খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

জুয়ায় ভাসছে নগরী, পরিত্রাণের উপায় কি?

মোঃ আনিছুর রহমান বিশ্বাষ | প্রকাশিত ১৭ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:০৫:০০

প্রচন্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে শৈত প্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত প্রায়। তাই সন্ধ্যায় গত সোমবার অফিসে না গিয়ে মোড়ের চায়ের দোকানে চায়ের আড্ডায় যোগ দিতে মনস্থির করলাম। চায়ের আড্ডা আজ জমে উঠেছে। কারণ আমার মত অনেকেই আজ শীতের কারণে বাইরে যাননি। আড্ডার বিষয়বস্তু হচ্ছে শীত। আলোচনা চলছে ঠিক এর মধ্যে একদল মানুষ রাস্তা দিয়ে জোরে জোরে কথা বলতে বলতে হেঁটে যাচ্ছে। হঠাৎ দলের মধ্য থেকে একজন আমাকে দেখে সালাম দিলেন। সালামের উত্তর দিতে তাকিয়ে দেখি আমার বাসার কাজের বুয়ার স্বামী দিনমজুর সবুজ মিয়া। সে দারুণ পরিপাটিভাসে সেজেছে। চুলে তেল দিয়ে মাথার মাঝখান দিয়ে সিথি কেটেছে। গলায় প্রিন্টের লাল মাফলার। পরণে পাঞ্জাবী-পাজামা, পায়ে জরাজীর্ণ বাটার কেডস। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আরে সবুজ মিয়া দল বেঁধে কোথায় যাচ্ছ। উত্তরে বললো ভাইজান আর কইয়েন না, প্রত্যেক দিন টিকিট কিনি কিন্তু কিছুই পাইনা। আজ অনেক টিকিট কিন্যা মেলায় যাইতেছি, যদি লাই¹া যায়, ভাইজান দোয়া কইরেন। তখন বুঝলাম মেলার নামে জুয়া বেশ ভালোই চলছে। 
যাইহোক আড্ডা শেষে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। বাড়ি আসতেই আমার ক্লাস ওয়ানে পড়–য়া মেয়ে জোরে জোরে ছন্দের তালে কি যেন বলতে লাগলো। আমি প্রথম বুঝতে পারিনি। একটু খেয়াল করে বোঝার চেষ্টা করলাম ও বলছে,
উঠাও বাচ্চা উঠাও
আর কত জ্বলাবি
আর কত পোড়াবি
তোর জন্য কাঁদে অন্তর
কাদে আমার হীয়া
টিকিটের রং টিয়া
আমি বুঝতে পারলাম বিষয়টি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম এসব কে শিখিয়েছে? ও বললো এসব টিভিতে হচ্ছে, গিয়ে দেখ। সঙ্গে সঙ্গে টিভির ঘরে গিয়েতো আমি হতবাক। একি জুয়া এখন শহরের অলি-গলি ছেড়ে বাসায় চলে এসেছে। টিভিতে জুয়ার লাইভ দেখানো হচ্ছে। একি স্কুল পড়–য়া বাচ্চাদের চোখ বেঁধে দিয়ে জুয়ার টিকিট উঠানো হচ্ছে। একি নৈরাজ্য, এতো নৈতিকতার অবক্ষয় ছাড়া আর কিছু নয়। কষ্টে বুকটা ভেঙে যেতে লাগলো। কি করবো, কি বলবো বুঝতে পারছি না। হঠাৎ মনে হতে লাগলো ১/১১ সরকারের সময় রাজনৈতিক মামলায় আমি যখন কারাগারে ছিলাম, হঠাৎ একদিন শহরের কিছু শ্রদ্ধাভাজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদেরকে যৌথবাহিনী গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠালো। যৌথবাহিনীর ভাষ্যমতে, তাদের অপরাধ ছিল তারা জুয়া খেলছিল। সারা শহরের মানুষের কাছে কিভাবে অপমান করা হয়েছিল এই মানুষগুলিকে যার উত্তর আমি আজও খুঁজে পাই না। সেদিনের সেই কাহিনীটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কিন্তু আজ যে সত্য কাহিনী প্রকাশ্য দিবালোকে শহরের অলিতে গলিতে টিভি পর্দায় মানুষের সামনে প্রচারিত হচ্ছে, তাকে বাঁধা দেয়ার কেউ নাই, দেখারও কেউ নাই। 
প্রতিবন্ধীদের সাহায্যের জন্য নাকি এই মেলা। হায়রে কপাল জুয়ার টাকায় প্রতিবন্ধীদের সাহায্য। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে প্রচন্ড আন্তরিক, যেখানে তার একমাত্র কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রতিবন্ধীদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশে-বিদেশে দারুণ সুনাম কুড়িয়েছেন, যেখানে সরকার প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে কাড়ি-কাড়ি অর্থ ভর্তুকি হিসেবে ব্যয় করছেন, সেখানে তাদের পুনর্বাসনের জন্য জুয়া কেন? তাহলে কি ধরে নেব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সহানুভূতির বিষয়টিকে আমাদের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন টাকা কামানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন? কারণ এই পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলের / প্রশাসনের/ সুশীল সমাজের/ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি/ সাংবাদিকবৃন্দের চোখে পড়ার মত কোন প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ আমরা দেখতে পাইনি। এ যেন কেমন নিরবতা, কেমন মৌনতা। 
কথায় আছে মৌনতাই সমর্থনের লক্ষণ। তাহলে কি ধরে নেব একাজে সকলের সমর্থন আছে? তাহলে কি ধরে নেব লুটের মালের ভাগ সবাই পাচ্ছে? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আমার কিছু বলার নেই। এ থেকে আদৌ পরিত্রাণ পাবো কিনা আমার জানা নেই! যদি না হয়ে থাকে তাহলে বলবো, দয়া করে পরিত্রাণের উপায়টা বলুন। 
(লেখক : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র)
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

১৫ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫০







সমাজ ও গ্রন্থাগার

সমাজ ও গ্রন্থাগার

০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:০০

জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ

জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ

১০ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:২৩

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬