খুলনা | শনিবার | ২১ এপ্রিল ২০১৮ | ৮ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ

মোঃ আতিয়ার রহমান | প্রকাশিত ১০ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:২৩:০০

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটে মার্কিন মল্লুকের পরাজয়ে খুশি বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ। ট্রাম্পের আর্থিক সহায়তা বন্ধের হুশিয়ারীকে তোয়াক্কা করেনি সাহায্য প্রার্থী দেশগুলো। মানবতার কাছে পরাজয় ঘটেছে পেশীশক্তির। ভোটের আগে ট্রাম্পের ঘোষণা ছিল, “তাদেরকে আমরা কোটি কোটি টাকা সাহায্য করি। আর তারা আমাদেরই বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চায়। ভোট দিক তারা, আমাদের কোটি কোটি ডলার বাঁচবে।” এমন ঘোষণাকে আমলে না এনে বিবেকের তাড়নায় অদ্ভুত এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে সাধারণ পরিষদের সদস্যভুক্ত দেশগুলো। ট্রাম্পের হুমকি অগ্রাহ্য করে ফিলিস্তিনীদের অধিকার আদায়ের পক্ষে রায় দিয়েছে জাতিসংঘের ১২৮টি দেশ, অবশ্য ৩৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। বস্তুতঃ জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি “অধিকার” এবং তা বাতিল করা জরুরী, এ অধিবেশনে সেটাই স্পষ্ট। এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে, এতে কোন সন্দেহ নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা ট্রাম্পের একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে শুধু ব্যাহতই করবে না, এই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ট বলে পরিচিত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও সৌদিআরবসহ অনেক মিত্র দেশ ট্রাম্পকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বারণ করেছিল। কিন্তু ট্রাম্প কারও কথায় কর্ণপাত না করে খুশি করলেন ইসরাইলকে। ইতোপূর্বে ১৯৮০ সালেও একবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তখন তাদের এই সিদ্ধান্তে কোন স্বীকৃতি জানায়নি। ২০১৭ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনের হামাস গ্র“প একটি ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে। সেখানে জেরুজালেমকে রাজধানী করে নতুন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। তারা ইসরাইলকে কোনো রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিতেও অস্বীকৃতি জানায়। যদিও ইসরাইল সরকার সেটা বাতিল করে দেয়।
জেরুজালেম : এখন বিশ্বের সব চেয়ে অলোচিত একটি স্থানের নাম। জেরুজালেম শহরের সঙ্গে রয়েছে শত-সহস্র বছরের প্রাচীন ইতিহাস। এটি বর্তমানে ইসরাইলে অবস্থিত। এই শহরকে বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর একটি বলে গণ্য করা হয়। তিনটি ধর্মের সঙ্গে ওতোপ্রেতোভাবে ও গভীরভাবে জড়িত এই জেরুজালেম। ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্ম। জানা যায়, প্রাচীন ব্রোঞ্চ যুগ থেকেই এখানে মানুষের বসবাস। সেটা ৩৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকেই। জেরুজালেম শহরটি  গুরুত্বপূর্ণ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্যই। কেননা এখানেই শিশু হিসাবে এসেছিলেন যিশু। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এখানেই ধর্ম প্রচার করেছেন তিনি এবং জীবনের শেষে এখানেই ক্রশেবিদ্ধ হয়েছেন। আবার ইহুদিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাদের ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মোজাসেরও পূণ্যভূমি এই জেরুজালেম। ইহুদিদের প্রথম মন্দির এই শহরে অবস্থিত ছিল। মক্কা-মদিনার পর আল-আকসা মসজিদকে সবচেয়ে বেশী পবিত্রতম স্থান মনে করে মুসলমানরা। ইসলাম ধর্মমতে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বুরাকে চড়ে ১৫ দিনের সফরে এখান থেকে বেহেশতে যান। জেরুজালেমকে নিয়ে দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু টেম্পল মাউন্ট। এটি ৩৫ একর জমিতে অবস্থিত। সেখানে কিছু ধর্মীয় স্থাপনা রয়েছে, যেমন ওয়েস্টার্ন ওয়াল, দি ডোম অব দিরক এবং আল-আকসা মসজিদ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জেরুজালেম শাসন করে গ্রেট ব্রিটেন। সেই সময় ফিলিস্তিনের অংশ ছিল জেরুজালেম। ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম ২০ বছরের মধ্যেই জেরুজালেমকে ভাগ করে নেয়া হয়। সেখানে ইসরাইল পশ্চিম অংশ শাসন করত আর জর্ডান নিয়ন্ত্রণ করতো জেরুজালেমের পূর্বাংশ। ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের আরব ইসরাইল যুদ্ধে পুরো জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল।
ইসরাইলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রীতির কারণ : যুক্তরাষ্ট্রের ইতোপূর্বের সকল রাষ্ট্রপতিসহ ট্রাম্প প্রশাসন বাইবেলের এক ভবিষ্যৎ বাণীকে বিশ্বাস করে এবং তার উপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করে। তাদের ধারণা যে ভবিষ্যতে কোন এক সময় ইহুদি-খ্রিস্টান সম্মিলিত শক্তি যুদ্ধ করবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে। ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিব থেকে ৫৫ মাইল উত্তরে ম্যাগোডা নামে একটি প্রান্তর রয়েছে। ভুমধ্যসাগর থেকে যার দূরত্ব ১৫ মাইল। মৌলবাদী খ্রিস্টান ও ইহুদিদের বিশ্বাস এখানেই হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এজন্য ইহুদিরা স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী  পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। আর সেগুলো বাস্তবায়ন করছে পর্যায়ক্রমে। এই পরিকল্পনার একটি অংশ বিশাল দেওয়াল নির্মাণ। এমন একটি ইঙ্গিত অবশ্য পাওয়া যায় পবিত্র কুরআনের সুরা হাশরের ১৪নং আয়াতে। এই আয়াতে বলা হয়েছে- “তারা সম্মিলিতভাবে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করবে শুধু সংরক্ষিত জনপদে কিংবা দেওয়ালের পিছন দিক থেকে।”
ইসরাইলের জন্ম : প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কি অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ফিলিস্তিনসহ বেশীরভাগ আরব এলাকা চলে যায় ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের কবলে। ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বালফোর ইহুদিবাদীদেরকে লেখা এক পত্রে ফিলিস্তিনি ভুখন্ডে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্র“তি ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিপুল সংখ্যক ইহুদি ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনে এসে বসতি স্থাপন করতে থাকে। ১৯০৫ সাল থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সংখ্যা ছিল মাত্রকয়েক হাজার। ১৯৩১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮০ হাজার, ১৯৪৮ সালে ৬ লাখ। ১৯১৮ সালে বৃটেনের সহায়তায় গুপ্তবাহিনী “হাগানাহু” গঠিত হয়। এই বাহিনী ইহুদিবাদীদের অবৈধরাষ্ট্র গঠনে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয়ে ফিলিস্তিনি জনপদে বাড়িঘড় ও ক্ষেত-খামার দখল করে তাদেরকে ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত করে এবং বাজারঘাটসহ জনসমাবেশ স্থলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদেরকে বিতাড়নের কাজ ত্বরান্বিত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনী ভুখন্ডকে দ্বিখন্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১নং প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবে ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমির মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনীদের এবং বাকী ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদীবাদীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এইভাবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরাইল স্বাধীনতা ঘোষণা করে। আর তারপর থেকে তারা অমেরিকার মদদে একের পর এক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনে অবৈধভাবে ও জবরদখলের মাধ্যমে ইসরাইল নামের একটি রাষ্ট্র চাপিয়ে দেয়ার পর থেকে আরব দেশগুলোর সাথে ইহুদিবাদী তথা বর্ণবাদী এই জালিম শক্তির যুদ্ধ হয়েছে বেশ কয়েকবার। 
ইসরাইল সম্পর্কে বাংলাদেশীদের ধারনা : বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও ইসরাইল বিদ্বেষী। বিশ্ব মিডিয়া ইহুদী-নাসারাদের দখলে থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলের আগ্রাসী কর্মকান্ড যেটুকু এদেশের মানুষ জানতে পেরেছে, তাতেই তারা ইহুদীদের ঘৃণা করেছে। পৃথিবীতে মাত্র দু’টি দেশ তাদের সীমান্তে কাঁটা তাড়ের বেড়া দিয়ে প্রতিবেশী দেশকে অপমানিত করেছে। একটি হলো ভারত, অপরটি ইসরাইল। কিছুদিন পূর্বেও ইসরাইলের পক্ষে ভারতে মিছিল হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষ মনে করে, মুসলিম নেতারা মিডিয়ায়, আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে বা জাতিসংঘে গিয়ে কেন ইসরাইল “অবৈধ” তা রিলিজিয়াস বা সেক্যুলার পারস্পেক্টিভ থেকে ব্যাখ্যা করেন না? যে কারণে ইউরোপ-আমেরিকায় লিজিটিমেসির পয়েন্টে ইহুদিরা সমসময়ই এগিয়ে থাকে। মুসলমানরা এই পয়েন্টের ধারে না গিয়ে “ইসরাইল অনেক অত্যাচারী” এই পয়েন্ট ধরে আগায়। যার ফলে, বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের পক্ষে জনমত শুধু “মায়া- দয়া-ভালবাসা”র ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। কিন্তু লেজিটেমেসি’র দিক দিয়ে ইসরাইল যে অবৈধ তা মিডিয়া প্রচার না হওয়ায় ইসরাইলকে “এলিমিনেট” করার কথা মুসলমানরা মুখেও আনতে পারে না। যার কারণে সবসময় “একটি ইসরাইল রাষ্ট্র এবং একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র” এরকম একটি সমাধান বিশ্বের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশের প্রতিটা মুসলমান মনে করে শতকরা হিসাবেও ইহুদীরা কম হওয়ায়, ইসরাইল রাষ্ট্রটি বৈধ নয়। ইহুদীরা ইসরাইলের মাইগ্রেটেড পপুলেশন হওয়ায় এবং তারা ফিলিস্তিনিদের বের করে জায়গা দখলকারী হওয়ায়- “তাঁরা বৈধ নয়”। এটি জোর-জবরদস্তিমূলক একটি রাষ্ট্র যেটি আমেরিকা এবং বৃটেনের সামরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তায় টিকে আছে। পশ্চীম তীরে সেটেলমেন্ট এরপর সেটেলমেন্ট করে ফিলিস্তিনীদের জায়গা দখল করে নিচ্ছে জোর করে এবং ফিলিস্তিনীদের সংখ্যালঘু করার চেষ্টা করছে। আমরা কখনোই এই অবৈধ রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেব না। এটাকে ইল্লিগালী অকুপাইড টেরিটরি হসিাবে কাউন্ট করে যাব।
ইসরাইল একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র : দখলদার ইহুদীবাদী ইসরাইলের প্রতি পাশ্চাত্য ও মার্কিন সরকারের অন্ধ সমর্থনের কারণেই এই অবৈধ রাষ্ট্রটি দম্ভ ও ঔদ্ধত্য দিনকে দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরাইল তার সন্ত্রাসী ও সম্প্রসারণকামী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। পৃথিবীতে কোন মুসলিম দেশ পারমাণবিক বোমা বানাতে গেলে সেটা নিয়ে ইহুদী-নাসারারা হৈ-চৈ শুরু করে দেয়। এমনকি সেই দেশগুলোকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ দেশ দখলের হুমকির মধ্যেও পড়তে হয়েছে। কিন্তু ইসরাইল একটি অবৈধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছে অতি গোপনে। আজ পর্যন্ত যতগুলো দেশ পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। কিন্তু পারমাণবিক পরীক্ষা ছাড়া ইসরাইল পরমানু শক্তিধর হলো কিভাবে? প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্রান্স ও ইসরাইলের মধ্যে যে ধরনের পারমাণবিক সহায়তা ছিল তাতে পারমাণবিক ডিভাইস পরীক্ষা করার প্রয়োজন ছিল না। একটি বিশ্বস্ত  সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন- ১৯৬০ সালে পরমাণু পরীক্ষার মাধ্যমে একটি নয়, দু’টি পারমাণবিক শক্তির জন্ম হয়েছিল। একটি ছিল ফ্রান্স নিজে এবং অপরটি ইসরাইল। তারপর থেকে ইসরাইল আরব দেশগুলোর সাথে একরে পর এক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ইসরাইল সব যুদ্ধে পরমানবিক বোমা প্রর্দশিত করে, কিন্তু বিশ্ববাসী সেটা খুব একটা জানতে পারেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ইসরাইল এখন বিশ্বের কোন দেশকে পাত্তা দেয়না। যদিও এই মুহুর্তে একমাত্র ইরান ছাড়া আর কোন দেশই ফিলিস্তিনি মুসলমানদের পক্ষে জোরদার অবস্থানে নেই। সব মুসলিম দেশ পরিণত হয়েছে মার্কিনীদের তাবেদারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব বড় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নীতি নির্ধারক সংস্থায় ইহুদীদের প্রভাব ও কর্তৃত্ব রয়েছে। এসব ইহুদীরা মূলত আমেরিকা ও ইউরোপের বাসিন্দা। পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ সব রাজধানী ও বাণিজ্যিক শহরে রয়েছে ইহুদীদের বিপুল সম্পত্তি। যেমন রাশিয়ার মস্কো ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের উল্লেখযোগ্য এক অংশের মালিকানা ইহুদিদের। পৃথিবীতে মুসলমানদের হেয় করার জন্য প্রথম থেকেই ইহুদিরা উঠে-পড়ে লেগেছে। মুসলমানদের লেবাস গায়ে জড়িয়ে, ইহুদী হয়ে মুসলিম নাম রেখে একরে পর এক সন্ত্রাসী হামলা  চালিয়ে বিশ্বের বুকে মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী জাতি হিসাবে পরিচিত করেছে। বিশ্ব মিডিয়া সেটাকে ফলাও করে প্রচারও করে। আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলার ব্যাপারে সম্পূর্ণ দোষটা দেওয়া হয়েছে আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা আমরা অনেকেই জানি না। "Loose Change" নামে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ব্যাপারে বুশ প্রশাসনের দেওয়া ব্যাখ্যা ছিল মনগড়া। দুই টাওয়ার ধ্বসে পড়ায় জেট ফুয়েলের কোন ভুমিকা নেই। ওগুলো আগে থেকেই পেতে রাখা বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে প্রশাসনের লোকজনের ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। টুইন টাওয়ারে মোট ৭টি ভবন। এই সাতটি ভবনের মধ্যে তিনটি ভবন ছাড়া আগুন লেগে পৃথিবীতে কোন ভবন সম্পূর্ই ভেয়ে পড়েনি। ভবন-৭ এ জেট ফুয়েলের কোন ছিটেফোটাও পড়েনি, তবে কেন ঐ ভবনটি ভেয়ে গেল? তাছাড়া ঐদিন টুইন টাওয়ারে ব্যবসা বা কর্মরত কোন ইহুদিরা কাজে যোগদান করেনি। সেটাও বা কেন? লাদেন ছিল আমেরিকা ও ইসরাইলের একটা টোপ মাত্র। তারা তাকে সন্ত্রাসী হিসাবে জন্ম দিয়েছে, আবার বনিবনা না হওয়ায় মেরেও ফেলেছে। এখন ইসরাইল নতুন সন্ত্রাসী অস্ত্র হিসাবে আই এস- এর জন্ম দিয়েছে। এপর্যন্ত আই এস- এর কাছ থেকে যত প্রকার অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে তার সবগুলো ছিল ইসরাইল ও আমেরিকার তৈরি। কিছু দিন আগে সিরিয়ার দেইর আজ জোর অঞ্চলের আল-মায়াদিন শহরের আই এস- এর একটি ঘাটি থেকে  ইসরাইল ও ন্যাটোর নির্মিত অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করেছে সিরীয় সরকার। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ইসরাইলের নির্মিত ভারী, মাঝারি ও হালকা অস্ত্র। ন্যাটো, ইউরোপিয়ান ও পশ্চিমা দেশ নির্মিত মর্টার ও গোলাবারুদ। আই এস জঙ্গীরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে, একমাত্র ইসরাইল বাদে। আই এস যদি মুসলমানদের কোন সংগঠন হয়ে থাকে এবং তাদের উদ্দেশ্য যদি ইসলাম কায়েমের পথ পরিস্কার করা হয়, তবে ইসরাইল ও আমেরিকাই মূলতঃ মুসলমানদের একমাত্র শত্র“, এই দুটো দেশে কেন আই এস- এর হামলা হয় না? বস্তুতঃ আই এস- এর  জন্মদাতা এই দুটো দেশ তাই তাদের দেশে এই সংগঠনের কোন হামলা নেই।
পরিশেষে বলতে চাই ফিলিস্তিনি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বরাবরই ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন এ ক্ষেত্রে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে মনে হয়। এটি উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রই পারত ইসরাইলকে নমনীয় করতে। অথচ সেটা না করে দেশটি একতরফাভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা অন্যায় ও অযৌক্তিক। জাতিসংঘের ভোটাভুটিতে বিশ্ব কি চায়, তা স্পষ্ট হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তার অন্যায় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে, এটাই আমাদের কামনা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির পরিবর্তন ছাড়া এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে, ফিলিস্তিনিদের একটা স্বাধীন রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যা ইসরাইলের অন্যায় কর্মকান্ডকে সমর্থন দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। ভুলে গেলে চলবে না, আজ যে রাষ্ট্রটি ইসরাইল, একসময় সেটাই ছিল ফিলিস্তিন। ইসরাইলিরা সেই ভুখন্ড দখল করে নেওয়ায় বর্তমানে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিমতীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বের স্বীকৃতি চায়।

লেখকঃ
সহকারী রেজিস্ট্রার
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

সমাজ ও গ্রন্থাগার

সমাজ ও গ্রন্থাগার

০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:০০


এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০







পুলিশ মেমোরিয়াল ডে

পুলিশ মেমোরিয়াল ডে

০২ মার্চ, ২০১৭ ০০:৩৪


বৃক্ষ মানুষের পরম বন্ধু প্রকাশ

বৃক্ষ মানুষের পরম বন্ধু প্রকাশ

৩১ জানুয়ারী, ২০১৭ ০০:৫৯


ব্রেকিং নিউজ