খুলনা | বুধবার | ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

কেমন কাউন্সিলর চাই সংরক্ষিত-৮

দরিদ্র-অসহায় নারীদের উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে আগ্রহী প্রার্থীকে বেছে নিতে চায় ভোটাররা

বি.হোসেন | প্রকাশিত ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৪৫:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২১, ২২ এবং ২৩নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসন-৮। একদিকে রেল বস্তির হত দরিদ্র এলাকা থেকে শুরু করে খুলনার সব থেকে অভিজাত এলাকাও এ আসনের অন্তর্গত। নানামুখি নাগরিক সমস্যার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতনের ঘটনাও এখানে বেশি। তাই নারী নির্যাতন বন্ধ, বাল্য বিবাহ রোধ, অসহায় ও হতদরিদ্র নারীদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্র“তি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন মহিলা কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এদিকে আসনের সাধারণ ভোটাররাও বলেছেন অসহায়-দরিদ্র নারীদের উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে আন্তরিক প্রার্থীকেই বেছে নেবে সাধারণ ভোটাররা।
নগরীর জোড়াগেট কেসিসি পাইকারি কাঁচা বাজার (গরুর হাট) থেকে শুরু করে রূপসা ঘাট হয়ে  হয়ে আবার ফেরিঘাট পর্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে এ আসন। মুলতঃ খুলনা শহরের মূল অংশটি এ আসনের অন্তর্গত। এ আসনের ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা যায়, মাদক, অবাঞ্ছিত কুকুর, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ইভটিজিং এ আসনের নিত্যদিনের সমস্যা। জলাবদ্ধতা এ আসনের ভোটারদের নিত্যদিনের সাথী। খুলনা শহরের পানি রূপসা নদীতে যাওয়ার জন্য রকেট ঘাট, কাস্টমস ঘাট ও রূপসা বেলায়েত এর মোড় এলাকায় অবস্থিত তিনটি স্লুইচ গেটই নষ্ট। ফেরিঘাট মোড় থেকে শুরু করে বাবু খান রোড আর ডাকবাংলো সিমেন্ট্রি রোড থেকে করোনেশন স্কুল হয়ে কমার্স কলেজের সীমানা পর্যন্ত  বিভিন্ন স্থানে সড়ক বাতি নষ্ট। তবে মহিলা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর সব থেকে বড় অভিযোগ এলাকাবাসী ডেকে কাছে পায় না তাকে। নিয়মিত এলাকায় থাকেন না তিনি। 
এদিকে এবারের নির্বাচনে আর অংশ না নেয়ার কথা জানান ওয়ার্ড মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা নাদিরা হোসেন তুলি। তিনি বলেন, “স্বল্প বরাদ্দ দিয়ে মানুষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। আমি মানুষের জন্য কাজ করে যাব নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী, তবে এ নির্বাচন আমার জন্য না। আমি নির্বাচনে অংশ নেবো না।” কাউন্সিলরের নির্বাচনে অনিহা আর এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কারণে বেশ জোরেসোরেই চলছে এ আসনের সম্ভাব্য মহিলা কাউন্সিলরদের প্রস্তুতি।
৮নং আসনের ওয়ার্ডগুলোর অবস্থা ভালো নয়। মহিলা কাউন্সিলরের সাথে এলাকাবাসীর যোগাযোগ কম। এছাড়া নারী নির্যাতনের মত ঘটনা ঘটছে অনেক বলে জানান, সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা হালিমা ইসলাম। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে অসহায় নারীদের উন্নয়ন ও বস্তি উন্নয়ন, বিভিন্ন ভাতা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন বন্ধ করতে কাউন্সিলর হিসেবে ভূমিকা রাখতে চান তিনি। তবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে এলাকায় সর্বস্তরে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর কনিকা সাহা। তিনি বলেন, “মহিলা কাউন্সিলরের সাথে এলাকাবাসীর যোগাযোগ নেই বললেই চলে। দলের প্রতি আমার ত্যাগ ও শ্রদ্ধা এবং এলাকাবাসীর যে ভালোবাসা আমার প্রতি রয়েছে তাতে আমি মনোনয়নে আশাবাদী”। তিনি বলেন, “আমি পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। সমাজে দরিদ্র অসহায় নারীদের পুনর্বাসন করতে চাই। বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে চাই। এলাকার মানুষের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক।” তাদের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী এই কাউন্সিলর প্রার্থী।
এছাড়া সদর থানা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নুরিনা রহমান বিউটি, মহানগর মহিলা লীগের দপ্তর সম্পাদক ও খুলনা সিডিসি টাউন ফেডারেশনের সভাপতি রোকেয়া রহমান আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে আগ্রহী। ইতোমধ্যে এলাকায় বিভিন্ন পোস্টার প্যানা দিয়ে তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্র“তি।
এলাকায় বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি নেত্রী ইসমত আরা কাকন। তিনি বলেন, “একজন নারী হিসেবে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার প্রথম কাজ।” আসনের অধিকার বঞ্চিত নারীদের উন্নয়ন, অন্যান্য নাগরিক সমস্যার সমাধান, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নারী শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখতে চান এই বিএনপি নেত্রী। বলেন, “সার্বক্ষণিক এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি জনগণের ভালবাসায় নির্বাচিত হয়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে আমার সেবার পরিধি বৃদ্ধি করবো। আমি এলাকাবাসীর সাথে মিলে মিশে তাদের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।”
রেল বস্তি এলাকার স্কুল শিক্ষক মুক্তি রানী বলেন, এই এলাকার নারীরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন, মাতৃত্বকালীন সংকট রয়েছে। নারী কাউন্সিলদের কাছে নারীরা অনেক আশা করে। নিজেদের অভিভাবক হিসেবে মনে করে। তাই কাউন্সিলরকেও মানুষের মনের ভাষা বুঝতে হবে। নারীদের উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নেও পুরুষ কাউন্সিলরদের সাথে ভূমিকা রাখতে হবে।
নতুন বাজার চর বস্তি এলাকার তামরিনা আক্তার বলেন, নারীদের মনের কষ্ট শুনবে মাদক নির্মূল করবে সব সময় এলাকাবাসীর কাছে যাবে, পাশে দাঁড়াবে এমন কাউন্সিলরকেই তারা পাশে চায়।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











‘বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নেই’ 

‘বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নেই’ 

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৩৭



ব্রেকিং নিউজ











‘বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নেই’ 

‘বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নেই’ 

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৩৭