খুলনা | সোমবার | ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫ |

ভেজাল সার কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন 

০৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০:০০

ভেজাল সার কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন 


বোরো আবাদকে সামনে রেখে ভেজাল সার কারবারি এখন সক্রিয়। প্রতি বছরের মত এবারও যশোরের একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিম্নমানের ও বিক্রয় নিষিদ্ধ সার ভালো মানের নামাঙ্কিত বস্তায় ভরে বেশি দামে বিক্রির প্রকৃয়া শুরু করেছে। ভেজাল সার তৈরি এবং বস্তা বদল করে এরা ব্যাপক মুনাফা লুটার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এসব সার ব্যবহার করে কৃষক একদিকে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে মাটি ও ফসলের। বিষয়টি উদ্বেগজনক। 
দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সারের সর্ববৃহত মোকাম যশোরের নওয়াপাড়া। আমদানি করা বিভিন্ন সার নওয়াপাড়া থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে যায়। আর এ সুযোগ নিচ্ছে নওয়াপাড়ার অসাধু ব্যবসায়ীরা। যশোরের শেখহাটি এলাকার কৃষাণ ফার্টিলাইজার, বালিয়াডাঙ্গার সোনালী এগ্রোসহ জেলায় দুই শতাধিক কারখানা দীর্ঘদিন ধরে এসব ভেজাল সার উৎপাদন ও বিপণন করছে। সিরামিক-বর্জ্যরে সঙ্গে মাটি এবং রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নকল সার। এছাড়া এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সারের সঙ্গে বালু, লবণ ও রং মিশিয়ে ভেজাল এমওপি সার তৈরি করা হচ্ছে। সেগুলোতে বিভিন্ন দেশের লেভেল লাগিয়ে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে কৃষকদের হাতে। এছাড়া নওয়াপাড়া ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি ভেজাল দস্তা সারের কারখানা গড়ে তুলেছেন। এসব কারখানায় হোয়াইট সিমেন্ট, সোডিয়াম পাউডার, মাটি, ছাই, ইটের গুঁড়াসহ ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল দস্তা সার। ফ্রেশ জিংক, আমেরিকান জিংকসহ নামি-দামি বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেট নকল করে এই ভেজাল সার ভরে বাজারজাত করা হচ্ছে। 
প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটনা ঘটলেও অজ্ঞাত কারণে তারা কোন ব্যবস্থা নেয়না। এর সাথে কৃষি বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকার প্রমানও মিলেছে। এর আগে যশোর সদর উপজেলার এক কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। তারপরও কৃষকদের সাথে এ প্রতারণা থামছে না। কৃষি বিভাগের কাছে এসব ভেজাল সার কারবারিদের তালিকা রয়েছে। তারা মাঝে মধ্যে এসব সার কারখানায় লোক দেখানো অভিযান চালালেও অপরাধীরা সব সময় থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। 
ভাল সার প্রয়োগ করার পর তা মাটিতে থাকা অণুজীব ভেঙে গাছের গ্রহণ উপযোগী করে দেয়। কিন্তু ভেজাল ও নকল সার মাটির অণুজীব নষ্ট করে ফেলে। ভেঙে দেয় মাটির গঠন প্রণালি। এতে ফসলের উৎপাদন চরমভাবে ব্যহত হয়। আমাদের প্রত্যাশা ভেজাল সার ব্যবসা বন্ধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিসত্ত্বর কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে। এতে বাচবে জমি, বাচবে কৃষক, বাচবে দেশ। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

বিদায় ১৪২৪ স্বাগত ১৪২৫

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৫৬








ব্রেকিং নিউজ