খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ | ৯ মাঘ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থা : সর্বত্র মাদকের ছড়াছড়ি 

জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান ওয়ার্ডবাসী   

মোহাম্মদ মিলন  | প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ০১:০৩:০০

সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় পানি। নিষ্কাশনের নেই কোন ব্যবস্থা। বেহাল রাস্তাঘাট, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর সড়কবাতির স্বল্পতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড। এখানে রয়েছে মাদকের ছড়াছড়ি। নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করেও কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। মাদকমুক্তকরণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর। একই সাথে ওয়ার্ড কার্যালয়ে গিয়ে যথাযথ সেবা পায় না এমনও অভিযোগ রয়েছে ওয়ার্ডবাসীর। এ অবস্থায় ওয়ার্ডে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। অনেকটা আগে-ভাগেই প্রার্থীরা প্যানা, পোস্টার ও লিফলেট নিয়ে তাদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। 
পূর্বে খুলনা-যশোর মহাসড়ক ও রেল বস্তি, পশ্চিমে দেয়ানা রায়ের মহল বাজার, উত্তরে বিজিবি ক্যাম্প এবং দক্ষিণে বয়রা জংশন ক্রস রোড় এলাকা নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ড। বিগত ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন ১১ জন। আর আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৮২১ জন। 
ওয়ার্ডবাসীর অভিযোগ, খানজাহান আলী দীঘিতে বালু ফেলে ভরাটের অপচেষ্টায় সক্রিয় একটি চক্র। ড্রেনগুলো ময়লা আবর্জনায় ভরাট থাকলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা উদাসীন। সড়কে বাতি স্বল্পতার কারণে রাতে চলাচলে সমস্যা হয়। এই সুযোগে সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতারা সক্রিয় থাকে। ওয়ার্ডে বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক বিক্রেতারা তৎপর। স্থানীয় মুজগুন্নী পার্কটি মাদকের অভায়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি কাউন্সিলরকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি কর্ণপাত করেন না। বর্তমান কাউন্সিলর জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ এখানকার বসবাসকারীদের। তাদের মতে, ওয়ার্ড অফিসে কাউন্সিলরকে তেমন একটা পাওয়া যায় না। আর ফোন দিলেও তিনি ধরেন না। তাদের প্রশ্ন, তাহলে সুবিধা-অসুবিধার কথা কাকে জানাবো। এমনকি তার অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ড সচিব শেখ জাহিদুর রহমানের যে সেবা প্রদান করার কথা সেটিও তিনি করেন না। শুধু তাই নয়, তিনি অনেকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। অবশ্য এ বিষয়ে ওয়ার্ড সচিব শেখ জাহিদুর রহমান বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। দীর্ঘদিন রয়েছি, এক স্থানে থাকলে একটু সমস্যা হতে পারে। অসঙ্গত কিছু দাবি করলে তা তো আর আমি দিতে পারি না।       
মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার বসবাসকারীরা জানিয়েছেন, ওয়ার্ডের সব থেকে বেশি ট্যাক্স প্রদান করেও কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকার অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা বেহাল। অনেক স্থানে সড়কবাতি থাকলেও জ্বলে না। ড্রেনগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না। বাস্তহারা কলোনীর বাসিন্দারা বলেন, বাস্তহারাবাসী অবহেলিত। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে যায়। আর একটু বেশি বৃষ্টি হলে ৮-১০ দিন পানি জমে থাকে। রাস্তার পাশাপাশি ঘরের মধ্যে হাটু সমান পানি জমে যায়। বর্ষার সময়ে বাস্তহারাবাসী জলাবদ্ধতায় দিশেহারা হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আর স্যানিটেশন ব্যবস্থার হয়নি তেমন কোন উন্নয়ন।
ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুহসিন গার্লস কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপিকা মমতাজ বেগম বলেন, এক সময় দেখেছি কাউন্সিলররা সকালে ঘুম থেকে উঠে ওয়ার্ডবাসীর কাছে যেতেন। তখন তারা কোন সম্মানী পেত না। কিন্তু এখন সম্মানী পেয়েও অনেকেই জনগণের দুঃখ দুর্দশায় পাশে থাকে না। তিনি বলেন, জনগণের সুখ-দুঃখে এ সবসময় পাশে থাকবে এমন কাউন্সিলর প্রয়োজন। ওয়ার্ডবাসী জানান, ভোটের সময় এলে অনেকেই নানা প্রতিশ্র“তি দেয়। কিন্তু একবার নির্বাচিত হলে আর কোন কাজ করতে চায় না। এবার দুরদর্শী, সচল, সৎ, যোগ্য এবং জলাবদ্ধতা নিরসনসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের কাজ করবে এমন প্রার্থীকে বেছে নেয়া হবে। 
এদিকে আসছে নির্বাচন নিয়ে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্র“তির পাশাপাশি পূর্বের জনপ্রতিনিধির নানান ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে তারা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার প্রচারণা। সম্ভাব্য প্রার্থী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি এম ডি মাহ্ফুজুর রহমান লিটন বলেন, ওয়ার্ডের অনেক রাস্তা সংস্কার করা প্রয়োজন। শুষ্ক মৌসুমেও অনেক স্থানে পানি জমে। পানি বের হওয়ার কোন উপায় নেই। সর্বত্র মাদক। ক্ষুদের খালটি খনন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “গেল নির্বাচনে দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছি। তবে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছি। এবার দল সমর্থন দিলে ওয়ার্ডবাসীকে সাথে নিয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবো।” নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যও কাজ করবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। 
ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি এড. শেখ মোহাম্মদ আলী বাবু বলেন, মাদক, ড্রেনেজ সমস্যা, মশার উপদ্রব আর জলাবদ্ধতায় দিশেহারা ওয়ার্ডবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই বাস্তহারা ও মুজগুন্নী আবাসিক এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। এ ওয়ার্ডে কেসিসির একটি বাজার থাকলেও সেটি চালুর বিষয়ে তেমন কোন উদ্যোগ নেই। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো না। রেল লাইনের পাশে বসবাসকারীদের সুপেয় পানির অভাব। তিনি বলেন, “গেল দু’টি আন্দোলনে খালিশপুর এলাকার মাঠের নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে বিনা পারিশ্রমিকে মামলাসহ দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করেছি। এবার দল আমাকে সমর্থন দিবে বলে আমি আশাবাদী।” দলের সমর্থন পেলে নাগরিক সেবা বঞ্চিত এ ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে উন্নয়ন করবেন তিনি। একই সাথে মাদক মুক্ত ওয়ার্ড গঠনে কাজ করার কথা জানান। অপর প্রার্থী বিএনপি নেতা কাজী ফজলুল কবীর টিটো বলেন, কাউন্সিলরের সাথে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা কম। সরকার সুযোগ দিলেও তিনি তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি রাজনৈতিক মামলায় জর্জরিত। এবার দলীয় সমর্থন পেলে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে মাদক, স্বাস্থ্য সমস্যা, জলবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এ ওয়ার্ডের পরিবর্তন এনে একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”  
ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা হায়দার আলী বলেন, ড্রেনেজ সমস্যা, মাদক, স্বাস্থ্য সমস্যা, জলবদ্ধতাসহ নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত ওয়ার্ডবাসী। দলীয় সমর্থনের বিষয়ে আশাবাদী এ নেতা বলেন, “তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আমাকে সমর্থন দিয়েছে। দল সমর্থন দিলে সমাজের সকল শ্রেণীর পাশে থেকে তাদের খেদমত করতে চাই।”   
বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার সময়ে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ডাস্টবিন সমস্যা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নানা উন্নয়ন কাজ অনেক এগিয়েছে।” তবে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা স্বীকার করে তিনি বলেন, “খালিশপুরের সব ওয়ার্ডসহ ১০টি ওয়ার্ডের পানি ড্রেন দিয়ে এই ওয়ার্ডে এসে জমে। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ জন্য বাস্তহারা বাইপাস সড়কের মদিনা মসজিদ মোড়ে যাতে পানি না জমে সেজন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বিকল্প পথে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ড্রেন করার প্রস্তাব রয়েছে।” আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই এর কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদী। পাশাপাশি দল সমর্থন দিলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাকি উন্নয়ন কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে অফিসে না থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট দাবি করে তিনি বলেন, “আমি দু’ বেলা অফিস করি। আর জনগণের পাশে থেকেই কাজ করে যাচ্ছি।” 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ

ইমরুল-তুষারের ব্যাটে লড়ছে সাউথ জোন

ইমরুল-তুষারের ব্যাটে লড়ছে সাউথ জোন

২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:২৭



ঢাকা তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগ শুরু

ঢাকা তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগ শুরু

২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:২৫