খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপ চাইলেন মোহাম্মদ নাশিদ

মালদ্বীপে জরুরী অবস্থা জারীর পর সাবেক  প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বিচারপতি গ্রেফতার

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০:০০

মালদ্বীপে চলমান সংকট সমাধানে দেশটির নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ সার্কের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্র ভারতের সামরিক উপস্থিতি ও সহায়তা চেয়েছেন। নয়াদিল্লিকে তিনি ‘দ্রুত ভূমিকা’ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাও চেয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম গতকাল মঙ্গলবার এখবর দিয়েছে। খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম সোমবার দেশটিতে জরুরী অবস্থা জারি করার পর মঙ্গলবার মোহাম্মদ নাশিদ এক বার্তায় এই আহ্বান জানান। 
মোহাম্মদ নাশিদের মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টি সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে পরিচালিত হয়। মঙ্গলবার সেখান থেকেই নয়াদিল্লি কাছে  দ্রুত সাহায্য কামনা করে জরুরী বার্তাটি পাঠান তিনি। 
নিজে দল মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টির মাধ্যমে নয়াদিল্লির কাছে পাঠানো বার্তায় নাশিদ বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমসহ আটক সবাইকে মুক্ত করে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা চাই ভারত তার সামরিক বাহিনীর কন্টিনজেন্টসহ রাষ্ট্রদূত প্রেরণ করুক। আমরা (মালদ্বীপে) ভারতের দৃশ্যমান উপস্থিতি চাইছি।
নয়াদিল্লির কাছে পাঠানো বার্তায় তিনি আরও বলেন, তাকে (প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম) ক্ষমতা থেকে অবশ্যই সরিয়ে দিতে হবে। বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি, বিশেষ করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের  প্রতি মালদ্বীপের জনগণের পক্ষ থেকে এটা এক ন্যায়সঙ্গত অনুরোধ। 
মোহাম্মদ নাশিদ যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন  স্বৈরাচারি ইয়ামিন গাইয়ুম সরকারের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দেয় সেজন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেন। প্রসঙ্গত, মোহাম্মদ নাশিদই (৫০) হচ্ছেন মালদ্বীপের ইতিহাসের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট।
সাবেক প্রেসিডেন্ট গ্রেফতার : দ্বীপদেশ মালদ্বীপের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থা জারির পর সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে দেশটির প্রধান বিচারপতিসহ আরেক বিচারপতিকে।  মঙ্গলবার  প্রথম প্রহরে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে সংবাদমাধ্যম জানায়। সোমবার রাতে দেশটিতে ১৫দিনের জন্য জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এর পরপরই সুপ্রিম কোর্ট থেকে মালদ্বীপের প্রধান বিচারপতি আবদুল্লাহ সাঈদ ও বিচারপতি আলী হামিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 
প্রায় একই সময়ে ১৯৭৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমকে মালের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। মামুন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুমের সৎভাই। 
গ্রেফতার প্রসঙ্গে টুইট বার্তায় পুলিশ বলছে, মামুনের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তিনিসহ প্রধান বিচারপতি ও আরেকজন বিচারপতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সার্কভুক্ত একমাত্র দ্বীপদেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ‘মালদ্বীপ ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ বলছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিচারপতিদের গ্রেফতার করায় সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তবে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম মুয়াজ আলী বলেন, সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরী অবস্থা জারি হলেও সাধারণ মানুষের চলাফেরা, চাকুরি বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। 
সম্প্রতি মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ ও বিরোধী দলের ১২ সংসদ সদস্যকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে আপিলে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজাকে ‘অসাংবিধানিক’ হিসেবে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তাই তাদের সাজা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। 
মালদ্বীপ বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক এ্যাটর্নি জেনারেল হুসনু আল সৌদ রয়টার্সকে বলেছেন, ‘‘জরুরী অবস্থার অর্থই হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের সব কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া। এর অর্থ বিচার বিভাগের দায়িত্বে কেউ আর নেই। বিচার বিভাগ কার্যত অরক্ষিত।’’


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬