খুলনা | রবিবার | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতি হতাশ’

আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করা হবে : বিএনপি

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:০৯:০০

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতি হতাশ ও আশাহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ  শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন। গুলশানে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওই মন্তব্য করেন তিনি। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় বিএনপি’র চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতি হতাশ ও আশাহত হয়েছে। তার বক্তব্য দেশকে নতুন করে সংকটের দিকে নিয়ে যাবে। সবাই যখন একটি সমঝোতার আশা করছে, তখন এ ধরনের বক্তব্যে সবাই হতাশ হয়েছে।’
নির্বাচন ইস্যুতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেশকে আরেক দফায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে বলে মনে করছেন বিএনপি’র এই নেতা। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল কখনও নির্বাচনের জন্য নৈরাজ্য করেনি। আর দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে নয়, দুর্নীতির মহাসড়কে উঠেছে।’
সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার টেলিভিশন ও বেতারে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে একাদশ সংসদ নির্বাচন কখন ও কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অবস্থান তুলে ধরেন।
এর আগে সুষ্ঠ নির্বাচন আদায়ে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সমঝোতায় বিশ্বাস করে না। তাই সরকারকে বাধ্য করা হবে, দেশে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান করার জন্য। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ৩নং কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভা ও নতুন তাঁরা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮২ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘আমাদের সংস্কৃতি ও শহিদ জিয়া’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) কেন্দ্রীয় কমিটি।
আলোচনা সভায় মওদুদ বলেন, আমরা একদলীয় শাসক দেশে দেখতে চাইনা। আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। অধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা আমাদের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে চাই এবং সেটা আনার জন্যই আজকে এই আন্দোলন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমাদের আন্দোলন, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি, পাশাপাশি কাজ, একসাথে চলবে।
আন্দোলন কেন দরকার প্রশ্ন রেখে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, আন্দোলন করা এই জন্য দরকার, কারণ সরকার সমঝোতায় বিশ্বাস করে না। বিরোধী দলের সঙ্গে কোন শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় বিশ্বাস করে না বরং বিরোধীদলকে কিভাবে শেষ করতে হয়, সেই কাজে তারা বেশি নিয়োজিত আছে, তাদের পুলিশ, তাদের ট্রেনিং হলো কিভাবে বিরোধী দলকে শেষ করা। সেই জন্য আন্দোলনের এই প্রয়োজন যে আন্দোলন ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নাই।
অন্যদিকে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন হলে বিএনপি সেই নির্বাচন মাথা পেতে নেবে না। সেই নির্বাচন জাতি গ্রহণ করবে না। সেই নির্বাচনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ আওয়াজ তুলবে।
বিএনপি’র এই নেতা আরো বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই, নির্বাচন আমরা করব। তবে সেই নির্বাচন নির্ভেজাল হবে। আর সেই নির্বাচনে সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে আবদুল্লাহ আল নোমান এ মন্তব্য করেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের’ দাবিতে এ সভার আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক মঞ্চ। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইসমাইল তালুকদার খোকন।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের জনগণের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের লড়াই হবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বন্দুক ও রাইফেল দিয়ে দমিয়ে রাখতে পারবে না। আর হামলা ও মামলা দিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী করতে পারবে না। আর যদি বন্দি করে তাহলে দেখা যাবে, খালেদা জিয়া ফুলের মালা নিয়ে কারাগার থেকে বের হচ্ছেন আর হাসিনা কারাগারে ঢুকচ্ছেন। এই লিখন তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) কপালে!’
রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা এখন অসহায় অবস্থায় আছে মন্তব্য করে আবদুল্লাহ আল নোমান আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করতে চায়। কারণ সরকার মনে করে, জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে তাঁরা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। এই কারণে তাঁরা বিএনপিকে ধ্বংস করতে চায়।’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি’র এই ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে আমরা আলোচনা করব, প্রয়োজনে আন্দোলনও করব। আর এভাবেই আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করব। ওপরে সরকারকে যতই শক্তিশালী মনে হোক। আসলে তারা দুর্বল হয়ে গেছে।’


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ








খুলনায় বিসিবি’র চারদিনের ম্যাচ ড্র

খুলনায় বিসিবি’র চারদিনের ম্যাচ ড্র

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩

আবারও ব্যার্থ আশরাফুল

আবারও ব্যার্থ আশরাফুল

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩