খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ মে ২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

সহজেই শিশু-কিশোরদের হাতের নাগালে

নগরীর বিপনী বিতান ও ক্রোকারিজ শো-রুমে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ছুরি-চাকুসহ ধারালো অস্ত্র

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০২:০০:০০

মহানগরীর বিভিন্ন বিপনী বিতান, ক্রোকারিজ কোম্পানির শো-রুমগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ছুরি, চাকুসহ নানা প্রকৃতির ধারালো অস্ত্র। মূলতঃ শাক সবজি কাটা-কুটি ও রান্না ঘরের কাজে ব্যবহারের জন্য এ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেশি-বিদেশি এ সকল ধারালো অস্ত্রের পশরা সাজিয়ে রাখা হয়। তবে এ সকল ছুরি-চাকুর মধ্যে অধিকাংশ চাইনিজ (বিদেশী) ব্রান্ডের বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। শো-রুম থেকে ধারালো এ সকল পণ্য বিক্রিকালে কোন নিয়ম মানছেন না ব্যবসায়ীরা। স্কুল কলেজ পড়–য়া শিশু-কিশোর ও যুবকরা অনায়াসে এ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় ধারালো অস্ত্র কিনে নিচ্ছে। আর দৃষ্টি নন্দন এ সকল ধারালো অস্ত্র কিনে নিয়ে শিশু-কিশোররা অজান্তেই নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। 
এ বিষয়ে নগরীর একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও সেলস্ কর্মীদের সাথে ধারালো এসব পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তারা কি ধরনের নীতি মানেন সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। দেখা যায়, তাদের মধ্যে অধিকাংশ ব্যক্তি এ বিষয়ে পুরোপুরি অজ্ঞ। কেউ কেউ বুঝতে পেরে কৌশলে ভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন। তবে তাদের খোঁড়া যুক্তি মতে কোন বাবা-মা তার সন্তানের জন্য দৃষ্টি নন্দন ছুরি-চাকু কিনে রাখেন না। এক শ্রেণীর কিশোর-যুবক এ সকল ছুরি-চাকু ক্রয় করে মজুদ রাখছে বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে। যা আগামী সিটি নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনের মাঠে আইন-শৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর কাজে ব্যবহার হতে পারে এমই আশঙ্কা সূত্রটির। 
গতকাল সোমবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নগরীর নিউমার্কেট, বড় বাজার, বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিতানে দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র। দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ছুরি, চাকু খোলা মেলাভাবে বিক্রি হচ্ছে। শিশু-কিশোর ও যুবকদের কাছে বিক্রি করছে এ সকল ধারালো পণ্য। যা পরবর্তীতে নানা অপরাধসহ প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটায়। এছাড়া নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ বেশ কয়েকটি ক্রোকারিজের শো-রুমে বিদেশী ধারালো অস্ত্রের অবাধে বিক্রি হচ্ছে। তবে এ সকল পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে মতামত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 
এ বিষয়ে খুলনার জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান এ প্রতিবেদককে বলেন, কম বয়সের কারও কাছে এ ধরনের পণ্য বিক্রি থেকে ব্যবসায়ীদের বিরত থাকতে হবে। এটা নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাছাড়া সবার আগে সন্তানরা কি করছে তা শিশু-কিশোরদের অভিভাবকদের নজরদারি রাখতে হবে। তা না হলে কোমলমতি শিশু-কিশোররা ভুল পথে পা দিতে পারে। 
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি আমরা খুবই গুরুত্বের সাথে দেখবো। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ