খুলনা | মঙ্গলবার | ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

কেমন কাউন্সিলর চাই সংরক্ষিত-৭

শিক্ষিত ভদ্র ও মার্জিত প্রার্থীকেই নিজেদের অভিভাবক হিসেবে চান নারী ভোটাররা

বি. হোসেন | প্রকাশিত ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ২২:৪৯:০০

অন্য সকল সংরক্ষিত ওয়ার্ড তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত হলেও সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডটি আলাদা। ১৯, ২০, ২৫, ২৬ এই চার ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত এ ওয়ার্ডটি। ময়লাপোতা মোড়ের রাধুনী থেকে শুরু করে শিববাড়ি ফুজিকালার পর্যন্ত অপরদিকে হাজী ইসমাইল রোড ও বসুপাড়া মেইন রোড হয়ে শের-ই-বাংলা রোড, কেডিএ এভিনিউ থেকে লোয়ার যশোর রোড এবং শের-ই-বাংলা রোড থেকে খানজাহান আলী রোড হয়ে শিববাড়ি কেডিএ’র মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এ ওয়ার্ড। ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। চারটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হওয়ায় ওয়ার্ডে বরাদ্দও অন্যান্য সংরক্ষিত ওয়ার্ডের তুলনায় একটু বেশি। অন্যান্য ওয়ার্ডের ন্যায় এখানেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। বিভিন্ন প্রার্থী নানা ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্র“তি।
কাউন্সিলর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্ডের বেশিরভাগ শাখা রাস্তা ও লিংক রোড সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের  কোঠায় সংস্কার করা হয়েছে। রকির গলি, নর্থ খাল ব্যাংক রোড, বি কে রায় রোড, আজগর আলী লেন, আরামবাগ ঠাকুরবাড়ি লেন, গল্লামারী রোড ও কোবা মসজিদ রোডসহ অনেক রাস্তাঘাট সংস্কার করা হয়েছে। তবে এলাকা ঘুরে সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান কাউন্সিলরকে সাধারণ মানুষ কাছে পায় না। নিয়মিত অফিস করেন না তিনি। আর এলাকার সাধারণ নারীদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক নয় এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। তাদের মতে, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড বিতরণেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে বর্তমান কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ২০০৮ সাল থেকে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে কাউন্সিল রয়েছেন সোনাডাঙ্গা থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদা বেগম।
এ ওয়ার্ডের আওতাধীন বানরগাতি এলাকার শহিদ হাজী ইসমাইল রোড এলাকার কালাম ও শেখপাড়া এলাকার নারী ভোটার তামান্না আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, মহিলা কাউন্সিলর এর কাজই হল ওয়ার্ডের নারী ভোটারদের সুখে দুঃখে সব সময় পাশে থাকা। নারীদের উন্নয়নে কাজ করা। এলাকার উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। বাল্যবিবাহ রোধ করা। নারী নির্যাতন বন্ধ করা। এবারের নির্বাচনে শিক্ষিত ভদ্র, মার্জিত ও জনকল্যাণে আগ্রহী এমন আন্তরিক প্রার্থীকেই বেছে নেবো। এলাকার অনেকেই এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ২০১৩ এর নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এবারের নির্বাচনে দলের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামনুরা জাকির খুকুমনি। ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্তরে এখনও জনপ্রিয় এই নেত্রী দলের সমর্থনের ব্যাপারে আশাবাদি। দলের উপর আস্থা রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্র“তি। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত এই নেত্রী বলেন, “গত দুই টার্ম কাউন্সিলর না থেকেও এলাকাবাসীর উন্নয়ন থেকে এক পা পিছিয়ে নেই। ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সামর্থ্যরে বাইরে গিয়েও সাধারণ মানুষের উন্নয়ন করেছি। এবারে দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়ে সমাজে পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করতে চাই। বাল্য বিবাহ বন্ধ ও নারী অধিকার রক্ষায় একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়তে চাই এই ওয়ার্ডকে। 
ওয়ার্ডে বিএনপি’র একক প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন মহানগর মহিলা দলের সদস্য শামসুন্নাহার লিপি। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত সুশিক্ষিত এই বিএনপি নেত্রী এ ওয়ার্ডের নারীদের কল্যানসহ নাগরিক সকল সুবিধা মানুষের দ্বারে পৌঁছাতে কাজ করছেন বলে জানান। ওয়ার্ডে বিদ্যমান নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নির্বাচিত হতে পারলে এ ওয়ার্ডের নারীদের অধিকার সংরক্ষণ ও নাগরিক সমস্যার সমাধানই হবে আমার প্রধান কাজ। সমাজে অধিকার বঞ্চিত নারীদের অভিভাবক হিসেবে সার্বক্ষণিক কাজ করতে চাই।” আওয়ামীলীগের প্রার্থী হতে আগ্রহী ওয়ার্ড মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সাবিয়া ইসলাম আঙ্গুরা।
বর্তমান কাউন্সিলর মাহমুদা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, “নির্বাচনের আগে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্র“তির নব্বই শতাংশই আলহামদুলিল্লাহ বাস্তবায়ন করেছি। কিছু বাকি আছে, এবারে নির্বাচিত হতে পারলে বাকিটাও হবে ইনশাল্লাহ।” তিনি দাবি করেন, “কাউন্সিলর হিসাবে দলমত নির্বিশেষে সকলের পাশে থাকি। এলাকার উন্নয়নে পুরুষ কাউন্সিলরদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করেছি। কতটুকু সফল হয়েছি তার বিচার জনগণের হাতে। এলাকার নারী নির্যাতন ও বাল্য বিবাহ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছি, একটি ওয়ার্ডে পুরুষ কাউন্সিলর উপস্থিত না থাকায় সেখানে সার্বক্ষণিক সার্ভিস দিয়েছি। চেষ্টা করেছি। বিচার করবে জনগণ।”


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ