খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৪ মে ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বাঙালির প্রাণের মেলায় ভালোবাসার পরশ 

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:০৪:০০

বাঙালির প্রাণের মেলায় ভালোবাসার পরশ 

‘সখী ভালোবাসা কারে কয়’-বহু বছর আগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এভাবেই ভালোবাসার অর্থ খুঁজেছিলেন। কারণ, ভালোবাসার অর্থ যে গভীর দ্যোতনাময়। দিনটি শুধুই ভালোবাসার। হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের মেলবন্ধনের দিন। প্রেমপিয়াসী হৃদয়ের কাছে বিশেষ গুরুত্ব আছে এ দিনটির। তরুণ-তরুণী শুধু নয়, নানা বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশ করার আনুষ্ঠানিক দিন এটি। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসীর দিনও এটি।  
আর সেই ভালোবাসার পরশ লেগেছে খুলনার একুশে বইমেলায়। মাতৃভাষার ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার টানে একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে ছুটে এসেছে দর্শনার্থী ও বইপ্রেমিরা। গতকাল বুধবার  ভালোবাসা দিবসের আবহ লক্ষ্য করা যায় প্রাণের মেলায়।       
এদিন দুপুরের পর থেকে তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের নগরীর বয়রাস্থ বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী বইমেলায় আসতে শুরু করে। বিকেল গড়াতে ভীড় বেড়ে যায়। ছোট থেকে বড় সব বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয় বইমেলা প্রাঙ্গণ। আর সন্ধ্যায় তা জনস্রোতে পরিণত হয়। প্রিয় মানুষদের সেরা বইটি উপহার দিতে বইপ্রেমীদের ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মতো। ফাগুনের শুরুতে আর ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনের হৃদয়ে প্রেমের ঢেউ তুলতে মেলায় ভীড় জমান তরুণ-তরুণীরা। কিনেন হুমায়ূন আহমেদ, আনিসুল হক, মুহাম্মদ জাফর ইকবালসহ আরও অনেকের বই। মেলায় বিক্রি বেড়েছে প্রেমের কবিতা ও উপন্যাসের। বই কিনতে তরুণ-তরুণীদের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।   
মেলায় এসেছেন ১০নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাসুদ রানা। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, মেলায় এসে ভালো লাগছে। ঘুরেছি আর দেখছি। কেউ তার ভাই, বাবা মায়ের সাথে সন্তান আর বন্ধুর সাথে বন্ধু এসেছে মেলায়। সব মিলিয়ে মেলায় ভালোবাসা দিবসের আবহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের বইমেলায় প্রথম এসেছিলেন মাকসুদা আক্তার। তিনি বলেন, মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। এখানে সুন্দর পরিবেশে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পছন্দের বই কিনতে স্টলে স্টলে ঘুরছি। প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য বই কিনবেন তিনি। দিঘলিয়া থেকে রাশেদ হাসান শাওন সাথে নিয়ে এসেছেন চাচাতো ভাই-বোনকে। রাশেদ ও তার ভাই সালমান ইসলাম বলেন, বসন্ত বরণ উপলক্ষে মেলায় এসেছি। এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে।     
আকসার ব্রাদাসে স্টলের মিরাজুল ইসলাম বলেন, আজ বইপ্রেমীদের সমাগম অনেক বেশী। মেলা জমজমাট রয়েছে। দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। বই বিক্রি হচ্ছে ভালোই। তবে শেষের দিকে আরো ভালো বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী।    
মেলা মঞ্চের অনুষ্ঠান : বিকেলে স্থানীয় কবিদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে দিনের অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়। স্ব-রচিত কবিতা পাঠ করেন এজি রানা, শিরিন আফরোজ বানী, জাকির হোসেন ও অধ্যাপক রিপন আহমেদ। সন্ধ্যায় একতারা শিল্পী গোষ্ঠী ও মিতালী শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। 
উল্লে¬খ্য, মহানগরীর বয়রাস্থ বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গলে চলছে বাঙালির প্রাণের মেলা একুশে বইমেলা। দেখতে দেখতে ১৪ দিন অতিবাহিত হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসন আয়োজিত মাসব্যাপী এ মেলা চলবে আগামী ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আর ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এ মেলা। নিরাপত্তার জন্য মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এবার মেলায় ৮৪টি স্টল রয়েছে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ