খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ | ৯ মাঘ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

সুন্দরবনে ১০টি ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণ আজও স্বপ্ন হয়ে রয়েছে

মাহমুদ হাসান, মংলা | প্রকাশিত ১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০:০০

সুন্দরবনে ১০টি ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণ আজও স্বপ্ন হয়ে রয়েছে

সুন্দরবন এলাকায় স্বাস্থ্য সেবায় প্রস্তাবিত ১০টি ভাসমান হাসপাতাল স্থাপন দীর্ঘ ২২ বছর পার হলেও আজও অধরা রয়ে গেছে। বনের অভ্যন্তরে কর্মরত বাওয়ালি, জেলে, মৌয়াল, বন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের দাবি দীর্ঘ প্রায় ২২ বছরের। হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় বনের ভেতর এবং সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষ পাচ্ছেন না ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা। ফলে উপেক্ষিত হচ্ছে ওই এলাকার মানুষদের মৌলিক মানবাধিকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ১৯৯৫ সালে সুন্দরবন বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন প্রজেক্ট (এসবিসিবি) বা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবনের খালি জায়গায় বাগান স্থাপন, বিদ্যমান বাগানের উন্নয়ন ও বনের ওপর থেকে চাপ কমাতে বনজীবীদের জন্য বিকল্প পেশার ব্যবস্থা করার চিন্তা করা হয়। একই প্রকল্পের অধীনে সুন্দরবন অঞ্চলে ১০টি ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বন বিভাগের যথাযথ ভূমিকার অভাবে এডিবি অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেয়। ফলে ২০০৩ সালে গোটা প্রকল্পই মুখ থুবড়ে পড়ে। ২০০৬ সাল নাগাদ প্রকল্পের সকল কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়া হয়। আর সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় ভাসমান হাসপাতাল ও বনাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগ মিলিয়ে পুরো সুন্দরবন থেকে নিকটবর্তী শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মংলা, শ্যামনগর, কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর দূরত্ব প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থাও সেকেলে। ফলে বনের অভ্যন্তরে হঠাৎ কেউ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে ৭০/৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসার জন্য আনার পথিমধ্যে কেউ কেউ চিকিৎসার অভাবে মারাও যাচ্ছে। 
বন বিভাগ সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে সুন্দরবনের ভেতরে কর্মরত বন বিভাগের মাঠ কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বনজীবী মানুষ তাৎক্ষণিক চিকিৎসার অভাবে মারা যান। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সংখ্যক মানুষই বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মী। এর মধ্যে ২০০৯ সালের ১ জুন সুন্দরবনের মরা ভোলা ক্যাম্পে কর্মরত থাকা কালীন বনদস্যুদের অতর্কিত গুলিতে আফসার উদ্দিন মোল্লা নামে একজন নৌচালক গুরুতর আহত হন। পরে জরুরী চিকিৎসার অভাবে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। একই ঘটনায় গুরুতর আহত শাহ আলম নামের একজন বনরক্ষী প্রাণে বেঁচে গেলেও, তাৎক্ষণিক চিকিৎসার অভাবে তিনি একটি চোখ হারান। এ ছাড়া ২০০৮ সালে ১৭ ডিসেম্বর দুবলার চরে কর্মরত অবস্থায় হারুন-অর রশীদ, ২০০৮ সালের ১০ মে সুন্দরবনের গেওয়াখালী টহল ফাঁড়িতে সুভাষ চন্দ্র মজুমদার, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দুবলার চরে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও জলোচ্ছ্বাসে আহত হয়ে সাইদুর রহমান, ২০০৫ সালের ৩১ জানুয়ারি সুন্দরবনের নোটাবেকী টহল ফাঁড়িতে কর্মরত অবস্থায় মাহবুবুর রহমান, ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি সুন্দরবনের হরিণটানা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকালে জাফর আলী খাঁন, কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রে কাওসার আলী চিকিৎসার অভাবে মারা যান।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান বলেন, বন বিভাগের মাঠকর্মী ছাড়াও, জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বিভিন্ন শ্রেণীর বনজীবী মানুষ বিভিন্ন সময় জরুরী চিকিৎসার অভাবে মারা যান। এছাড়া সুন্দরবনের ভেতর সপরিবারে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারিবারিক সদস্যরা হঠাৎ করে কোনও স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়লে দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। এক কথায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই তাদের সপরিবারকে সেখানে থাকতে হয়।


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ








রংপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’  একজন নিহত 

রংপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’  একজন নিহত 

২২ জানুয়ারী, ২০১৮ ২৩:৫৯