খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বেড়েছে ছুরি-চাকুর ব্যবহার : জড়াচ্ছে নানা অপরাধে প্রতিষ্ঠান দু’টির শিক্ষকদের সঠিক তদারকির অভাব   

খুলনা পাবলিক ও মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ছাত্রদের নামে গড়ে উঠেছে নানা গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০২:০০:০০

নগরীর বয়রায় অবস্থিত খুলনা পাবলিক কলেজ এবং মডেল স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের অনুশাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠছে এ দু’টি স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষক, শ্রেণীকক্ষ ও পাঠ্য বইয়ের সাথে সম্পর্ক কম হওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিভাবক, শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের নিবীড় সম্পর্ক নেই। ফলে স্কুলে প্রবেশের পূর্বে, টিফিন টাইমে, ছুটির পরে স্কুলের আশে-পাশে আড্ডা জমায় শিক্ষার্থীরা। এদের বিদ্যালয়ের ক্লাসে উপস্থিতির হার খুব কম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা খুব বেশি খবর রাখেন না। আড্ডাবাজ এসব শিক্ষার্থীরা স্কুলের পাশের চায়ের দোকানগুলো থেকে নিয়মিত সিগারেট কিনে পার্শ্ববর্তী আড্ডাস্থলে গিয়ে ধূমপান করে। এদের কাছে চুরি, চাকুসহ দেশীয় অস্ত্রও থাকে বলে একাধিক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে জানা গেছে। এমনি একটি অত্যাধুনিক চাকুর আঘাতে নিহত হয়েছেন পাবলিক কলেজের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ফাহমিদ তানভির রাজিন।
শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, এ স্কুল দু’টিতে কয়েকটি বড় ভাই গ্র“প রয়েছে। সাধারণত গ্র“প প্রধানের নামে ঐসব গ্র“প পরিচিত। এসব গ্র“পের নিয়ন্ত্রণে চলতে অনেক সময় জুনিয়রদের বাধ্য করা হয়। অনেক সময় জুনিয়রদের কাছ থেকে জোর করে টাকা কেড়ে নেয়। ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পরে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটে। সারা বছরে স্কুল দু’টিতে ছোটখাটো অনেক ঘটনা লেগে থাকে, যা অভ্যন্তরীণভাবেই মীমাংসা করা হয়। হাজী ফয়েজউদ্দিন স্কুলের সড়কে কোচিং স্টোরের পাশে, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের পশ্চিম পাশের রাস্তায়, পাবলিক কলেজের সামনের মার্কেটের ভিতরে, কলেজটির পূর্বপাশে ২য় গেটের রাস্তায়, বয়রা বাজার মোড়ের পশ্চিম দিকে ক্লিনিকের আশপাশে এ পাঁচটি এলাকায় প্রধানত, আড্ডা জমায় স্কুলের এসব বড় ভাই গ্র“পগুলো। যারা স্কুলের আশেপাশের চায়ের দোকানগুলো থেকে নিয়মিত সিগারেট কেনে বলে দোকানীরাই জানিয়েছেন।
অভিভাবকরাও এসব ছেলেদের এমন অপকর্ম সম্পর্কে অবহিত নন। তারা মনে করেন-ছেলে স্কুলে রয়েছে। অথচ, এ সময়েই বড় ভাইয়ের গ্র“পগুলো নানা অপরাধের বীজ রোপন করে। এখনিই লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করাতে পারলে এসব শিক্ষার্থীরা অন্ধকার জগৎ থেকে ফিরে আসবে বলে আশাবাদী অভিভাবকরা।
খুলনা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ লেঃ কর্ণেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি নতুন দায়িত্বে এসেছি। তবে স্কুলে অনুশাসনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে হয় না। অভিভাবকদেরও সচেতন হবার অনুরোধ করেছেন তিনি।
মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ বদিউজ্জামান বলেন, “ওই ঘটনার সাথে মডেল স্কুলের ছাত্র জড়িত বলে মনে হয় না। কয়েক দিন হলো দায়িত্বে এসেছি, পুরো বিষয়গুলো আয়ত্বে নিতে একটু সময় লাগছে। আশা করছি, প্রতিষ্ঠানে অনুশাসনের ঘাটতি থাকবে না।”

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ