খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ অগাস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ছয় পাটকলে কর্মবিরতি অব্যাহত 

সুদানে পণ্য বিক্রির প্রথম কিস্তির অর্থ এসেছে 

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০১:২২:০০

বকেয়া মজুরির দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। গেল ২২ কর্মদিবস কর্মবিরতির ফলে মিল এলাকা নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে। ঘুরছে না উৎপাদনের চাকা। এরই মধ্যে সুদানে বিক্রিত পাটপণ্যের প্রথম কিস্তির অর্থের চেক এসেছে। কিন্তু মজুরি কবে নাগাদ পরিশোধ করা হবে সে বিষয়ে এখনও শ্রমিক নেতা এবং মিল কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্পষ্ট কোন আলোচনা হয়নি। আর আজকের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরির পরিশোধের বিষয়ে সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এমন কি মিলের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। তবে দু-এক দিনের মধ্যে মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং শ্রমিকরা কাজে যোগদান করবে বলে আশাবাদী মিল কর্তৃপক্ষ ও বিজেএমসির কর্মকর্তারা। 
শ্রমিকরা জানায়, পাটকলগুলোর শ্রমিকের পরিবার-পরিজন নিয়েই গড়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল পরিবার। সপ্তাহ শেষে ওই টাকার ওপরই সবার খাবার নির্ভর করে। কিন্তু ৪ থেকে ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত মজুরি বকেয়া থাকায় সবার অবস্থাই নাজুক। 
শ্রমিক ইউসুফ মৃধা ও মিজান বলেন, খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের সবাই একটা পরিবারের মতো। পাটকলগুলো খারাপ চললে এর প্রভাব পড়ে পুরো শিল্পাঞ্চল এলাকায়। দু’এক সপ্তাহ মজুরি না পেলে একজন অন্যজনকে চালিয়ে নেয়। দোকানদাররা বাকি দেয়। কিন্তু মাসের পর মাস মজুরি বকেয়া পড়ায় সবারই এখন প্রাণ যায় অবস্থা। 
রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের কার্যকরী আহবায়ক মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি এখনও পরিশোধ করা হয়নি। ছয় পাটকলে কর্মবিরতি চলছে। মিল কর্তৃপক্ষ বলেছিল টাকা পাওয়া গেলে শ্রমিকদের মজুরি প্রদান করা হবে। অথচ বিক্রিত পণ্যের টাকা আসলেও মিল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে শ্রমিক নেতা বা শ্রমিকদের সাথে কোন আলোচনাই করছে না। ফলে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ বাড়ছে। আজকের মধ্যে মিল কর্তৃপক্ষ মজুরি প্রদানের বিষয়ে কোন সুষ্ঠু সমাধান না করলে মিলের বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন এই শ্রমিক নেতা। 
স্টার জুট মিলের সিবিএ সভাপতি বেল্লাল মল্লিক বলেন, সুদানে বিক্রিত পণ্যের প্রথম কিস্তিও টাকা এসেছে এমনটা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে মিল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। তবে মজুরি পাওয়া সাপেক্ষে শ্রমিকদের পরামর্শ নিয়ে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 
পাটকলগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলে বর্তমানে ২৬ হাজার ৭১৮ জন শ্রমিক কাজ করেন। নিয়মিত মজুরি প্রদান না করায় শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া পড়ে। এ কারণে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে প্লাটিনাম, ক্রিসেন্ট, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলীম, ইস্টার্ন ও জেজেআই এই আট পাটকলে শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে। এসব পাটকলে বকেয়া মজুরির পরিমাণ ৩৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকদের দু’সপ্তাহের মজুরি প্রদান করা হয়েছে। আর বাকী ছয় পাটকলে এখনও কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এ অঞ্চলের ৯টি পাটকলে ২১৫ কোটি টাকা মূল্যের ২১ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদিত পাটজাত পণ্য গুদামজাত হয়ে আছে। এরই মধ্যে সুদানে বিক্রিত পাট পণ্যের অর্থ চেকের মাধ্যমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিজেএমসির কর্মকর্তারা। 
প্ল¬াটিনাম জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মোঃ শাহজাহান  জানান, শ্রমিকরা এখনও কাজে যোগদান করেনি। মিলে টাকা আছে। তবে এখনই সব বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব না। বিজেএমসি থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হবে। আর মিল চালুর বিষয়ে আজ-কালের মধ্যে সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী। 
বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী গাজী শাহাদাত হোসেন বলেন, সুদানে বিক্রিত পণ্যের প্রথম কিস্তির চেক এসেছে। দ্রুত শ্রমিকদের মজুরি প্রদান করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

হারে শেষ প্রোটিয়াদের লঙ্কা সফর

১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫৭