খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ অগাস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

সুন্দরবন না থাকলে এক তৃতীয়াংশ মানুষ উদ্বাস্তু হবে : মেনন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫৪:০০

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সুন্দরবন না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। সুন্দরবন না থাকলে দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ উদ্বাস্তু হবে। আর এ কারণে সুন্দরবন রক্ষার দাবি শুধুমাত্র দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের নয়, এটা দেশের সব বিবেকবান মানুষের দাবি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে সুন্দরবন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সুন্দরবনের ভূমিকা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি বলেন বর্তমান সরকার সুন্দরবন সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে। শুধু বন বিভাগ নয়, সুন্দরবন রক্ষার এ উদ্যোগ সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। 
তিনি গতকাল বুধবার সকালে খুলনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সুন্দরবন দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বরাবরের মত “বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালোবাসুন”-এই মূল সুরে সুন্দরবন সন্নিহিত জেলাসমূহে দিবসটি পালন করা হয়।
বন অধিদপ্তর খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান, প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফারুক আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সুন্দরবন একাডেমীর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। সুন্দরবনের বর্তমান পরিস্থিতি ও উদ্যোগের উপর আলোকপাত করেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ বশিরুল-আল-মামুন। আলোচনা করেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বেগম ফেরদৌসী আলী এবং ওয়াইল্ড টিম-এর রিজিওন্যাল ম্যানেজার মাহাবুবুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মল্লিক সুধাংশু। খুলনা জেলা প্রশাসন, বন অধিদপ্তর, ইউএসএইড বাঘ এ্যাকটিভিটি, ওয়াইল্ড টিম, সুন্দরবন একাডেমী, খুলনা প্রেস ক্লাব এবং রূপান্তর-এর যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি মেনন আরো বলেন, দেশে অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্প বিকাশ লাভ করছে। বর্তমানে প্রায় এক কোটি মানুষ বছরে দেশের ভেতরে পর্যটন করছেন। এর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ সুন্দরবনে আসছেন। কিন্তু সুন্দরবনে আসা পর্যটকেরা সুন্দরবনের পরিবেশ বিনষ্ট করছে। এখানে ইকো ট্যুরিজম ছাড়া অন্য কোন ধরনের পর্যটন বা প্রমোদ ভ্রমণ কড়াকড়িভাবে বন্ধ করতে উদ্যোগ নিতে হবে। 
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দ্রুত নগরায়নে বসতি সম্প্রসারণের ফলে খালি জায়গা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তাই সুন্দরবনের সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। ২০১৭ সাল থেকে সুন্দরবনকে অভয়ারণ্য এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বাঘ গণনায় বিশ্বের সর্বাধুনিক পদ্ধতি ক্যামেরা ট্রাপিং বা ক্যামেরা ফাঁদের মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা নির্ণয়ের কাজ শুরু হয়েছে। 
তিনি বলেন, দেশের অস্তিত্বের সাথে যেহেতু সুন্দরবনের যোগ রয়েছে সে কারণে প্রয়োজনে সুন্দরবন বিষয়ক একটা কমিশন করে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের একীভূত একটা প্রতিষ্ঠান করা যেতে পারে। পদ্মা সেতু নির্মাণের পরে এ এলাকায় ব্যাপকভাবে শিল্পায়ন হবে কিন্তু কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান যাতে পরিবেশ এবং সুন্দরবনের ক্ষতি না করে সে জন্য সংশ্লিষ্টদের আরো তৎপর হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ১৪ ফেব্র“য়ারি রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস যাতে পালিত হয় সে ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানান।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫৭