খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ |

তৃণমূলে কাজ করতে না চাইলে চাকুরি ছেড়ে দিন

০৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০:০০

তৃণমূলে কাজ করতে না চাইলে চাকুরি ছেড়ে দিন


তৃণমূলে কাজ করতে না চাওয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এবার কথা বলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। তিনি তৃণমূলে কাজ করতে না চাওয়া সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের চাকুরি ছেড়ে দিতে বলেছেন। ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উপজেলা পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকরা কর্মস্থলে না থেকে সপ্তাহের বেশিরভাগ ঢাকায় পার করেন বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, এভাবে যদি চিকিৎসকরা চলে আসে, তাহলে তাদের চাকুরি করার দরকার নেই। প্রাইভেট প্র্যাকটিসের প্রতি আগ্রহী চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, তারা চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় বসে প্র্যাকটিস করলে অনেক টাকা পাবে। এক্ষেত্রে তারা চাকুরি ছেড়ে দিলে সরকার নতুন নিয়োগ দেবে, যারা তৃণমূলে কাজ করবে, মানুষের সেবা করবে।
সরকারি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উপজেলা পর্যায়ে কাজ করতে না চাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি চাকুরি যেমন সোনার হরিণ। তেমনি এই চাকুরি হারানোও কঠিন। তাই একবার নিয়োগ পেলে, সহজে হাতছাড়া হওয়ার সুযোগ নেই-এমন ধারণা অনেকের মাঝেই। এই ধারণা থেকেই হয়তো সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের পরই পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য শুরু হয় তদবির। এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন চিকিৎসকরা। নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকেই তারা তদবির করেন রাজধানীতে অথবা জেলা সদরে থাকার। 
সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারাবদ্ধ। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্রের দায়- তার নাগরিকদের এই মৌলিক অধিকারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। এজন্য সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলায় নির্মাণ করেছে হাসপাতাল। এমনকি এখন ইউনিয়ন পর্যায়েও নির্মিত হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। এই হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের জন্য সরকারের বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগেও বিধান রয়েছে এবং যথাযথভাবে প্রতিটি হাসপাতাল এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে জনবল নিয়োগও দেয়া হচ্ছে। অথচ অভিযোগ চিকিৎসকরা কেউ তৃণমূলে থাকতে চান না। তারা নিয়োগের পর থেকেই তদবির শুরু করেন রাজধানীতে আসার অথবা বড় জেলা শহরে থাকার। চিকিৎসকদের এলাকায় না থাকার বিষয়ে অতীতে বহুবার স্থানীয় সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন। সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও চিকিৎসকদের এলাকায় থাকার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু অসাড়ের তর্জন গর্জনই এক্ষেত্রে সার হয়েছে। লাখ লাখ টাকা মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম পড়ে থেকেছে অবহেলায়। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতাল পড়ে রয়েছে অযতেœ, অবহেলায়। চিকিৎসা না পেয়ে, চিকিৎসক না থাকায় মানুষকে হাসপাতাল থেকে ফিরে আসতে হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে সরকারের হুঁশিয়ারিতেও কাজ হয়নি। 
আমরা মনে করি, তৃণমূলে যেন সরকারি কর্মকর্তারা থাকেন সেজন্য চিকিৎসকসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার উপজেলা পর্যায়ে আবাসন সমস্যা নিরসনসহ অন্যান্য অসুবিধা দূর করার উদ্যোগ যেমন নিতে হবে তেমনিভাবে চিকিৎসকদেরও তৃণমূলে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সরকারি চাকুরির বিধান অনুযায়ী সরকার জনস্বার্থে যেভাবে নিয়োগ দেবে, সেখানেই কাজ করতে হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত না মেলে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে মানুষকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রাখার মানসিকতাও এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরিহার করতে হবে। অন্যথায় সরকারের পক্ষে মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়া অসম্ভব হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









পরিবেশ দূষণ রোধে পদক্ষেপ নিন

পরিবেশ দূষণ রোধে পদক্ষেপ নিন

০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৫



বাল্য বিয়ে রোধে সচেতনতা জরুরী

বাল্য বিয়ে রোধে সচেতনতা জরুরী

০১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০


ব্রেকিং নিউজ











শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৪৯