খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ মে ২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

পাবলিক কলেজের ছাত্র রাজিন খুনে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার

বুকে চাকু ঢুকিয়ে হত্যা করে সাব্বির অন্যরা কিল ঘুষি মেরেছে : পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০১:০৭:০০

খুলনা পাবলিক কলেজের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিন (১৪)’র বুকে চাকু ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগে সাব্বির হাওলাদার (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে রাজিনকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকুও উদ্ধার করেছে পুলিশ। রূপসার আইচগাতি এলাকায় নানা বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে খালিশপুর থানা কম্পাউন্ডে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাহবুব হাকিম এ তথ্য জানান। এদিকে এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত এজাহারভুক্ত ৪ কিশোরকে গতকাল সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদের মধ্যে আসিফ প্রান্ত আলিফ (১৬), মোঃ সানি ইসলাম (১৪) ও তারিন হাসান ওরফে রিজভী (১৩) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এছাড়া মোঃ জিসান খান (১৩)’র আবেদন না থাকায় তার জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়নি। মহানগর হাকিম মোঃ শাহীদুল ইসলাম তিন কিশোরের জবানবন্দী গ্রহণ শেষে ৪ জনকেই যশোর কিশোর শোধনাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। 
অন্যদিকে গতকাল বিকেলে কেএমপি’র প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত কমিশনার মাহবুব হাকিম বলেছেন, বয়রা ইসলামীয়া কলেজ রোডের শ্মশানঘাট এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে সাব্বির হাওলাদার (১৯) পাবলিক কলেজের ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিনের বুকে চাকু ঢুকিয়ে হত্যা করেছে। তার সাথে যারা ছিল তারা রাজিনকে কিল, ঘুষি ও হাত ধরে রেখেছিল। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খালিশপুর জোন) আল বেরুনী, খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন। 
আদালতে দেয়া তিন কিশোরের জবানবন্দীর বরাত দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১১নং রোডের বাসিন্দা মোঃ ফারুক হোসেনের ছেলে ফাহিম ইসলাম মনির সাথে পাবলিক কলেজের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিনের মধ্যে ২০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে অনুষ্ঠান স্থলে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ফাহিম ইসলাম মনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার বন্ধুদের ডেকে আনে। এদের মধ্যে বয়রা ইসলামীয়া কলেজ রোডের শ্মশানঘাট এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে সাব্বির হাওলাদার চাকুসহ কলেজ ক্যাম্পাসের অনুষ্ঠান স্থলে আসে। এরপর অনুষ্ঠানের গ্রিন রুমের পেছনে রাজিনকে ডেকে নিয়ে ১০/১২ জন মিলে চর চাপ্পড় ও কিল ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে সাব্বির চাকু বের করে রাজিনের বুকে ঢুকিয়ে দেয়। 
এদিকে এ ঘটনার পরপরই র‌্যাবের অভিযানে আটক বয়রা সবুরের মোড় এলাকার মোঃ লিয়াকত হোসেনের ছেলে মোঃ রোয়েল (১৪) ও মিতুল নামের দু’জনকে গতকাল সন্ধ্যায় খালিশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই দু’জনসহ সাব্বির হাওলাদারকে আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন। 
রাজিন হত্যাকান্ডে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে তার শেখ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় খালিশপুর থানায় ২১ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন (নং-২০)। এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া এ হত্যাকান্ডে এজাহারে প্রধান অভিযুক্ত মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার ১১নং রোডের বাসিন্দা মোঃ ফারুক হোসেনের ছেলে মডেল স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ফাহিম ইসলাম মনি (১৩) পলাতক থাকায় তাকে এখনো পর্যন্ত আটক করা যায়নি। 
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ