খুলনা | মঙ্গলবার | ১৪ অগাস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ইসলামে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানীর মর্যাদা

মুফতী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল | প্রকাশিত ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৭:৫৮:০০

শিক্ষা জাতির মেরুদ-। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। একটি জাতির সভ্যতা ও সংস্কৃতির উন্নতি-অবনতি নির্ভর করে তাদের শিক্ষার ওপর। যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত উন্নত ও সমৃদ্ধ। শিক্ষাহীন জাতি চোখ থেকেও অন্ধ। তাই বলা হয়, অজ্ঞতা অন্ধকারের সমতুল্য। সমাজের জন্য প্রয়োজন শিক্ষার আলো। জ্ঞান কেবল বই-পুস্তকের মাধ্যমেই অর্জন করা যায় না। আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনযাপন থেকেও আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি। জ্ঞানের মাধ্যমেই সাগরের বিশাল তিমি আর ডাঙার বিশাল হাতিকে বশ করা সম্ভব। জ্ঞানের কারণেই মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইসলামে জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই তো ইসলামে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। পবিত্র কোরআনে নামাজ পড়ার কথা ৮২ বার তাকিদ দেওয়া হয়েছে এবং জ্ঞানচর্চার ওপর তাকিদ দেওয়া হয়েছে ৯২ জায়গায়। নবীর (সা.) প্রতি মহান আল্লাহর প্রথম আদেশই হলো, (ইকস্ফরা) পড়ো। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন : পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহাদয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না (আলাক :১-৫)।
ইসলাম যেহেতু নিখুঁত মতাদর্শ এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা, তাই জ্ঞান ছাড়া এ আদর্শ ও জীবন ব্যবস্থার অনুসারী হওয়া যায় না। সহজ কথায় বলতে গেলে, ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থা, যার অপরিহার্য দাবি হলো- তাকে জানা, অতঃপর মানা। মুসলিম বলা হয় সেই ব্যক্তিকে, যিনি ইসলামকে জানেন ও মানেন।
অবশ্য এই মূলনীতিটি সব কার্যকরী ও নির্বাহী ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আল্লাহতায়ালা মানবজীবনের সর্বস্তরে ইসলামকে মানার ও কার্যকর করার জন্যই পাঠিয়েছেন। যেহেতু না জেনে এবং না বুঝে কোনো কিছুই মানা ও কার্যকর করা যায় না। তাই ইসলামকে জানা, বোঝা এবং ইসলামের সঠিক ও যথার্থ জ্ঞানার্জন করা অতীব জরুরি ও অপরিহার্য ফরজ। আল্লাহতায়ালা দুনিয়াকে দারুল আসবাব (উপকরণের জগৎ) বানিয়েছেন। এখানে মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রয়োজনগুলো পূরণ এবং অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য মানুষকে দান করা হয়েছে পঞ্চইন্দ্রিয় ও জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে। এগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য ইসলাম পূর্ণমাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছে।
জাগতিক জ্ঞান অর্জনের হুকুম :এ প্রসঙ্গে ইমাম গাজালী (রহ.) বলেন, অনুমোদিত জাগতিক জ্ঞান দুই ভাগে বিভক্ত- ১. যা চর্চা করা অপরিহার্য; ২. যা চর্চা করা উত্তম। প্রথমটি হচ্ছে, ওইসব জ্ঞান যা জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য। যেমন- চিকিৎসা বিদ্যা। স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য এই জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। একইভাবে গণিত। লেনদেন, মিরাছ বণ্টন ইত্যাদি বিষয়ে তা প্রয়োজন। গোটা জনপদে যদি এ জ্ঞানে পারদর্শী কেউ না থাকে, তাহলে মানবজীবন অচল-বিকল হয়ে যাবে এবং সবাই কষ্ট পাবে। একইভাবে কৃষি, বয়ন, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদির মৌলিক পর্যায়ের জ্ঞানও আবশ্যক (ইহইয়াউ উলুমুদ দ্বীন, ১/২৯-৩০)।
পক্ষান্তরে যা মানুষকে কুফর ও ইলহাদের দিকে টেনে নিয়ে যায়, তা চর্চা করা হারাম। যেমন ইসলামবিরোধী প্রাচীন ও আধুনিক দর্শন, কুফরি সাহিত্য এবং সুদ গ্রহণের কৌশল ইত্যাদি। তদ্রুপ অকল্যাণ ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় চর্চা করাও নিষেধ। মোটকথা, পার্থিব জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর জ্ঞান অর্জন ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও কাম্য। তাই জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানকে মৌলিকভাবে অনৈসলামিক মনে করার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণের ফলে শিক্ষার উপাদান ও পরিবেশে নাস্তিকতা ধর্মহীনতার অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে; যা আমাদের মতো একটি মুসলিম দেশের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। একটু চিন্তা করলেই দেখা যায়, সংশ্নিষ্ট বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য এসব দর্শন ও অনৈসলামিক শিক্ষার কোনো প্রয়োজনই ছিল না।

এ প্রসঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাগতিক জ্ঞান ও কলাকৌশল অর্জন করার একটি খালেছ দ্বীনী দিকও থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে তা দ্বীনী খেদমত হিসেবেই বিবেচিত হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে মুসলমানদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সামরিক শক্তিতে সর্বোচ্চ পারদর্শিতা প্রয়োজন। কোরআন মাজিদে সে আদেশ করা হয়েছে এভাবে, ‘তোমরা তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি অর্জন করো (আনফাল :৬০)।
অতএব, ইসলামের খেদমতের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করা হলে সেটা আর দুনিয়াবি কাজ থাকে না, বরং ইসলামের খেদমত হিসেবে গণ্য হয়। তদ্রুপ দ্বীনের প্রচার-প্রসারের জন্য কম্পিউটার শিক্ষা, প্রযুক্তি ও প্রকাশনার অত্যাধুনিক মাধ্যমগুলোর জ্ঞান অর্জন করার প্রয়োজন অপরিসীম।
দ্বীনী শিক্ষার ফজিলত : হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এমন ইলম শিখল, যা শুধু আল্লাহর জন্যই শেখা হয়, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না (আবু দাউদ :৫১৫)।
পক্ষান্তরে জীবনের সব কাজ ইসলামের বিধান মোতাবেক করার জন্য দ্বীনী শিক্ষার বিকল্প নেই। দ্বীনী ইলমের চর্চা ও বিকাশের মাধম্যেই সমাজে ইমান-আমল, আল্লাহভীতি ও আখেরাতমুখিতা সৃষ্টি হবে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ছাড়া যেমন আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জন করা যায় না, তেমনি দুনিয়ার জীবনেও দুর্নীতি, অনাচার, জুলুম ও শোষণ থেকে মুক্ত থাকা যায় না। এ জন্য আখেরাতে কামিয়াবি ও দুনিয়ায় শান্তি-নিরাপত্তার জন্য দ্বীনী ইলমের চর্চা অপরিহার্য।
মুসলমান যদি তাদের গৌরবময় অতীত ফিরে পেতে চায়, তাহলে তাদের এ পন্থাই অনুসরণ করতে হবে।
প্রভাষক (আরবি বিভাগ), চাটখিল কামিল (এমএ) মাদ্রাসা, চাটখিল, নোয়াখালী
সূত্র : সমকাল 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


হজে গুনাহ মাফ হয়

হজে গুনাহ মাফ হয়

১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৩:২৫

শাওয়ালের ছয় রোজা

শাওয়ালের ছয় রোজা

২০ জুন, ২০১৮ ১৩:১১

দুই ঈদের রাত খুবই বরকতময়

দুই ঈদের রাত খুবই বরকতময়

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৪৫




শবে কদর কবে? 

শবে কদর কবে? 

১০ জুন, ২০১৮ ০১:০৯


ফিতরা হলো রোজার যাকাত 

ফিতরা হলো রোজার যাকাত 

০৮ জুন, ২০১৮ ০১:৩৯




ব্রেকিং নিউজ





শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

১৪ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:১৭