খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২১ জুন ২০১৮ | ৭ আষাঢ় ১৪২৫ |

মাদকের ছড়াছড়ি : আছে মশার উপদ্রব

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ এলাকার উন্নয়নে কাজ করবে এমন প্রার্থীকে চান ওয়ার্ডবাসী

মোহাম্মদ মিলন | প্রকাশিত ১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০১:০০:০০

উত্তরে ভৈরব নদের তীর, দক্ষিণে বিআইডিসি রোড, পূর্বে প্ল¬াটিনাম জুট মিল কলোনীর শেষ সীমানা ও পশ্চিমে বিজেএমসির কবরস্থান এলাকা ঘিরে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ড । এ ওয়ার্ডে রয়েছে সরকারি দু’টি পাটকল, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, আর বিআইডিসি সড়কের কোল ঘেঁষে রয়েছে রেল বস্তি। শ্রমিক অধ্যুষিত এ ওয়ার্ডে বসবাসকারীরা দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। নেই কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিক। পার্শ¦বর্তী ওয়ার্ডে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিতে হয় তাদের। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে ব্যর্থ বর্তমান কাউন্সিলরসহ পূর্বের সকল কাউন্সিলর। ওয়ার্ডে অপ্রতুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে মাদকের ছড়াছড়ি। ওয়ার্ডের বিভিন্ন পয়েন্ট চলে মাদক সেবন ও বিকিকিনি। প্রশাসনের তৎপরতায় মাঝে মধ্যে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হলেও প্রভাবশালীদের ছত্র-ছায়ায় ফের তৎপর হয়ে ওঠে মাদক বিক্রেতারা। এখানে ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অত্যন্ত  নাজুক। বকেয়া বেতনের দাবিতে বর্তমানে এ অঞ্চলের  মিল শ্রমিকরা রাজপথে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের বিষাদের মধ্যেও এ ওয়ার্ডে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রার্থীরা লিফলেট, পোস্টার ও প্যানা টাঙিয়ে তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। অনেকেই শ্রমিকদের পাশে থেকে দাবি আদায়ের মিছিলে যোগ দিচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা সুবিধা বঞ্চিত ওয়ার্ডবাসী তাদের প্রার্থীকে বেছে নিতে করছেন নানা পরিকল্পনা। এবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে আসবে এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে চান ওয়ার্ডবাসী।       
বিগত ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ৭শ’ ৬৪ জন। ওয়ার্ডে মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। গত নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ছিলেন ৪ জন। এর মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর মোঃ শাহ আলম গেল বছর মারা যান। আসন্ন কেসিসি নির্বাচনে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ৫ জন।  
৮ সপ্তাহ মজুরি না পেয়ে অর্থ কষ্টে থাকা কতিপয় শ্রমিক গতকাল ক্রিসেন্ট জুট মিলের সামনে রেল লাইনের ওপর দাড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ প্রতিবেদকের কথা হয় তাদের সাথে। জানালেন, আর্থিক সংকটে মানবেতন জীবন-যাপনসহ নানা সমস্যার কথা হয়। ‘কেমন কাউন্সিলর চান’ এমন  প্রশ্নের জবাবে মোঃ আলমগীর হোসেন নামে একজন বললেন, ওয়ার্ডে নেই কোন ক্লিনিক বা হাসপাতাল। অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিতে হয়। এ অঞ্চলের শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি না পেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটায়। ফলে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার মতো অর্থ শ্রমিকদের কাছে থাকে না। আর শ্রমিক বাদে যারা রয়েছে তারা অধিকাংশই রেলবস্তিতে থাকে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারবে এবং জনগণের পাশে থেকে কাজ করবে এমন একজন যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে মূল্যবান ভোট প্রদানের কথা জানান তারা। 
ওয়ার্ডের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, মিল এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি। প্রভাবশালী মহল এটি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ কাউকে আটক করলে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনতে এই মহল তদবির শুরু করে। এখানে খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, খালিশপুর ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের তিনটি বিদ্যালয় রয়েছে।কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদের সন্তানরাই সেখানে পড়াশুনা করে। ওয়ার্ডের বাকি বাসিন্দাদের সন্তানের অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে লেখাপড়া করতে হয়। এতে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ক্রিসেন্ট কাঁচা কলোনীর ড্রেনটি প্রশস্ত হলেও এর ওপর স্লাব না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকতে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ কলোনী ও রেল বস্তিতে বসবাসকারীরা। নেই পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা। এছাড়া কাউন্সিলর কার্যালয়ের জন্ম নিবন্ধক ও ওয়ার্ড সচিবের বিরুদ্ধে যথাযথ সেবা প্রদানে অনীহার অভিযোগ রয়েছে। এরই মাঝে আসন্ন কেসিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ওয়ার্ডেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। কথা হয় মাঠে রয়েছেন এমন কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর সাথে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মোঃ শামসুল আলম বলেন, “দল থেকে যেহেতু সমর্থন দিয়েছে জনগণের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।” ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ডালিম বলেন, “দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত স্কুলের ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত এখানকার বাসিন্দারা। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে নান প্রতিশ্র“তি দিলেও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থাও অপর্যাপ্ত।” তিনি বলেন, “বিজয়ী হলে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদক নির্মূলসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবো।” এছাড়া সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন শ্রমিক নেতা আবু তাহের মজুমদার ও মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান।
খালিশপুর থানা যুবলীগের আহবায়ক এবং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ সাহিদুর রহমান বলেন, “এটি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। দায়িত্ব নেয়ার সময়ে রাস্তা-ঘাট ছিল না। বিগত দিনে এ ওয়ার্ডে তেমন কোন কাজ হয়নি। সেখানে ৯৫ শতাংশ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর রেল বস্তিতে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বড় দু’টি টয়লেট, রাস্তা-ঘাট সংস্কার, সড়ক বাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ক্রিসেন্ট কাঁচা লাইনে মহিলাদের জন্য বড় টয়লেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “ওয়ার্ডে কোন স্বাস্থ্য ক্লিনিক নেই। ফলে অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে সেবা নিতে হয়। স্থান স্বল্পতার কারণে স্বাস্থ্য ক্লিনিক করা সম্ভব হয়নি। তবে স্বাস্থ্যসেবার জন্য ওয়ার্ড অফিসের দ্বিতীয় তলায় ৬টি কক্ষ আলাদা রাখা হয়েছে। এখানে ওয়ার্ডবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করার প্রস্তাবনা দেয়া রয়েছে।” তবে তিনি দাবি করেন, এলাকায় মাদক এবং জুয়া এখন আর ওপেন ভাবে চলে না। তবে কিছু ভ্রাম্যমাণ মাদক বিক্রেতা থাকতে পারে। ওয়ার্ডের ক্রিসেন্ট মিলের পাশ থেকে একটি সড়ক স্থানীয় জনগণের জন্য খোলার প্রস্তাব ছিল। তবে ক্রিসেন্ট জুট মিলের গোডাউন থাকার কারণে সেটি বাদ রেখে এখন বিজেএমসির কবরখানার পাশ দিয়ে এই রাস্তা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সকলের চলাচলে সুবিধা হবে। তিনি বলেন, শতভাগ কাজ করতে পেরেছি বলবো না। তবে আগামীতে ওয়ার্ডবাসীর পাশে থেকে কাজ করে যাবো। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ





এবার যশোরে ব্রাজিল বাড়ি 

এবার যশোরে ব্রাজিল বাড়ি 

২১ জুন, ২০১৮ ০১:০৯

বিশ্বকাপে আজকের খেলা 

বিশ্বকাপে আজকের খেলা 

২১ জুন, ২০১৮ ০১:১৩