খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ এপ্রিল ২০১৮ | ৬ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

অপ্রতুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : মাদকে সয়লাব 

অর্থের জোর আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয় জনবান্ধব প্রার্থীকে বেছে নিতে চায় ওয়ার্ডবাসী

মোহাম্মদ মিলন  | প্রকাশিত ১২ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫৫:০০

উত্তরে ভৈরব নদের তীর, দক্ষিণে বিআইডিসি রোড, পূর্বে খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পশ্চিমে বিএল কলেজ ও যমুনা রোড নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ডের অবস্থান। যেখানে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা তিনটি তেল ডিপো, ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার স্টেশনসহ ছোট-বড় বেশ কিছু বিদ্যুৎ প্লান্ট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ ওয়ার্ডে ডাস্টবিনসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ওয়ার্ডের পূর্ব পাশে বিজেএমসির কবরখানা এলাকায় বসবাসকারীদের   পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ। মাদকে সয়লাব এ ওয়ার্ডে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলে মাদকের বিকিকিনি। ফলে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিল। একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় আর একটি মাদ্রাসা রয়েছে এ ওয়ার্ডে। নেই কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য পাশর্^বর্তী ওয়ার্ডের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। 
বিভিন্ন নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত এ ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। আর ওয়ার্ডবাসীও ভাবছেন আগামী নির্বাচনে তাদের কাউন্সিলর নিয়ে। তবে এবার পেশী শক্তি, অর্থের জোর আর প্রতিশ্র“তির ফুলঝুরি নয়, জনবান্ধব প্রার্থীকেই বেছে নিতে চায় ওয়ার্ডবাসী। কেমন কাউন্সিলর চাই-এ প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে এভাবেই ওয়ার্ডবাসী তাদের মনোভাব প্রকাশ করেন। 
ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহাবুব আলম বাদশা বলেন, পদ্মা রোডে একটি রেলক্রসিং গেট প্রয়োজন। এছাড়া পাওয়ার প্লান্টের পানিতে এ রোডটি নোংরা হয়ে থাকে। যে কারণে এলাকাবাসীর চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি বলেন, স্থানীয় পুলিশিং কমিটি সক্রিয় থাকায় মাদক অনেকটা কমেছে, তবে নির্মূল করা প্রয়োজন। ওয়ার্ডের রাজধানীর মোড়ের বাসিন্দা মোঃ দবির উদ্দিন বলেন, প্রার্থী অনেকেই আছেন। তবে জনগণের পাশে থাকবে এবং উন্নয়নে করবে এমন প্রার্থীকেই ভোটের সময়ে প্রাধান্য দেয়া হবে। 
ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলেন, কবর স্থান রোড, কাশিপুর পশ্চিমপাড়াসহ রেল লাইনের আশ-পাশ এলাকা মাদকের বিকিকিনি ও সেবনের নিরাপদ স্থান। সন্ধ্যার পর এখানে চলাচল করা দায়। প্রভাবশালী মহলের ছত্র-ছায়ায় মাদক বিকিকিনি চলে। ওয়ার্ডে ডাস্টবিন নেই বললেই চলে। আর অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।      
এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৫ জুন কেসিসি নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে ৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচারণায় মাঠ রয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা এলাকায় প্যানা, পোস্টার আর নতুন বছরের ক্যালেন্ডার নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ওয়ার্ডে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে ২ জন এবং বিএনপি’র চার। তবে অনেকটা আগে-ভাগেই মনোনয়ন পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র প্রার্থী। এ ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছে ৭ হাজার ৬শ’। তবে হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আসন্ন নির্বাচনে ভোটার বাড়বে। ওয়ার্ডে মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।    
দলমত নির্বিশেষে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এলাকার উন্নয়নে ওয়ার্ডবাসীকে নিয়ে কাজ করতে চান আ’লীগ নেতা শেখ সেলিম আহমেদ। তিনি বলেন, “দল মনোনয়ন দেবে বলে আমি আশাবাদী। দল আমাকে সমর্থণ দিলে আমি নির্বাচন করবো। আর দল যদি অন্য কাউকে সমর্থন করে তাহলে তার পক্ষেই কাজ করবো। আমি জনগণের পাশে সর্বদা আছি এবং থাকতে চাই।” 
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ও দলের ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী মিজানুর রহমান বলেন, কাশিপুর পদ্মা রেল রোড ও মেঘনা রেল রোডের কিছু অংশের সংস্কার করা প্রয়োজন। মেঘনা রোডের কিছু অংশের কাজ নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী দেয়ার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমার দলের সমর্থন বেড়েছে। জনগণের পাশে থেকে কাজ করছি এবং নির্বাচিত হলে পাশে থাকতে চাই।” 
দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে অনেকটা আশাবাদী ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রঞ্জু। তিনি বলেন, “দল সমর্থন দিলে জনগণের কাঙ্খিত চাহিদা পূরণে কাজ করবো। একই সাথে ওয়ার্ডের মাদক নিমূল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই।”  
বিএনপি’র সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী খালিশপুর আঞ্চলিক শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর মোকছেদ আলী। তিনি বলেন, “এ ওয়ার্ডে প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে চলছে মাদক বিকিকিনি। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও নাজুক। একটু বৃষ্টিতে পানি জমে। কাউন্সিলর জনবিচ্ছিন্ন। আর উন্নয়ন কাজ চোখে পড়ার মতো না।”
দলের মনোনয়নের বিষয়ে অনেকটাই আশাবাদী ছাত্রদল বিএল কলেজ শাখার আহ্বায়ক আলহাজ¦ শেখ রিয়াজ সাহেদ। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ ওয়ার্ডে তিনটি ডিপো ও পাওয়ার স্টেশন রয়েছে। এ ওয়ার্ডে একটি ফায়ার স্টেশন জরুরী। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। নগরীর ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক লিটন খান বলেন, দল তাকে সমর্থন দিলে মাদকের ছোবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় কাজ করবেন। এলাকার উন্নয়নে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার কথাও জানান তিনি।  
তবে দলীয় সমর্থনে শতভাগ আশাবাদী বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ সুলতান মাহামুদ পিন্টু। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মামলায় তিন বছর তিনি ঘর ছাড়া ছিলেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া নির্বাচিত হওয়ার পর একবার গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকার হয়েছেন। ফলে অনেকটা নিরাপদে চলাচল করতে পারেননি তিনি। তিনি বলেন, “স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা দায়। নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় বড় মাঠ সংস্কার, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক অধিকাংশ কাজ করেছি। এলাকার গরীব, দুঃখীসহ সকল শ্রেণির মানুষের পাশে থেকেছি। শত বাধার মধ্যেও এলাকাবাসীর উন্নয়নে কাজ করবো।” তিনি বলেন, মাদক সর্বত্রই রয়েছে। তবে এখন কিছুটা কম। যা রয়েছে তা ভ্রাম্যমাণ।  


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ