খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৪ মে ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

সংরক্ষিত ওয়ার্ড-৯

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে চায় ভোটাররা

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫২:০০

আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীর সংরক্ষিত ৯নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে বেশ তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কাউন্সিলর পদে পাঁচ প্রার্থী মনোনয়ন পেতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। সর্বত্র শোভা পাচ্ছে তাদের পোস্টার, প্যানা, ফেস্টুন ও ব্যানার। লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। চলছে শুভেচ্ছা, মতবিনিময় ও দোয়া প্রার্থনা। বয়ে যাওয়া নির্বাচনী এ হওয়ার মধ্যে ‘কেমন কাউন্সিলর চাই’-এমন প্রশ্নের জবাবে অসহায়, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকে তাদের অধিকার আদায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবেন এমন প্রার্থীকে বেছে নেবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ওয়ার্ডবাসী।
জানা গেছে, ২৪, ২৭ ও ২৮নং সাধারণ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত নগরীর সংরক্ষিত ওয়ার্ড-৯। এর পূর্বে রূপসা ঘাট, পশ্চিমে শের-ই বাংলা রোড, উত্তরে ফারাজীপাড়া সড়ক, দক্ষিণে মহির বাড়ি খালপাড় মোড়। ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনায় ওয়ার্ডটিতে সরকারি-বেসরকারি ও আবাসিক এলাকা সমৃদ্ধ ও অনেক অভিজাত। রুচিশীল ও বিত্তশালীদের বসবাস হওয়া সত্ত্বেও ওয়ার্ডের রয়েছে মাদকের আখড়া। বিভিন্ন বস্তি ও সড়কের অলিতে গলিতে ভাসমানভাবে অবাধে মাদক বেচা-কেনা ও সেবন চলে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অনেকটা অপরিকল্পিত মান্দাতার আমলের, ফলে ভারীবর্ষণে অনেক সড়কে হাটু পানি জমে যায়। সারা বছর মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ থাকে ওয়ার্ডবাসী। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে সড়কে নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে হয়। এছাড়া রয়েছে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নানা অসুবিধা। এ অবস্থায় আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ড জুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য পাঁচ প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর ও কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-৩ (স্বতন্ত্র) রুমা খাতুন, নগর মহিলা দলের সমবায় বিষয় সম্পাদক মাজেদা খাতুন, নগর মহিলা দলের নেত্রী লুৎফুর রহমান লাভলী, মহানগর মহিলা দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাওসারী জাহান মঞ্জু এবং মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি লিভানা পারভীন দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। 
ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলেন, ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা, ময়লা-আবর্জনা ও বেহাল সড়কের ভোগান্তি কমছে না। পাশাপাশি অন্যতম সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়ে এখন মাদক। বস্তিকে কেন্দ্র করে অবাধে বিকিকিনি হয় এ মাদক। ফলে এর ভয়াবহতায় অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই এসব সমস্যার বিষয়ে সোচ্চার থাকবে ও অসহায়, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকে তাদের অধিকার আদায় এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে এমন প্রার্থীকে বেছে নেবেন তারা।
সম্ভাব্য প্রার্থী মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি লিভানা পারভীন বলেন, নির্বাচিত হলে ওয়ার্ড উন্নয়নে কাজ করবেন। পাশাপাশি বয়স্ক, বিধবা ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ডের সমবন্টন করা হবে। বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার উন্নয়ন ওয়ার্ডের দৌড় গোড়াই পৌঁছে দেয়া হবে। 
নগর মহিলা দলের নেত্রী লুৎফুর রহমান লাভলীর সমর্থকরা বলেন, ওয়ার্ডবাসীর সেবা প্রদানে লুৎফুর রহমান লাভলী কাজ করে চলেছেন। সে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। শতভাগ প্রত্যাশা দল তাকে মনোনয়ন দেবে। সে মনোনয়ন পেলে ও  নির্বাচিত হলে ওয়ার্ড সাজাতে ও বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।
মহানগর মহিলা দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাওসারী জাহান মঞ্জু বলেন, তিনি নির্বাচন করতে ইচ্ছুক। দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তবে নির্বাচন করবেন। আর নির্বাচনে জয়ী হলে ওয়ার্ডের মধ্যে বিরাজমান সমস্যা জলাবদ্ধতা দূর, সড়ক সংস্কার, সড়ক ময়লা-আবর্জনামুক্তকরণ করা হবে। পাশাপাশি নারী শিশু নির্যাতন ও ইভিটিজিং বন্ধে ভূমিকা থাকবে। নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হবে।
নগর মহিলা দলের সমবায় বিষয় সম্পাদক মাজেদা খাতুন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ ওয়ার্ডের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধ, বাল্য বিবাহ রোধ ও শিশুদের অধিকার আদায়ে তার ভূমিকা রয়েছে। ইতোমধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে নিজস্ব অর্থায়নে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে এসব কাজ আরও বেগবান করা হবে। সুপেয় খাবার পানি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ওয়ার্ডের মধ্যে বিরাজমান সমস্যা জলাবদ্ধতা দূর, সড়ক সংস্কার, সড়ক ময়লা-আবর্জনামুক্তকরণ করা হবে। নারী শিশু নির্যাতন ও ইভিটিজিং বন্ধে ভূমিকা থাকবে। ওয়ার্ডকে মডেল হিসেবে তৈরি করা হবে।
বর্তমান কাউন্সিলর ও কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-৩ রুমা খাতুন বলেন, ওয়ার্ডে বিরাজমান জলাবদ্ধতা, সড়ক, ও ময়লা-আবর্জনার সমস্যা নিরসন করবে সাধারন ওয়ার্ড কাউন্সিল। এরপরও এসব সমস্যা সমাধানে তিনি নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “জনগণের খাদেম হিসেবে কাজ করে চলেছি। প্রতি সপ্তাহে বিনামূল্যে মা-শিশুদের টিকা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়। সুখে-দুখে সব সময় ওয়ার্ডবাসীর পাশে থেকে সহযোগিতা করে আস্থা অর্জন করেছি। ফলে ওয়ার্ডবাসী আমাকে চার বার কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছেন। এবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এসব কাজকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবো। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের অধিকার আদায় এবং স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণে কাজ করবো।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ