খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

শরীক দল ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

খুলনায় খালেদা জিয়া মুক্তি আন্দোলনে বিএনপি’র পাশে নেই জামায়াত

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০১:০৬:০০

২০ দলীয় জোট নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তির আন্দোলনে বিএনপি’র পাশে নেই জোটের প্রধান শরীক জামায়াতে ইসলামী। অথচ, খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) ও ৬ নম্বর (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের জোরালো দাবিদার তারা। এতে অন্য শরীক দল ও জোট সমন্বয়ক বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ৮ ফেব্র“য়ারি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের সাজার প্রতিবাদে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা দেয় বিএনপি। পরে গত ১১ ফেব্র“য়ারি বিএনপি’র চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলের শীর্ষ নেতাদের অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে মুক্ত করেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় জোট। এমনকি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা কোনো ভোটও হতে না দেবার সিদ্ধান্ত নেন তারা। জোটের বৈঠকের পর গত রবিবার সারাদেশের ন্যায় খুলনাতে মানববন্ধন করেছিল বিএনপি। তাতে মুসলিম লীগ, খেলাফত মজলিস, বিজেপি, জাগপাসহ কয়েকটি দলের নেতারা অংশ নেন। তবে দেখা যায়নি জামায়াতের কোন নেতা-কর্মীকে। জোটের সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করলেও জামায়াতের কোন নেতাই রাজপথে নামেননি। আন্দোলনমুখী বিএনপি’র পাশে নেই দলটির ১৯ বছরের পুরনো মিত্র জামায়াতে ইসলামী। যুদ্ধাপরাধের বিচারে কোণঠাসা জামায়াত গত সাত বছর ধরে ধরপাকড়ের মুখে রয়েছে।
একাধিক জামায়াত নেতা জানিয়েছেন, কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে, তা এখনও নিশ্চিত না হলেও এবার বিএনপি ভোটে অংশ নেবে। তাই এ সময়ে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে না বিএনপি। নির্বাচনমুখী জামায়াতও ভোটের আগে সরকারের সঙ্গে বিরোধ বাড়াতে চায় না।
সূত্রমতে, বিএনপি-জামায়াত দু’বার জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছে, একবার সরকার পরিচালনা করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভরাডুরির পর থেকেই তাদের সখ্য কমতে শুরু করে। তবে দু’দল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন একত্রে বর্জন করে। কিন্তু উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করেছে যে যার মতো। ২০১৫ সালে নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে টানা তিন মাস একত্রে আন্দোলন করলেও তাদের সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। ফলে বিএনপি-জামায়াতের টানাপোড়েন এখন চরমে।
অপরদিকে, অহিংস কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুলনা বিএনপি’র নেতাকর্মী-সমর্থকরা। গ্রেফতার আতঙ্ক, পুলিশী হয়রানি ও সহিংসতা এড়িয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের অংশ গ্রহণ বাড়ছে।
নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও ৬ নম্বর (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে মহানগর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সংসদ সদস্য প্রার্থী দাবি করে জোটের কাছে। এছাড়া কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ফুলতলা উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান, পাইকগাছা উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান এবং কেসিসি’র ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রয়েছেন জামায়াতের। তারাও জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের। তবে শীর্ষ নেতারা এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাইছেন না এখনি।
জোট শরীক বিজেপি’র মহানগর সভাপতি এড. লতিফুর রহমান লাবু বলেন, “জামায়াতে ইসলামী নিজেরাই তো দৌড়ের উপর আছে। এ অবস্থায় অসহিংস কর্মসূচিতেও তারা আসতে পারছে না। তবে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচি এলে আশা করি জোটের শরীক সকলেই পাশে পাবো।”
২০ দলীয় জোট নেতাদের পরস্পর কোন ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই দাবি করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বললেন, “জোটগত কর্মসূচি এলে অবশ্যই সর্বাত্মক সফলে মাঠে থাকবে জামায়াত।”
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে দেয়া নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারী জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের সভাপতি হুমায়ুন কবির, সম্মিলিত  ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হাসানসহ ২৫ ব্যক্তি। বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে জামায়াত। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






আলোচনায় সালাম মুর্শেদী

আলোচনায় সালাম মুর্শেদী

০৫ মার্চ, ২০১৮ ০১:০০



দেশে তো এখন আর  ভোট হয় না : এরশাদ

দেশে তো এখন আর  ভোট হয় না : এরশাদ

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০



বিএনপি চলবে কীভাবে?

বিএনপি চলবে কীভাবে?

০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:১১


ব্রেকিং নিউজ