খুলনা | সোমবার | ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

নেই কমিউনিটি সেন্টার, আছে জলাবদ্ধতা আর মশার উপদ্রব

মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও সেবা প্রদানে আন্তরিক প্রার্থীকে এবার নির্বাচিত করতে চায় ওয়ার্ডবাসী

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ২২ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫৭:০০

আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীর ১৭নং ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে বেশ তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কাউন্সিলর পদে পাঁচ প্রার্থী মনোনয়ন পেতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। সর্বত্র শোভা পাচ্ছে তাদের পোস্টার, প্যানা, ফেস্টুন ও ব্যানার। লিফলেট বিতরণের মাধ্যমেও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। চলছে শুভেচ্ছা, মতবিনিময় ও দোয়া প্রার্থনা। বয়ে যাওয়া নির্বাচনী এ হওয়ার মধ্যে ‘কেমন কাউন্সিলর চাই’ এমন প্রশ্নের জবাবে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার, ভৌত-অবকাঠামোগত উন্নয়নে বদ্ধপরিকর এবং বিপাদে-আপাদে পাশে থেকে সকল সেবা প্রদানে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন এমন প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ওয়ার্ডবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পূর্বে শিববাড়ী, পশ্চিমে শ্মশানঘাট, উত্তরে বয়রা মেইন রোড, দক্ষিণে মজিদ স্মরণী, এই চৌহদ্দির মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ডের অবস্থান। ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। ওয়ার্ডটিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ওজোপাডিকো অফিস, যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নিউ মার্কেট, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও আবাসিক এলাকাসহ নানা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনায় সরকারি-বেসরকারি ও আবাসিক এলাকা সমৃদ্ধ এ ওয়ার্ডটি অনেক অভিজাত। রুচিশীল ও বিত্তশালীদের বসবাস হওয়া সত্ত্বেও ওয়ার্ডে রয়েছে মাদকের আখড়া। বিভিন্ন বস্তির পাশাপাশি ভাসমানভাবে অবাধে মাদক বেচা-কেনা ও সেবন চলে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও অনেকটা অপরিকল্পিত ও মান্দাতার আমলের, ফলে ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সারা বছর মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ থাকে ওয়ার্ডবাসী। এছাড়া রয়েছে কিছুটা ভাঙ্গাচোরা সড়কের ভোগান্তি।
এ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন, বর্তমান কাউন্সিলর ও কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী খান, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান সাগর, ১৭নং ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি খান মিতুনুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের ঘোষিত প্রার্থী আব্দুর রশিদ। এরা ইতোমধ্যে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। ওয়ার্ডের অলি-গলিতে এসব প্রার্থীরা প্যান, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দোয়া চাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। দিচ্ছেন এলাকার উন্নয়ন ও সকল সমস্যা সমাধানের জোরালো প্রতিশ্র“তি। তবে ওয়ার্ডবাসী বলছেন, প্রার্থীরা যতই প্রতিশ্র“তি দিক না কেন সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গঠনসহ সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর এমন আন্তরিক প্রার্থী তারা এবার নির্বাচিত করবেন। 
ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ওয়ার্ডের অন্যতম সমস্যা এখন মাদক। ১০টি বস্তিকে কেন্দ্র করে অবাধে বিকিকিনি হয় মাদক। ফলে এর ভয়াবহতায় অনেক মেধাবী মুখ ও পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে এমন প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
আরেক বাসিন্দা শেখ হাসান বখতিয়ার (বাকু) বলেন, ওয়ার্ডের অনেক স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। সেগুলো সময়মতো পরিষ্কার করা হয় না।  ওয়ার্ডে নতুন নতুন বসতি গড়ে উঠছে। কিন্তু নতুন ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে না। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে সড়ক বাতি জ্বলে না। এসব সমস্যা নিরসনসহ বিপাদে-আপদে পাশে থাকবেন এবং ওয়ার্ডের উন্নয়নে নিরন্তরভাবে কাজ করবে এমন জনবান্ধব প্রার্থীই আমরা নির্বাচিত করবো। 
মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, সৎ, ন্যায় ও নিষ্ঠাবান প্রার্থী আমাদের প্রত্যাশা। যে ওয়ার্ডের উন্নয়নে জনসাধারণের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে সক্ষম হবে। নাগরিক সেবা প্রদানে সদা সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। সেবা পেতে কোন ভোগান্তি থাকবে না।
সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান সাগর বলেন, ওয়ার্ডে বয়স্ক ও বিধাব ভাতার কার্ডের সমবন্টন নেই। নিজস্ব লোকজনদের মঝে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়। ওয়ার্ডে কোন কমিউনিটি সেন্টার না থাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এলাকাবাসীর ভোগান্তি হয়। এছাড়া ওয়ার্ডে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে তার মানও খুব নিম্ন। তিনি বলেন, কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধানসহ বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ওয়ার্ডের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে। 
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী খান বলেন, নির্বাচিত হলে নানা সমস্যায় জর্জরিত এ ওয়ার্ডকে তিনি আদর্শ ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করবেন। সড়ক ও ড্রেন নির্মাণসহ সকল সেবা প্রদানে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। মানসম্মতভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করবেন। ওয়ার্ডবাসীর সকল সমস্যা সমাধান ও সেবায় নিয়োজিত থেকে নিবেদিত ভাবে কাজ করে যাবেন।
মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক ও বর্তমান কাউন্সিলর শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, “৩০ বছর ধরে নির্বাচিত কাউন্সিলর ও জনগনের খাদেম হিসেবে কাজ করে চলেছি। এক সময় এ ওয়ার্ডের অনেক স্থানে মানুষ বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করতো। এখন সেসব জায়গায় ব্রীজ ও পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। মাত্র ২৫ ভাগ সড়ক কিছুটা খারাপ রয়েছে। সেগুলোসহ ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন এ ওয়ার্ড থেকেই সবোঁচ্চ রাজস্ব আদায় হয়।” তিনি বলেন, মান্দাতার আমলের ড্রেনেজ ব্যবস্থায় জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন কঠিন ব্যাপার। এরপরও জলাবদ্ধাতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া মাদকের বিকিকিনি ও সেবন অনেকাংশে কমে এসেছে। তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে নিরলস পরিশ্রম করে এলাকার অবকাঠামোগত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাঙ্গণে উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়েছে। মসজিদ-মাদ্রাসার যথেষ্ট উন্নয়নে হয়েছে। এবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণসহ অসম্পন্ন  সকল কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ