোচ্চ শতকরা সাড়ে ৫ টাকা সুদ দিয়ে থাকে। সঞ্চয়পত্রে লাভ বেশী। 
ডাক বিভাগের জিপিও’র সিনিয়র পোস্ট মাস্টার জানান, শ্রমজীবী মানুষ মানুষ ব্যাংকে এক লাখ টাকা জমা রেখে মাসে ৩৩০ টাকা সুদ পায়। সেক্ষেত্রে ডাকঘরে লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্রে মাসে লাভের পরিমাণ ৯১২ টাকা।
রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের ভ্যান চালক রমজান আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যাংকে খুব বেশী লাভ না পাওয়ায় সেখান থেকে টাকা তুলে ডাকঘরে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। এতে এখন বেশী লাভ পাচ্ছেন।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



পতনের ধারায় ব্যাংক খাতের শেয়ার

পতনের ধারায় ব্যাংক খাতের শেয়ার

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০


প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত

প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:১০









ব্রেকিং নিউজ