খুলনা | সোমবার | ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৫ |

শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য বন্ধে  কঠোর পদক্ষেপ নিন

০৭ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০:০০

শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য বন্ধে  কঠোর পদক্ষেপ নিন


শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগরি। একটি দেশের জন্য, জাতির জন্য শিক্ষা এবং শিক্ষকের গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। কিন্তু শিক্ষাকে যখন কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বাণিজ্যে পরিণত করতে চায়, এর থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা লাভ করতে চায় তখন তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে কোচিং সেন্টার, কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা খুলে এবং বিভিন্ন পন্থায় বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষকরা কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নানা ফাদে ফেলে অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছে। সরকারের কোন পদক্ষেপেই দমানো যাচ্ছেনা এদের। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
বিগত কয়েক বছর ধরেই শিক্ষাকে অত্যন্ত নগ্নভাবে বাণিজ্যে পরিণত করার সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করে আসছে একটি সংঘবদ্ধ মহল। নানাভাবে তারা সফলও হয়েছে। শিক্ষা সম্পর্কিত প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থের সংযোগ রয়েছে। ভালো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রতিযোগিতা, ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা উপকরণ কিনতে বাধ্য করা, প্রাইভেট বা কোচিং পড়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস এমনকি ভালো ফলাফলের সঙ্গেও বাণিজ্যিকীকরণের উদ্দেশ্যই প্রধান কারণ। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা এখন বিলাসিতার নামান্তর। সরকার যেহেতু শিক্ষা খাতকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং শিক্ষার অগ্রযাত্রায় ব্যক্তিগত উদ্যোগকেও স্বাগত জানাচ্ছে তাই একটি অসৎ চক্র শিক্ষার নামে পুরোদস্তুর বাণিজ্য করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। সরকারিভাবে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় নির্মাণে সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত না থাকলেও দেশের আনাচে কানাচে গড়ে উঠছে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। এছাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাও গড়ে উঠছে দেশের আনাচে কানাছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী না থাকলেও কাগজে-কলমে চলছে বছরের পর বছর। সংঘবদ্ধ এই চক্রের বিরুদ্ধে নামসর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি করার চেষ্টার নানা তদবিরের অভিযোগও রয়েছে। তারা উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত লবিং করছে। ফলে একদিকে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের জোর চেষ্টা যেমন চলছে অন্যদিকে চলছে এসব প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দেয়া ও পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা।
সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার অর্থ এই নয় যে, শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তিগত লাভালাভ বা বাণিজ্য করার অধিকার কাউকে দেয়া হয়েছে। এ ধরণের কর্মকান্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তারা নিঃসন্দেহে দেশ ও জাতির শত্র“। অনতিবিলম্বে এদের চিহ্নিত করা জরুরী। শিক্ষা খাতকে এসব চক্রের কবল থেকে রক্ষা করতে হলে সরকারের দায়িত্বশীল মহলকে শিক্ষা নিয়ে যে কোনো ধরণের বাণিজ্য বন্ধে কঠোর ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ