খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ অগাস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

মামলার রায়ের কপি গতকালও মেলেনি : সাক্ষাতের অনুমতি পাননি চিকিৎসকরা

কারাগারে খালেদার এক সপ্তাহ

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০:০০

পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র বন্দী হিসেবে এক সপ্তাহ পার করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কারাগারে গত সাতদিনে মাত্র একবার স্বজনদের দেখা পেয়েছেন তিনি। আরেক দফায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ কয়েকজন আইনজীবী। তবে ১১ ফেব্র“য়ারি থেকে নিত্যসঙ্গী হিসেবে ব্যক্তিগত গৃহকর্মী মোছাম্মৎ ফাতেমাকে পেয়েছেন এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেয় বিচারিক আদালত। রায়ের পর বিকেল সোয়া ৩টায় রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে। সেখানে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে রাখা হয় তাকে। সেটি এক সময় সিনিয়র জেল সুপারের অফিস কক্ষ ছিল। পরে আদালতের নির্দেশে ডিভিশন পেলে দোতলায় স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের কপি এক সপ্তাহেও কারান্তরীণ বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের হাতে দিতে পারেননি আদালত কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। এই চিকিৎসকরা নিয়মিত সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেন।
খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আজ (গতকাল বুধবার) সকালে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ডাঃ মোঃ আখতারুজ্জামানের আদালতের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, কপি তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। বিকেল ৪টা নাগাদ তা আইনজীবীদের দেওয়া যাবে।’ ‘কিন্তু বিকেলে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, এ মামলার রায়ের মূল কপি বিচারক বিকেল ৩টায় বেঞ্চ সহকারীর (পেশকার) কাছে কারেকশন করে দিয়েছেন। এখন এ রায়ের অনুলিপি তৈরি করা হবে। এ ছাড়া এ মামলার অন্যান্য কাগজ তৈরি হয়ে গেছে। তাই আজকে (গতকাল) কপি পাওয়া যায়নি। আশা করা যায়, কাল হয়তো আমরা রায়ের কপি পাব,’ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বলেন সানাউল্লাহ মিয়া।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মূল রায় ৬৩২ পৃষ্ঠা হলেও রায়ের অনুলিপি হবে ছয় হাজার পৃষ্ঠার বেশি। ওই অনুলিপি হাতে আসার পরই জামিনের জন্য আপিল করতে পারবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। গতকাল দুপুরে আদালতে গিয়ে দেখা যায়, রায়ের অনুলিপিকে কোর্ট ফি লাগানোর কাজ চলছে। এ ব্যাপারে খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, ‘রায়ের অনুলিপির খবর নাই। এগুলো এজাহার, চার্জশীট, এফআর, জব্দ তালিকা, চার্জ গঠন, সাক্ষী, জেরা, ফরোয়ার্ডিং ইত্যাদি।’
অনুলিপি পাওয়ার পরের ধাপ : ওই কপি দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করবেন বিএনপি’র চেয়ারপারসন। ওই আপিলে জামিনের আবেদন করা হবে। জামিন মঞ্জুর করা হলে ওই আদেশ ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে পাঠানো হবে। এর পরে আদালতে আবার জামিননামা দাখিলের অনুমতি চাইবেন আইনজীবীরা। বিচারক ওই জামিননামা দেওয়ার অনুমতি দিলে খালেদা জিয়ার পক্ষে মুচলেকা (বন্ড) দিতে হবে। তখন একটি রিলিজ আদেশ কারাগারে পাঠানো হবে। ওই রিলিজ আদেশ পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবেন, যদি অন্য মামলায় গ্রেফতার না হন।  
চিকিৎসকরা অনুমতি পাননি : গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে জেলগেটে যান সাত চিকিৎসক। তবে তাঁদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। এই চিকিৎসকরা নিয়মিত সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেন।
এর আগে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন সাত চিকিৎসক। চিকিৎসকদের দলে ছিলেন অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম সেলিম, মোহাম্মদ ফায়াজ হোসেন শুভ ও আনোয়ারুল কাদির বিটু।
পরে জেলগেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাইলে কারা মহাপরিদর্শক এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি এটা আশ্বস্ত করেন যে প্রয়োজন হলে এই চিকিৎসকদেরই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।’
মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস আরো বলেন, যখন একজন মানুষ নির্জন কোথাও মানসিক চাপে থাকেন, তখন তাঁর অনেক রকম শারীরিক সমস্যা হতে পারে। সে কারণেই কারাবন্দি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে এসেছিলেন তাঁরা। তবে অনুমতি না পেলেও কারা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে এসেছেন যে তাঁরা যেন ভালোভাবে খালেদা জিয়ার দেখভাল করেন।
গত ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডাঃ মোঃ আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫৭