খুলনা | রবিবার | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

আন্তর্জাতিক এপিলেপ্সি দিবসে বক্তারা

মৃগী রোগীদের নিয়ে ভয়ের কারণ নেই সুচিকিৎসায় পাওয়া যায় সুস্থ জীবন

খবর বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশিত ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ২২:৩২:০০

মৃগী রোগীদের নিয়ে ভয়ের কারণ নেই সুচিকিৎসায় পাওয়া যায় সুস্থ জীবন

অনেক সময় চলতি পথে খিচুনি উঠে রাস্তায় ঘুরে পড়েন কোন ব্যক্তি। পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এসে হয়ত কেউ নাকের কাছে চামড়া জাতীয় কিছু ধরেন আবার কেউ গোবর বা এ জাতীয় কিছু নিয়ে আসেন নাকের সামনে। কেউ হয়ত পানি ছিটিয়ে দেন তার মাথায় বা শরীরে। এমন পরিস্থিতিতে ২/৪ মিনিট যখন ব্যক্তিটির স্বস্থি ফিরে আসে তখন হয়ত মনেই করা হয় চামড়া বা গোবরের ঘ্রান অথবা পানির কারনেই ব্যক্তিটি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এমন ধারণা মোটেই ঠিক নয়। এ ধরনের রোগকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বলা হয় মৃগী রোগ। যাকে ইংরেজিতে বলা হয় এপিলেপ্সি। এ রোগ যার থাকবে তাকে নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার কিছুই নেই। এমনিতেই ২/১ মিনিট পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। শুধুমাত্র তিনি যাতে শক্ত কোন স্থানে পড়ে না যান অথবা তার শরীরে যেন কোন আঘাত না লাগে সেটিই দেখতে হবে। 
গতকাল সোমবার সকালে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে খুলনা শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় এমনটিই উল্লেখ করেছেন বক্তারা। সুচিকিৎসায় মৃগী রোগ ভাল হয় এবং এর মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন-যাপন সম্ভব বলেও বক্তারা জানান। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘জীবনই সুন্দর’।
এর আগে হাসপাতাল চত্বরে র‌্যালি বের হয় এবং পরে বহির্বিভাগে রোগী ও তাদের স্বজনদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত পথসভায়ও চিকিৎসকরা বক্তৃতা করেন। সভায় জানানো হয়, দেশে শতকরা একজন লোক মৃগী রোগে আক্রান্ত।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামীর সভাপতিত্বে এবং ডাঃ মোঃ কামরুল হকের পরিচালনায় এ সময় মৃগী রোগ সম্পর্কিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের নিউরোলজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও এশিয়ান এপিলেপ্সী একাডেমীর ফেলো ডাঃ আবদুস সালাম। অন্যান্যের মধ্যে নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডাঃ রুহুল কুদ্দুস বক্তৃতা করেন। হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা নেয়া বেশ কিছু রোগী ও রোগীদের অভিভাবকরাও এসময় তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতালে এপিলেপ্সি বিভাগ থাকলেও এ বিভাগের জন্য পৃথক কোন ওষুধ সরবরাহ না থাকায় অনেক গরীব রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয় উল্লেখ করে রোগীরা এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বক্তারা বলেন, মৃগী রোগীদের ক্ষেত্র বিশেষে ডায়াবেটিস, প্রেসার, থাইরয়েডের ন্যায় সারাজীবন ওষুধের প্রয়োজন হয়। সুতরাং সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত হলে গরীব রোগীরা বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবেন।
মৃগী রোগীদের জন্য হাসপাতালে যেমন জরুরী সেবা রয়েছে তেমনি বহির্বিভাগের মাধ্যমে সেবা দেয়ার পাশাপাশি রয়েছে পৃথক ওয়ার্ডও। যেখানে ছয়টি রোগী ভর্তি রেখেই চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। এছাড়া এজন্য মূলতঃ যে পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো প্রয়োজন সেগুলো অর্থাৎ ইইজি, ভিডিও ইইজি, এমআরআই, সিটি স্ক্যান এবং রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও আবু নাসের হাসপাতালে স্বল্প মূল্যে করার সুযোগ রয়েছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫০








ব্রেকিং নিউজ






ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫০