খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

কাউন্সিলরের অফিস ও কমিউনিটি সেন্টার নেই

মাদক আর জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে এবার সেবক বেছে নিতে চান ওয়ার্ডবাসী

বি. হোসেন | প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০১:২১:০০

চল্লিশ হাজারের বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ড। বর্তমান ভোটার সংখ্যা ২৫ সহস্রাধিক। ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ওয়ার্ডটিতে রয়েছে জিয়া হল, বিভাগীয় যাদুঘর, একাধিক অভিজাত হোটেলসহ সরকারি-বেসরকারি জনগুরুত্ব সম্পন্ন নানান স্থাপনা। তবে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষের সংখ্যাও কম নয়। ভৌগলিক গুরুত্বের পাশাপাশি ওয়ার্ডটি রাজনৈতিক ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ডের বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপশি মানহীন অবকাঠামো এবং দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বর্তমান কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। আর এসবের মধ্যেই আসছে ৫ম কেসিসি নির্বাচনে ‘কেমন কাউন্সিলর চাই’ সাধারণ ভোটারদের কাছে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেছেন, মাদক আর জলাবদ্ধতা এই ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা। এর থেকে মুক্তি পেতেই এবারে নিজেদের সেবক বেছে নিতে চান তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ডের পূর্বে রয়েছে ২৫নং ওয়ার্ড, দক্ষিণে হাজী ইসমাইল রোড ও ২৫নং ওয়ার্ডের অংশ বিশেষ, পশ্চিমে ময়ূর নদী আর উত্তরে এম এ মজিদ স্মরণি। ওয়ার্ডটি অন্তত ৫টি ওয়ার্ডের পানি ও অন্যান্য বর্জ্য নিষ্কাশনের আউটলেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অত্যন্ত নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতা এ ওয়ার্ডের নিত্যদিনের সঙ্গী। বড় বড় ড্রেন সময়মত পরিষ্কার না করায় গন্ধে পাশ থেকে হাঁটাও অনেকটা দুষ্কর ওয়ার্ডবাসীর জন্য। যে কারনে কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থাই ওয়ার্ডবাসীকে মশার উপদ্রব থেকে রেহাই দেয় না। ছোট-বড় ১৫টি বস্তি বা ঘনবসতিপূর্ণ নিম্ন আয়ের মানুষের আবাস থাকায় মাদক এ ওয়ার্ডের সর্বত্র। মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান কাউন্সিলরের ভূমিকা নিয়েও সন্তুষ্ট নয় এলাকাবাসী।
কাউন্সিলর অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সব থেকে বেশি উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে এ ওয়ার্ডে। কাউন্সিলরের স্টিমেট দেয়া কাজ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার কাজ মিলে ওয়ার্ডে গত সাড়ে চার বছরে ছোট বড় ৪৫টি রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে হাজী ইসমাইল লিং রোড সমূহ, আউটার বাইপাস এর পশ্চিম পাশের লিং রোড সমূহ, হাজী তমিজ উদ্দিন সড়ক, নবীনগর মেইন রোড অন্যতম। তবে এখনও সোনার বাংলা এলাকা, আল-আকসা রোড, সাত্তার বিশ্বাস সড়কের অধিকাংশ এলাকা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। ওয়ার্ডে কোন কমিউনিটি সেন্টার ও কাউন্সিলরের কার্যালয় নেই। তবে কাউন্সিলরের কার্যালয় নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ওয়ার্ডে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বিতরণে অনিয়ম, কেসিসির ঠিকাদারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কাজ নিয়ে মান সংরক্ষণ না করে তা সম্পন্ন করার অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ২০১৩-এর নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। আর এবার এদের সাথে যোগ হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের ঘোষিত প্রাথী মোঃ মুকুল। ইতোমধ্যে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেকে তুলে ধরছেন এখানকার সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দিয়েছেন প্যানা, পোস্টার আর ব্যানার, চাইছেন দোয়া।
বিগত দু’টি নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে হেরে গেলেও এবারে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের (প্রস্তাবিত কমিটি) সহ-সভাপতি এস এম রাজুল হাসান রাজু। বললেন, “এই এলাকায় বিগত মেয়রের আমলের বেশ কিছু কাজ এ আমলে হয়েছে। কাউন্সিলর নিজের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী কাজ করেননি। সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিক দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ, সিটি কর্পোরেশনের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার আর ঠিকাদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছেন কাউন্সিলর।” এছাড়া দুস্থ ফান্ডের নামে বিত্তবানদের কাছ থেকে যাকাতের অর্থ আদায় করে আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন এস এম রাজুল হাসান রাজু। তিনি বলেন, “নির্বাচিত না হয়েও বিগত দিনে মানুষের সাথে ছিলাম, এবার নির্বাচিত হয়ে একটি মডেল ওয়ার্ড উপহার দিতে চাই ওয়ার্ডবাসীকে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলা ও শেখ হাসিনার উন্নয়ন ওয়ার্ডের সর্বত্র পৌঁছে দিতে আমি বদ্ধপরিকর।”
ওয়ার্ড জুড়ে প্যানা, পোস্টার দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা পারভেজ আহমেদ পলাশ। তিনি এর আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এবার নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করতে আগ্রহী এই আওয়ামী লীগ নেতা। মাঠে রয়েছেন এস এম আমিনুল ইসলাম, টি এম আরিফ, বিএনপি নেতা মোঃ ইব্রাহিম ও ইসলামী আন্দোলনের ঘোষিত প্রার্থী মোঃ মুকুল শেখ। সম্ভাব্য এসব প্রার্থী ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুকুল শেখ বলেন, ইসলামী আদর্শে জনকল্যাণমুখী একটি ওয়ার্ড উপহার দিতে চাই এলাকাবাসীকে।
তবে এবার আর প্রতিশ্র“তি শোনা নয় ভোটাররা ভাবছেন অন্য কিছু। তারা জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেতে এবারে নিজেদের কাউন্সিলর নির্বাচন করতে চান। ওয়ার্ডের সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি এস এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ওয়ার্ডে ভয়াবহ ড্রেনেজ সমস্যা দীর্ঘদিন। সন্তানসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করা দুষ্কর। সময়মত ড্রেন পরিষ্কার না করায় একদিকে দুর্গন্ধ অন্যদিকে মশার বিস্তার। এসব দেখেও দেখেন না কাউন্সিলর। সামনের নির্বাচনে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেবে এমন কাউন্সিলরকেই বেছে নেবে ওয়ার্ডবাসী। প্রায় একই ভাবে কথা বললেন শিক্ষক প্রকাশ চন্দ্রসহ নবীনগর  ও সোনার বাংলা এলাকার দোকানীরা। 
অবশ্য বর্তমান কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, “ওয়ার্ডে বিগত পঞ্চাশ বছরে যে কাজ হয়নি, আমার সময়ে এলাকাবাসী দোয়া ও আল্লাহর রহমতে সেই কাজ হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, “এই ওয়ার্ডে কোন ঠিকাদারি কাজ আমি করিনি। শুধুমাত্র বাধ্য হয়ে একটি রাস্তার কাজ করেছি যাতে টাকা ফেরত না যায়। আর সরকারি জনবল ও সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এলাকাবাসী সকল উন্নয়ন কাজের সাক্ষী। আমি মনে করি এবার আগের চেয়ে আরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এলাকাবাসী আমাকে তাদের সেবক নির্বাচিত করবেন।” 


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬









ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬