খুলনা | শনিবার | ২৬ মে ২০১৮ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বাংলাদেশ ভারত নেপাল ও ভূটানে আজ থেকে এক যোগে শুরু হচ্ছে বাঘ গণনা 

বাগেরহাট প্রতিনিধি   | প্রকাশিত ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫৩:০০

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভূটানে আজ থেকে এক যোগে শুরু হচ্ছে বাঘ গণনা। ১৪ ফেব্র“য়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসটি সুন্দরবন সন্নিহিত ৫টি জেলার পরিবেশবাদীরা সুন্দরবন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এই দিনটিকে গুরুত্ব দিয়েই এক যোগে এ গণনা কাজ শুরু হচ্ছে। বিশ্বের সর্বাধুনিক পদ্ধতি ক্যামেরা ট্রাপিং বা ক্যামেরা ফাঁদের মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা নির্ণয় করা হবে। ৭৫ দিন ধরে ক্যামেরায় গুণবে সুন্দরবনের বাঘ। এজন্য সুন্দরবনের শরণখোলা, চাঁদপাই ও খুলনা রেঞ্জের ২৩৯টি গ্রিড পয়েন্টে ৪৭৮টি অত্যাধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সকালে হিরণ পয়েন্টের নীলকমল ফাঁড়ি থেকে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে বাঘ গণনার কার্যক্রম শুরু হবে। ইউএসএআইডির অর্থায়নে সুন্দরবন বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থা ওয়াইল্ড টিমের ৬০ জন সদস্য প্রতি সপ্তাহে ৪৭৮টি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত ফুটেজ সংগ্রহ করে তা ল্যাবে সংরক্ষণ করবে। এই পদ্ধতিতে সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা যাবে বলে নিশ্চিত করেছে সুন্দরবন বিভাগ।
সুন্দরবন বিভাগ জানায়, বাঘ গণনা বিষয়ে প্রশিক্ষিত হতে বন বিভাগের ৪ জন বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) ১৫ জানুয়ারি থেকে ভারতে ৫ দিন হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এর আগে ২০১০ সালে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ যৌথভাবে সুন্দরবনের খালে বাঘের বিচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জরিপ চালায়। সর্বশেষ সুন্দরবনের বাঘ গণনা জরিপ ২০১৫-এর ফলাফল অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। এর আগে জরিপে সুন্দরবনে ১৯৮২ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৫৩টি, ২০০৪ সালে ছিল ৪৪০টি। এবার সুন্দরবনকে শরণখোলা, চাঁদপাই ও খুলনা রেঞ্জেকে ৩ ব্লকে ভাগ করে বাঘ গণনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘ গণনা করা হয়েছে। এখন খুলনা ও বাগেরহাটের ৩টি রেঞ্জে একযোগে বাঘ গণনা শুরু হচ্ছে। বন কর্মকর্তারা বলেন, এই সময়ের মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বাঘ খুলনা ও বাগেরহাটের ৩টি রেঞ্জের ঢুকে পড়লেও সহজে তা’ চিহ্নিত করা যাবে। ক্যামেরায় ছবি তুলেও তার গতিবিধির অন্য তথ্য-প্রমাণ ব্যাখ্যা করে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ও বাঘ গণনা প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর মদিনুল আহসান বলেন, ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে বাঘের সঠিক সংখ্যা কত তা জানতে ১৪ ফেব্র“য়ারি থেকে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ গণনা শুরু হচ্ছে। ইউএসএআইডির অর্থায়নে বন বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থা ওয়াইল্ড টিম সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্রাপিং করছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য ক্যামেরা ফাঁদ বা ক্যামেরা ট্রাপিং এখন বিশ্বের সর্বাধুনিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা যাবে। ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ সাতক্ষীরা রেঞ্জে ক্যামেরা ট্রাপিং’র মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজ হয়। বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড টিমের প্রতিনিধিরা সুন্দরবনে রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার তারা সুন্দরবনের হাড়বাড়িয়া এলাকায় ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের প্রাকটিস সেরে নিয়েছেন।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, তিনিসহ বন বিভাগের ৪ জন বিভাগীয় কর্মকর্তা বাঘ গণনার বিষয়ে ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভূটানে আজ থেকে একযোগে বাঘ গণনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিশ্বের সর্বাধুনিক পদ্ধতি ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সহতর হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪










ব্রেকিং নিউজ




সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪

সেহরীতে বরকত রয়েছে

সেহরীতে বরকত রয়েছে

২৬ মে, ২০১৮ ০১:১৪