খুলনা | বুধবার | ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

রোহিঙ্গা হত্যার দায় স্বীকার  মিয়ানমার সেনাবাহিনীর

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১২ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:০০:০০

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই প্রথমবারের মত স্বীকার করেছে যে, রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যায় জড়িত ছিল দেশটির সেনা সদস্যরা। মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেসবুক এ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে এই স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।
সেনাবাহিনী বলছে, এক তদন্তে উঠে এসেছে , মংডুর ঈন ডিন গ্রামে চালানো হত্যাযজ্ঞে নিযুক্ত ছিল চার সেনাসদস্য ও কিছু গ্রামবাসী, যারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। সেখানে ওই চার সেনা গ্রামের একটি কবরের কাছে নিয়ে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে।
রিপোর্টে বলা হয়, ওই সেনা সদস্যরা রোহিঙ্গাদেরকে বাঙালি সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদের ওপরে হিংসাত্মক হামলা চালাতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তা করেছিল। 
গত মাসে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ডিন গ্রামে একটি গণকবরের ভেতর থকে ১০টি মাথার খুলি পাওয়ার পর সে বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছিল। ওই তদন্ত শেষে উঠে আসা ফলাফল দেশটির সেনা কমান্ডার ইন চিফের ফেসবুক পাতায় দেয়া হয় এবং বলা হয় গত ২ সেপ্টেম্বর ওই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, এটা সদ্য যে গ্রামবাসী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উভয়পক্ষই স্বীকার করেছে যে তারা ১০ জন ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’কে হত্যা করেছে।
এতে আরও বলা হয় এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সেনাবাহিনী। তবে সেখানে এও বলা হয় যে এমন ঘটনা ঘটেছে কারণ সেখানে বৌদ্ধ সম্প্রদায় সন্ত্রাসীদের দ্বারা ভীত এবং প্ররোচিত হয়েছিল।
তবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের স্বীকারোক্তি বিরল। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
এর আগ পর্যন্ত রাখাইনের সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে এক সঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।
আগস্ট থেকে এক বছরে রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৪০০ রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছে বলে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বারবার দাবি করলেও বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ার্সের (এমএসএফ) মতে এই সংখ্যাটি ছয় হাজার ৭০০। এরপর রাখাইন থেকে সাড়ে ছয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গারা ভয়াবহতার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছেন, দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্যরা পুরুষ সদস্যদের ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করছে, নারীরা প্রতিনিয়ত সেখানে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে আর তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার এ ঘটনাকে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নিধনের ধ্র“পদী উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। যদিও মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং দেশটির নেত্রী নোবেলজয়ী অং সান সুচির পক্ষ থেকে তা বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে।
এর আগে ২০১২ সালের জুনেও রাখাইন রাজ্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত হয়েছিল। তখন প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা নিহত হন। ওই সময় দাঙ্গার কবলে পড়ে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ











‘বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নেই’ 

‘বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নেই’ 

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৩৭