খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ অগাস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

যশোরের পাঁচ মহাসড়ক এখন মরণ ফাঁদ : ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ

জাহিদ আহমেদ লিটন, যশোর | প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০১:২৭:০০

যশোরের পাঁচটি মহাসড়ক এখন মানুষের মরণ ফাঁদ ও চরম দুর্ভোগের কারণ। এ কারণে ক্ষোভে ফুঁসছে এ অঞ্চলের মানুষ। অথচ এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, রাজনীতিকমহল, জনপ্রতিনিধি কারো কোন মাথাব্যথা নেই। এ যেন এক হরি ঘোষের গোয়ালে বসবাস করছে যশোরের মানুষ। অজানা আতঙ্কে সবাই যেন মুখ গুজে বসে আছে। চাপিয়ে দেয়া নির্যাতন মাসের পর মাস সবাই মুখ বুজে সহ্য করছে।
যশোর-খুলনা, যশোর-বেনাপোল, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-মাগুরা এবং যশোর-নড়াইল এই পাঁচটি মহাসড়ক এখন মোটেই যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। গত বছরের জুলাইয়ের ভারীবর্ষণে এই সড়কগুলো ভেঙে চুরে বিবর্ণ হয়ে যায়। চলাচলের ব্যবস্থা করতে ইট বালু দিয়ে জোড়াতালির কাজও করা হয়নি। এসব সড়কের পিচ ও পাথর উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও আবার পিচের রাস্তার ওপর ইটের সোলিং দেয়া হয়েছে। এ কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে। প্রতিদিনই মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে কোন না কোন সড়কে। আর গত বছরের জুলাই থেকে মানুষ মাসের পর মাস নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছে। 
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচটি জাতীয় সড়ক ছাড়াও যশোরের রাজারহাট, মণিরামপুর, কেশবপুর, চুকনগর, কেশবপুর-সরসকাঠি-কলারোয়া সড়ক এবং মনিহার হয়ে খুলনা যাবার সড়কগুলো ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। এর মধ্যে যশোর-খুলনা মহাসড়ক ৩৮ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে চাঁচড়া মোড়, মুড়লী, রাজঘাট, বসুন্দিয়া, প্রেমবাগ, চেঙ্গুটিয়া ও ভাঙ্গাগেট পর্যন্ত বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
যশোর-বেনাপোল সড়কের ৩৮ কিলোমিটারের মধ্যে পুলেরহাট থেকে নাভারণ মোড় পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা বেহাল। সড়কটির এমন অবস্থা যে, গাড়ি চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। যশোর থেকে বেনাপোল যেতে ৪০ মিনিট সময় লাগলেও রাস্তা খারাপের কারণে সময় লাগছে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা।
অন্যদিকে, যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১২ কিলোমিটার সড়ক একেবারেই বিধ্বস্ত। সড়কের পালবাড়ী মোড় থেকে ঝিনাইদহের পাগলা কানাই পর্যন্ত বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা যশোর-মাগুরা সড়কের। এই সড়কটির ২২ দশমিক ৫ কিলোমিটার সীমাখালী ব্রিজ পর্যন্ত যশোরের, এটি এখন মরণ ফাঁদ। এ সড়কে গাড়ি চলছে কিভাবে সেটিই আশ্চর্যের বিষয়, পুলেরহাট থেকে লেবুতলা বাজার ও রজনীগন্ধা পাম্প পর্যন্ত ইট-বালু খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ প্রচন্ড ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যানবাহনে চলাচল করছে।
যশোর-নড়াইল সড়কের ২০ কিলোমিটার মণিহার থেকে হামিদপুর অংশের পর থেকে একই অবস্থা বিরাজ করছে। এ সড়কের বাউলিয়া বাজার থেকে শুরু করে চাঁচড়া বাজার পর্যন্ত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়ক জুড়েই রয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত।
যশোর-খুলনা সড়কের মণিহার মোড় থেকে নওয়াপাড়া রাজঘাট পর্যন্ত পুরোটাতেই খানা-খন্দ। যে কারণে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। প্রতিদিনই এ রাস্তা দিয়ে খুলনা, ঢাকা, কুষ্টিয়াসহ আঞ্চলিক রুটের শত শত বাস-ট্রাক চলাচল করে।
ওই রুটে চলাচলকারী ট্রাক চালক শামীম হোসেন বলেন, গত বছর ধরে শুনে আসছি খুব দ্রুতই সড়কটি সংস্থার হবে। তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বরং দিন দিন আরও ভয়াবহ অবনতি হচ্ছে।
অন্যদিকে, কয়েক মাস আগে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ভাঙা অংশে বিটুমিনের উপর ইট বিছিয়ে যোগাযোগ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হলেও সে সব স্থানে আবারও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া, পুলেরহাট ও ঝিকরগাছা উপজেলার সেতুর দুই পাশে আমদানি ও রপ্তানি পণ্য বোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবহনের তীব্র যানজটে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এতে দুই দেশের আমদানি রপ্তানি চরমভাবে বিঘœ ঘটছে। সড়কটি সংস্কারে গত ঈদুল আযহার আগে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী পদক্ষেপের কথা বললেও তা কথার কথাই হয়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর অঞ্চলের এ মহাসড়কগুলো সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কয়েক দফা নির্দেশনা দেন কর্তৃপক্ষকে। আর মন্ত্রীর এ নির্দেশনার পরও সওজ’র পক্ষ থেকে শুধু আশ্বাসই দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্ণ হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র এক বছর সময় বাকি। এ সময়ের মধ্যে আদৌ সড়কগুলো সংস্কার হবে কিনা তা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। আর জনগণ সুযোগ পেলে এসব ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫৭