খুলনা | সোমবার | ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ |

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে

১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০:০০

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে


খুলনা অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত ৮টি পাটকলে শ্রমিকদের টানা আন্দোলন চলছে। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে হঠাৎ করেই বকেয়া মজুরির দাবিতে পাটকলগুলোতে শুরু হয় কর্মবিরতির পাশাপাশি ধর্মঘট। বকেয়া মজুরি, মজুরি কমিশন, গ্রাইচুইটি, পিএফ’র টাকা প্রদান, বদলী শ্রমিক ও কর্মচারীদের স্থায়ীকরণসহ ১১ দফা দাবিতে এ ধর্মঘট চলছে। তবে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে। নিয়মিত মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকরা যেমন আর্থিক সমস্যায় ভূগছে, তেমনই শিল্প এলাকার ব্যবসায়-বাণিজ্যেও ভাড়া পড়েছে। এখানকার অর্থনীতিতে পড়েছে বিরুপ প্রভাব। বিষয়টি পাট শিল্পের জন্য অশনীসংকেত।
উভয় সংকটে পড়েছে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো। উৎপাদনের তুলনায় বিক্রি কম হওয়ায় বাড়ছে বস্তার মজুদ। আর উৎপাদিত পাটের বস্তগুলো বিক্রি না হওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধেও বেগ পেতে হচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষের। এতে মজুরির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ বেড়েছে। বিগত ২০১৬ সালের অক্টোবরের শেষার্ধে বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে পাটের বস্তা তৈরির নির্দেশ দেয় পাট অধিদপ্তর। সেই অনুযায়ী খুলনাসহ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে বর্তমানে বস্তা তৈরির কাজ চলছে। সারাদেশের এসব পাটকলে দৈনিক পাঁচ লাখ পিস পাটের বস্তা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র খুলনার ক্রিসেন্ট, প¬াটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন ও জেজেআই জুটমিলে বস্তা তৈরির দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৬৩ হাজার পিস। সে অনুযায়ী কাজও চলছিল। কিন্তু শ্রমিকরা মিলে কাজ করেও নিয়মিত মজুরি পাচ্ছে না। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে। বিজেএমসির স্থানীয় লিয়াজো কর্মকর্তা ও মিল কর্তৃপক্ষ মজুরির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোন সমাধান করতে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নামতে হয়েছে। 
এছাড়া সরকার মিলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পে-কমিশন দিলেও মিলের শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরি কমিশন গত তিন বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। 
খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৮টি পাটকলে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। শ্রমিক-কর্মচারীদের ৫ থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। তাদের পাওনার পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তাদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করা পর্যন্ত তারা কাজে ফিরে যাবেন না। আর দাবি মেনে নেয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
আমাদের মতে জুট মিলগুলোর উৎপাদিত বস্তা বিক্রি না হওয়ার কারণে মজুদের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে অর্থ সংকটে পড়তে হচ্ছে। রাইস মিল মালিকরা বস্তা না নেয়াও এর জন্য দায়ী। এছাড়া বেসরকারি জুটমিলগুলো বিজেএমসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে বস্তা বিক্রি করায় রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলগুলোর বস্তা বিক্রি কমেছে। ফলে মজুরি দিতে না পারায় মিলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বকেয়া প্রদান, পাট কেনার অর্থ বরাদ্দসহ বস্তার মূল্য কমিয়ে আনার বিষয়ে বিজেএমসি দ্রুত উদ্যোগ নেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ