খুলনা | শুক্রবার | ২০ এপ্রিল ২০১৮ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

সংবিধানে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই : ফখরুল

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:২২:০০

সংবিধানে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বিধান না থাকায় গত শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নির্বাচন নিয়ে বিদ্যমান সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করে বিএনপি। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে দলটির একটি চিন্তা-ভাবনা আছে বলেও জানানো হয়েছে।
বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যদি আন্তরিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে তার উচিৎ হবে এ নিয়ে সকল স্টেক- হোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া। “আমার দল মনে করে, একটি আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব। দীর্ঘকাল যাবত সকল বিরোধী দল ও সুশীল সমাজসহ সব দলের অংশ গ্রহণে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদি সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তা হলে সেই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। কারণ সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকারও হবে বিদ্যমান সরকারেরই অনুরূপ। সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার কেবল রুটিন ওয়ার্ক করবে-এমন কিছু উল্লেখ নেই। সংবিধানের ১৫তম ও ১৬ তম সংশোধনীর মাধ্যমে আ’লীগের শাসনকে পাকাপোক্ত করার একটি ব্যবস্থাই করা হয়েছে মাত্র। সংবিধান ও গণতন্ত্র সবসময় সমর্থক বা সমান্তরাল হয় না। তাই যদি হতো তা হলে হিটলার ও মুসোলিনির শাসনকেও গণতান্ত্রিক বলা যেত। কারণ তাদের শাসনও সংবিধান অনুযায়ীই ছিল।’
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে তাঁদের কিছু চিন্তা-ভাবনা রয়েছে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তবে প্রধানমন্ত্রী যদি আন্তরিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন তা হলে তাঁর উচিত হবে এ নিয়ে সকল স্টেক-হোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া। আমাদের দল মনে করে একটি আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে ২০১৮ এর নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে আমাদের দলের একটি চিন্তা-ভাবনা আছে।’
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘একটি সুন্দর পরিবেশে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হলে জাতির মনে যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আমরা আস্থা রাখতে চাই।’ তিনি বলেন, দেশবাসী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইলেও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিদ্যমান সঙ্কট উত্তরণে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা পায়নি।
বিএনপি’র মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ জাতিকে হতাশ, বিস্ময়-বিমূঢ় এবং উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এই ভাষণে বিদ্যমান জাতীয় সংকট নিরসনে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তা খুবই অস্পষ্ট, ধোঁয়াশাপূর্ণ, এবং বিভ্রান্তিকর। জাতি আশা করেছিল তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বের এই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার এক বছর আগেই তিনি যে ভাষণ দেবেন সে ভাষণে থাকবে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, জাতীয় সংকট নিরসনে একটি স্পষ্ট রূপরেখা এবং জনগণের উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য থাকবে বিভ্রান্তির বেড়াজালমুক্ত কর্ম পদক্ষেপ।’
প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের যে ফিরিস্তি দিয়েছেন, তাতেও ভিন্নমত জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান তার শাসনামলের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উন্নয়ন দশক পালন করেছিলেন। গণতন্ত্রহীন তথাকথিত উন্নয়ন জনগণ গ্রহণ করেনি। পরিণতিতে তার মতো লৌহমানবকে গণঅভ্যুত্থানের মুখে বিদায় নিতে হয়েছে। “বর্তমান সরকারও উন্নয়ন মেলা করছে। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস পাকিস্তানি আমলের স্বৈরশাসক ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য যে ধরনের চমকের আশ্রয় নিয়েছিল, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হাঁটছে।” “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তার শাসনামলে উন্নয়নের এক চোখ ধাঁধানো বয়ান পেশ করেছেন। যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই,” বলেন বিএনপি মহাসচিব।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ











অভিযোগ খারিজ 

অভিযোগ খারিজ 

২০ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:৪০