খুলনা | সোমবার | ১৬ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

জনমত পক্ষে, প্রশাসনও বলছে ইতিবাচক

খালেদার রায়ের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত খুলনা বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০১:৪৮:০০

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের সাজার প্রতিবাদে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত খুলনা বিএনপি’র নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। গণগ্রেফতার, পুলিশী হয়রানি ও সহিংসতা এড়িয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। একই সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অবিশ্বাসযোগ্য মনে করায় তৃণমূলে জনমত বাড়ছে বলে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এসব কর্মসূচিকে ইতিবাচক বলছেন প্রশাসনও।
সরেজমিন দেখা গেছে, গত ৮ ফেব্র“য়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার মুহূর্তে নগরীর দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন একাই নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন নেতা-কর্মী দলীয় কার্যালয়ের সিঁড়িতে বসেছিলেন নির্দেশনার অপেক্ষায়। দীর্ঘক্ষণ এ সীমিত সংখ্যক নেতা-কর্মী বিক্ষোভকালে নগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, যুগ্ম-সম্পাদক তারিকুল ইসলাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চলসহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। পরে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবাদুল হক রুবায়েতের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল থানা মোড়ের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে। এভাবে শেষ হয় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ। পরদিন ৯ ফেব্র“য়ারি জুমাবাদ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে নগর বিএনপি। নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। জেলা বিএনপি সংক্ষিপ্ত পরিসরে মিছিল করে সাউথ সেন্ট্রাল রোডে। গতকাল সকালে জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা’র সভাপতিত্বে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। জেলার সমাবেশে শেষ হলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শুরু হয় নগর বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ। এতে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতোই। রায় ঘোষণার পরপরই তৃণমূল নেতা-কর্মীরা আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন থাকলেও পরবর্তীতে অহিংস কর্মসূচিতে এভাবেই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়ছে। জেলা ও নগর যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ বিএনপি’র পদ-পদবীধারী অনেক নেতার চেয়েও বেশি অংশগ্রহণমূলক বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছেন।
গতকাল কয়েকজন তৃণমূল কর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, “বিএনপি’র অহিংস প্রতিবাদ কর্মসূচির ফলে তৃণমূলে জনপ্রিয়তা ব্যাপক বেড়ে গেছে। ক’দিন আগে পর্যন্ত যারা উন্নয়নের শ্লোগান দিতেন, তারা এখন বলছেন-খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বিশ্বাস করা যায় না। এটা শুধু বিএনপি নেতা-কর্মীরা নন, সাধারণ মানুষও বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তারা।” অরাজনৈতিক ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেও অনুরূপ অনুভূতি জানা গেছে।
নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “জনগনের দল বিএনপি, সব সময় অসহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাসী। অপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হবার পূর্বেও আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে। জনগণকে সাথে নিয়েই গণবিপ্লবের মাধ্যমে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্ত করে আনা হবে।” প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, “বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশীর নামে হয়রানি, মহিলাদের সাথে দুর্ব্যবহার ও গণগ্রেফতার আতঙ্কে সৃষ্টির করা থেকে বিরত থাকুন। ভুলে যাবেন না-আপনারা রাষ্ট্রের কর্মচারী। আমরা আপনাদের প্রতিপক্ষ নই, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সহযোদ্ধা। কষ্ট করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালাতে হবে না; বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে খুলনা মহানগরীতে পাঁচ হাজার নেতা-কর্মী স্বেচ্ছায় কারাবরণে প্রস্তুত রয়েছি।” গতকাল সমাবেশে সভাপতিত্বে বক্তৃতায় আগামী কর্মসূচিতে প্রত্যেককে বাড়তি আরও পাঁচজন করে কর্মী নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ আব্দুল্লাহ আরেফ বলেন, “শান্তিপুর্ণ কর্মসূচি পালনে সরকারের কোন বাধা থাকতে পারে না। তবে কোন উস্কানী থাকলে ভিন্ন কথা। বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি করছে, এটা ইতিবাচক দিক। কোন প্রকার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রতিরোধে জিরোটলারেন্স রয়েছি। তাই খুলনাবাসীর আতঙ্কের কিছুই নেই। সকলকে শান্তিপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










আটরা গিলাতলায়  গাঁজাসহ আটক ১

আটরা গিলাতলায়  গাঁজাসহ আটক ১

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০১:২৫